জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক তথ্যদাতা সংস্থা এলএসইজি ও কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন অবরোধের মধ্যেও পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচলের একটি বৈচিত্র্যময় চিত্র ফুটে উঠেছে। বর্তমানে পানামার পতাকাবাহী মাঝারি পাল্লার ট্যাংকার ‘পিস গালফ’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়া বন্দরের দিকে যাচ্ছে, যা মূলত এশিয়ায় রপ্তানির জন্য পেট্রোকেমিক্যাল কাঁচামাল বহন করছে।
অন্যদিকে, পূর্বে এমকেএ নামে পরিচিত হ্যান্ডি ট্যাংকার ‘মুরলিকিশান’ বর্তমানে ইরাকের দিকে অগ্রসর হচ্ছে; এই জাহাজটির আগে রাশিয়া ও ইরানের তেল পরিবহণের রেকর্ড রয়েছে।
এছাড়া, চীনা মালিকানাধীন ট্যাংকার ‘রিচ স্টারি’ প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল মিথানল নিয়ে অবরোধ শুরুর পর প্রথম জাহাজ হিসেবে উপসাগর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। যেহেতু এই জাহাজগুলো সরাসরি ইরানের কোনো বন্দরের দিকে যাচ্ছিল না, তাই প্রাথমিক পর্যায়ে এগুলোকে মার্কিন অবরোধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ হলো হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়া। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই পরিস্থিতি সবকিছুকে আরও জটিল করে তুলেছে। উপসাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এখন যাতায়াতের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষের কাছ থেকেই অনুমতি নিতে হচ্ছে। যদি মার্কিন বাহিনী ইরানি তেলবাহী জাহাজ আটকে দেয়, তবে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান পুরো প্রণালিটি পুনরায় বন্ধ করে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের মতে, এই অবরোধ কেবল উত্তেজনা বাড়াবে ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে দুর্বল করে দেবে।
উল্লেখ্য, চীন তাদের চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে ও ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতাও তারা।
মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা থাকলেও আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সামনে এখনও চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে।
মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানও জানিয়েছে, তারা শান্তি আলোচনার নতুন পর্ব আয়োজনে সবসময় প্রস্তুত ও সব পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।


