শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
শনিবার, জুন ২০, ২০২৬
29.5 C
Dhaka
Homeজেলার খবরফটিকছড়িতে সিলগালা করা সেই ক্লিনিক আবারো চালুঃ জনমনে নানা প্রশ্ন

ফটিকছড়িতে সিলগালা করা সেই ক্লিনিক আবারো চালুঃ জনমনে নানা প্রশ্ন

প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ৮:০০

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা সদরে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধ করে সিলগালা করা ‘সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাব ইন’ তিন বছর পর আবারও কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে পুনরায় উদ্বোধনের পর প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স, অনুমোদন ও অতীতের বিতর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।আগে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনায় ছিলো আ'লীগ নেতা আর এখন পরিচালনায় ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতা।

শুক্রবার (১৯ জুন) জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ক্লিনিকটির পুনঃউদ্বোধন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ঋভুরাজ চক্রবর্তী। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহম্মদ রশিদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার দত্ত। স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তবে অনুষ্ঠানের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত আমন্ত্রণপত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর, উদ্বোধক হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তৌহিদুল আলমের নাম উল্লেখ করা হয়।
কিন্তু অনুষ্ঠানে তাঁদের কাউকেই দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সেবা ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাব ইন ২০২৩ সালের জুলাইয়ে আলোচনায় আসে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায়। ওই বছরের ৪ জুলাই উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার জান্নাতুল মাওয়া রনি (২২) সিজারিয়ান অপারেশনের সময় মারা যান।

স্বজনদের অভিযোগ ছিলো, ভুল চিকিৎসা ও অ্যানেসথেশিয়ার অতিরিক্ত ডোজ প্রয়োগের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনার পর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্লিনিকটিতে হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর চালান। পরে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ অভিযানে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বৈধ লাইসেন্স না পাওয়ার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেন এবং ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধ করে সিলগালা করা হয়।

প্রায় তিন বছর পর প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, যেসব অভিযোগ ও অনিয়মের কারণে ক্লিনিকটি বন্ধ হয়েছিল, সেগুলোর সমাধান হয়েছে কি না। পাশাপাশি নতুন করে লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ফটিকছড়ি সদরের বাসিন্দা নেজাম উদ্দিন বলেন, “একটি প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনার পর যে প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছিল, সেটি আবার চালু হওয়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি থাকা উচিত নয়।”

আরেক বাসিন্দা মো. আলাউদ্দিন বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি যদি সব নিয়ম মেনে চালু হয়ে থাকে, তাহলে সেটি স্পষ্ট করা দরকার। না হলে মানুষের মধ্যে সন্দেহ থেকেই যাবে।”

তবে প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার দত্ত দাবি করেন, সব ধরনের নিয়মকানুন অনুসরণ করেই প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরই আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি। কিছু অতিথি ব্যক্তিগত কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. তৌহিদুল আলম বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “বর্তমানে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে আবার কার্যক্রম শুরু করল, তা এখন ফটিকছড়ির মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, স্বাস্থ্যসেবার মতো স্পর্শকাতর খাতে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স, অনুমোদন, জনবল ও সেবার মান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর