মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর আলটিমেটামের প্রেক্ষাপটে এই সমঝোতা হয়, যার আওতায় গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে জাহাজ চলাচলের ওপর টোল আদায়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে ইরান ও ওমানকে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির বরাত দিয়ে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথে অবস্থিত এই কৌশলগত প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এতদিন আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে বিবেচিত এই প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল আরোপের নজির ছিল না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, প্রাপ্ত অর্থ ইরান তাদের পুনর্গঠন কার্যক্রমে ব্যয় করার পরিকল্পনা করছে। তবে ওমান এই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি ভৌগোলিকভাবে উভয় দেশের জলসীমার মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে বাংলাদেশ সময় বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, ইরানের ওপর পরিকল্পিত ‘বিধ্বংসী হামলা’ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হবে। এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আগামী শুক্রবার রাজধানী ইসলামাবাদে উভয় পক্ষকে সরাসরি আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়। এই শর্ত পূরণ হলেই দুই সপ্তাহের ‘উভয়মুখী যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর থাকবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, শাহবাজ শরিফ এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিশেষ অনুরোধেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দেয়া শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রস্তাব এবং ইরানের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ১০ দফা পরিকল্পনা এই সমঝোতার ভিত্তি তৈরি করেছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে, শাহবাজ শরিফ বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এতে লেবাননসহ অন্যান্য অঞ্চলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় তিনি এই উদ্যোগকে ‘বিচক্ষণ পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, উভয় পক্ষই অসাধারণ দূরদর্শিতা প্রদর্শন করেছে এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।


