মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১, ২০২৬
মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১, ২০২৬
29 C
Dhaka
Homeজীবনযাপনবিকেলের পর কফি পান করা কি কি ঘুমের সমস্যা হয়, চিকিৎসকের সতর্কবার্তা

বিকেলের পর কফি পান করা কি কি ঘুমের সমস্যা হয়, চিকিৎসকের সতর্কবার্তা

আপডেট: মার্চ ৩১, ২০২৬ ৭:৪১
প্রকাশ: মার্চ ২৯, ২০২৬ ৮:৩৪

সকালের শুরুটা অনেকের কাছেই এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফি ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। কিন্তু দিনের শেষে, ক্লান্তি কাটাতে আরেক কাপ কফি খাওয়ার অভ্যাসটাই নাকি সবচেয়ে বড় সমস্যা।

বিকেলের পর কফি খেলে শুধু ঘুম কম হয় না ঘুমের মানও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে পুরো রাত ঘুমিয়েও সকালে উঠে ক্লান্ত লাগতে পারে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা এই বিষয়ে কথা বলেছেন।

  • কেন বিকেলের কফি সমস্যার কারণ

অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ও পেইন ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ ডা. কুনাল সুদ ব্যাখ্যা করেছেন, কফিতে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে ভুল সময়ে ‘অ্যালার্ট মোডে’ নিয়ে যায়। ফলে শরীর যখন বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার কথা, তখনই তা উল্টোভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

তিনি আরও বলেন, ক্যাফেইন আমাদের শরীরে থাকা অ্যাডেনোসিন নামের এক রাসায়নিকের কাজ আটকে দেয়। এই অ্যাডেনোসিনই মস্তিষ্ককে জানায়—“এবার ঘুমানোর সময় হয়েছে।” কিন্তু ক্যাফেইন সেটাকে ব্লক করে দেয়। যার কারণে,
ঘুম আসতে দেরি হয়। আমাদের মস্তিষ্ক বুঝতেই পারে না কখন বিশ্রাম নেয়া দরকার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এক কাপ কফির প্রভাব ৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে থাকতে পারে!

  • গভীর ঘুম কমে যায়

আমাদের ঘুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘ডিপ স্লিপ’ বা গভীর ঘুম। এই সময়েই শরীর ও মস্তিষ্ক পুরোপুরি রিকভার করে। ক্যাফেইন গভীর ঘুম কমিয়ে দেয়। আর হালকা ঘুমের সময় বাড়িয়ে দেয়। ফলে পুরো রাত ঘুমালেও ঘুমটা তেমন রিফ্রেশিং লাগে না।

  • মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়

কফি শরীরকে এক ধরনের ‘ফাইট-অর-ফ্লাইট’ অবস্থায় রাখে। এর ফলে:——

  • রাতে বারবার ঘুম ভাঙতে পারে
  • ঘুম ভেঙে আবার ঘুমাতে সমস্যা হয়
  • এটাকে বলা হয় ‘ফ্র্যাগমেন্টেড স্লিপ’ মানে টুকরো টুকরো ঘুম।
  • স্ট্রেস হরমোন বাড়ায়

ক্যাফেইন শরীরে কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) বাড়িয়ে দেয়। এই হরমোন:——

  • শরীরকে সতর্ক রাখে
  • ঘুমের প্রক্রিয়া ব্যাহত করে বিশেষ করে রাতে কর্টিসল বেড়ে গেলে ঘুমের সমস্যা আরও বাড়ে।
  • পরের দিনও ক্লান্ত লাগবে

সবচেয়ে বড় সমস্যা এখানেই। আপনি হয়তো ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমালেন, তবুও সকালে উঠে মনে হবে:

  • শরীর ভারী
  • মনোযোগ কম
  • আবার কফি খাওয়ার প্রয়োজন
  • এভাবে এক ধরনের ‘ক্যাফেইন নির্ভরতা’ তৈরি হয়।

সমাধান:——-

  • দুপুর ২–৩টার পর কফি এড়িয়ে চলুন
  • সন্ধ্যার পর হার্বাল টি বা ডিক্যাফ কফি বেছে নিন
  • নিয়মিত ঘুমের সময় ঠিক রাখুন

কফি আমাদের জীবনের একটি প্রিয় অভ্যাস কিন্তু সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিকেলের পর কফি খাওয়ার ছোট্ট অভ্যাসই আপনার ঘুম, মনোযোগ এবং পরের দিনের শক্তি সবকিছুতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যদি ভালো ঘুম আর সতেজ সকাল চান, আজ থেকেই কফির সময়টা একটু এগিয়ে আনুন।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর