আজ রোববার (৩১ মে) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অসঙ্গতি পাওয়ায় এই জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম। অভিযানে তার সঙ্গে সিটি করপোরেশনের সহকারী পরিচালক, আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘ সময় ধরে পরিদর্শন করার পর কিছু অনিয়ম ধরা পড়ে। এর ফলে নিরাপদ খাদ্য আইনের আওতায় দুই লাখ টাকা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় এক লাখ টাকা অর্থাৎ মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, ব্লাড ব্যাংক ছাড়া হাসপাতালের অন্য কোনো ওয়ার্ডের রেফ্রিজারেটরে মিটার পাওয়া যায়নি। শুধু চেম্বারগুলোতে মিটার ছিল।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, হাসপাতালের কিছু জায়গায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। একটি জায়গায় বিস্কুট বা খাবার জাতীয় পণ্যের লেবেলিং খারাপ ছিল এবং জায়গাটি নোংরা ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এই ত্রুটিগুলো দ্রুত সংশোধন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালককেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। এই ত্রুটিগুলো অতি অল্প সময়ের মধ্যে সংশোধন না করলে পুনরায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি করতে না পারার কারণ হিসেবে জনবল ঘাটতির কথা জানিয়েছে।
হাসপাতালের উপরে অপরিচ্ছন্ন বেকারি থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, আমরা বেকারিটি বন্ধ পেয়েছি। হাসপাতালের ভবন থেকেই আমরা বেকারির ভিতরে প্রবেশ করেছি। একই ভবনে আমরা এটি দেখতে পেয়েছি।
গণমাধ্যমে ওই অপরিচ্ছন্ন বেকারিটি হাসপাতালের ওপরে থাকার কথা প্রকাশের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেন, এই বেকারিটি হাসপাতালের ভবনে নয় পাশের ভবনে অবস্থিত। এদিকে সম্প্রতি আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দেশব্যাপী গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। ওই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।


