চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের জন্য সহজে তৈরি স্বাস্থ্যকর নাশতার জন্য অন্যতম এই ওটস। বিভিন্নভাবে খাওয়া যায় ওটস। কেউ দুধ, দই, কলা, ফল ও বাদামসহ নানা কিছু মিশিয়ে খেয়ে থাকেন। দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকায় ক্ষুধা নিবারণ করে শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে।
ফাইবার, ভিটামিন ও জটিল শর্করা রয়েছে। কিন্তু এই স্বাস্থ্যকর খাবারটি খাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা মত রয়েছে। কারও মতে, সারারাত ভিজিয়ে ওটস খাওয়া ভালো, আবার কারও মতে ৩০-৪০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে খাওয়া উচিত। কেউ কেউ বলেন, রান্না করা ওটসই সেরা। প্রশ্ন হচ্ছে, কোনটি ভালো উপায়?
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডা. শুভম বাৎস্যা জানিয়েছেন, সকালে নাশতা হিসেবে খাওয়ার জন্য সারারাত ভিজিয়ে রাখা ওটস খাওয়া ভালো। ৩০ দিনই রাতে ভিজিয়ে রাখা ওটস খাওয়া হলে কী ঘটবে, তাও জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, এক মাস এভাবে ওটস খাওয়া হলে হজশক্তিতে অনেক পরিবর্তন আসবে। জাঙ্কফুড খাওয়ার ইচ্ছা কমবে। ওটসে বিদ্যমান জটিল শর্করা, ফাইবার ক্রমশ শক্তি সরবরাহ করবে। এতে দীর্ঘক্ষণ সক্রিয় ও সতেজ থাকা যাবে।
রান্না করা নাকি ভেজানো ওটস:
ডা. শুভম জানিয়েছেন, পুষ্টির দিক থেকে দুধ বা দইয়ে ভেজানো ওটস বেশি স্বাস্থ্যকর। ভিজিয়ে রাখার ফলে এটি নরম হয়, যা হজমে উপযোগী। ওটসে থাকা ফাইটিক অ্যাসিডের পরিমাণ কমে যায়। যা শরীরে খনিজ শোষণে সহায়তা করে।
সারারাত ভিজিয়ে রাখা ওটসে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকে, যা অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্যে রূপ নেয়। যা হজম শক্তি বৃদ্ধি করে, কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে, পেট পরিষ্কার রাখে। আবার ভেজানো ওটসে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ থাকে, যা আপনার অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ফাইবার উপকারী হওয়ায় তা পরিপূর্ণ পাওয়ার জন্য দিনভর প্রচুর পরিমাণ পান করা প্রয়োজন।
রাতভর ভিজিয়ে রাখা ওটস খাওয়ার উপায়:
সারারাত দুধ বা দইয়ে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে তাজা ফল আমন্ড, আখরোট, চিয়া, ফ্ল্যাক্স সিড ও দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে নিন। তারপর চিনি, ফ্লেভারড সিরাপ, চকোলেট স্প্রেড বা অতিরিক্ত ড্রাই ফ্রুটস মিশিয়ে নিন। সঠিকভাবে ওটস খাওয়া হলে তা হজম, ওজন ও রক্তে শর্করার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে থাকে।


