মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬
মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬
29 C
Dhaka
Homeআইন আদালতআইনের ব্যত্যয় হলে ডিএমপি ব্যবস্থা নেবে: ডিবি প্রধান

আইনের ব্যত্যয় হলে ডিএমপি ব্যবস্থা নেবে: ডিবি প্রধান

প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ৬:৩৬

মাদকবিরোধী অভিযানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

রোববার (১৮ অক্টোবর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তদন্তে আইন লঙ্ঘন বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের হাতে অস্ত্র দেখা যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের কথা জানানো হলো।

মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। এ ক্ষেত্রে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে মোটরসাইকেলের লক ভেঙে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে চুরি করা একটি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং নয়টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নিয়ে পুলিশের অবস্থান তুলে ধরেন ডিবি প্রধান।

এর আগে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অভিযানের সময় তার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে চিৎকার করে ‘এই ধর ধর ধর’ বলতে শোনা যায়। এ সময় তার হাতে একটি অস্ত্র দেখা যায়।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিজেও তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে ভিডিওটি শেয়ার করেন। একই দিন বিকেল ৫টার দিকে শেয়ার করা ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’। পরে অবশ্য ভিডিওটি তার ফেসবুক আইডি থেকে মুছে ফেলা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এ পরিস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, অস্ত্র নিয়ে তিনি কাউকে ভয় দেখাননি এবং গুলিও করেননি। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্যের জবাবেও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন ইশরাক হোসেন। তার দাবি, অভিযানে তার হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের সংসদীয় এলাকার মাদক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ ও ঘণ্টিঘর এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালিত হওয়ার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার তার কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। বিষয়টি তিনি পুলিশকে অবহিত করলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণেই বাধ্য হয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিতে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর