ডিমের নানা পদ খাওয়া হলেও সম্প্রতি বাজারে গাঢ় কমলা বা লালচে কুসুমের ডিম বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। এ ডিমকে সাধারণ ডিমের তুলনায় বেশি পুষ্টিকর দাবি করা হচ্ছে। যা ‘প্যারাগন ডিম’ নামেও বাজারজাত করা হচ্ছে। ফলে ডিম পছন্দ করেন এমন মানুষজন সেই প্যারাগন ডিমের দিকে ঝুঁকছেন।
প্যারাগন ডিম বাজারজাত হওয়ায় ভোক্তাদের মধ্যে বিশেষ পুষ্টিগুণের ধারণা তৈরি হচ্ছে। এই ডিম নাকি সাধারণ ডিমের তুলনায় বেশি উপকারী। এখন প্রশ্ন হলো―কুসুমের রং বা বিশেষ কোনো বাণিজ্যিক নাম কি সত্যিই ডিমের পুষ্টিমান বাড়ায়? চ্যানেল 24 অনলাইনকে রাজধানীর ওয়ারীর ড্রীম ফার্টিলিটি কেয়ার এবং হেমায়েতপুর সেন্ট্রাল হসপিটালের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা জানান, শুধু কুসুমের রং কোনো ডিমের সামগ্রিক পুষ্টিমান নির্ধারণ করতে পারে না।
তিনি জানান―কুসুমের হলুদ, কমলা বা অপেক্ষাকৃত গাঢ় রঙের পেছনে প্রধান ভূমিকা থাকে মুরগির ফিডে। ফিড তথা খাদ্যে ভুট্টা, সবুজ শাকপাতা বা বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েড-সমৃদ্ধ উপাদান সংযুক্ত থাকলে কুসুমের রং তুলনামূলক গাঢ় হতে পারে। ফলে গাঢ় কুসুম দেখেই সেটিকে বেশি প্রোটিনসমৃদ্ধ, ভিটামিন বা খনিজসমৃদ্ধ বলা বৈজ্ঞানিকভাবে কখনোই যথেষ্ট নয়।
মুরগির খাদ্য ডিমের পুষ্টিমান নির্ধারণে কিছুটা প্রভাব ফেলে বলেও জানান পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা। তিনি বলেন―
নির্দিষ্ট কোনো পুষ্টি উপাদান দিয়ে মুরগির খাদ্য বা ফিডকে সমৃদ্ধ করা হলে, মুরগির ডিমে কিছু উপাদানের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব। যেমন- মুরগির খাদ্যে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে ডিমে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বা নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিনের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে শুধু কুসুমের রং দেখে নয়, ডিমের পুষ্টি-সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য বা লেবেলিং সংযুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
এ পুষ্টিবিদ বলেন, ‘প্যারাগন’ বা অন্য কোনো বিশেষ নামের ডিমের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য ধরা হয়। একটি ডিমের ব্র্যান্ড বা বাজারজাতকরণের নাম নিজে থেকে সেটিকে সাধারণ ডিমের থেকে কখনো বেশি পুষ্টিকর প্রমাণ করে না। কোনো নির্দিষ্ট ব্রান্ড বা নামের ডিমে অতিরিক্ত পুষ্টিগুণ রয়েছে কি না; তা নির্ধারণ করতে হলে উৎপাদন পদ্ধতি, মুরগির খাদ্যের উপাদান, কোন পরিবেশে লালিত হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে পুষ্টিমান পরীক্ষা করে তথ্য দেখতে হবে।
এ ক্ষেত্রে সাধারণ ডিমকেও কম পুষ্টিকর মনে করার কোনো কারণ নেই। একটি ডিমে উচ্চমানের প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন বি১২, রিবোফ্লাভিন, সেলেনিয়াম, আয়রন, জিংক, ভিটামিন ডি এবং কোলিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে। বিশেষ করে কুসুমে থাকে ডিমের প্রয়োজনীয় কিছু ভিটামিন, খনিজ ও কোলিন থাকে বলেও জানান ইসরাত জাহান প্রিয়ানা।
পুষ্টিবিদ হিসেবে ভোক্তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো- শুধু কুসুমের রং দেখে ডিমের পুষ্টিমান বিচার না করে সার্বিক বিষয় বিবেচনায় আনা জরুরি। গাঢ় কুসুম দেখতে আকর্ষণীয় হতে পারে, কিন্তু রং গাঢ় হওয়া মানেই ডিমটি বেশি পুষ্টিকর; এমন সিদ্ধান্তে নেয়া ঠিক নয়।
সবশেষ পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা বলেন, ডিম কেনার পর সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং ভালোভাবে রান্না করে খাওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ভালোমতো সেদ্ধ করে খাওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, ডিমের কুসুমের রং পুষ্টিমানের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য মাপকাঠি নয়। পুষ্টিকর খাবার হিসেবে সাধারণ ডিমেরও যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। তবে ডিমের লেবেলিং, উৎপাদন পদ্ধতি, সাইজ দেখে পুষ্টিমানের তারতম্য বিবেচনা করা উচিত।


