মঙ্গলবার (৫ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই ফলাফল জনগণের প্রকৃত রায়ের প্রতিফলন নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘ষড়যন্ত্রের’ ফল। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
বিজেপির তীব্র সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্রীয় শক্তি ব্যবহার করে ‘জোরপূর্বক’ পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন দখল করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না, আমরা জনগণের রায়ে নয়, বরং ষড়যন্ত্রের কারণে পরাজিত হয়েছি’। মমতা দাবি করেন, এবারের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি ও বিজেপির অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে তাঁর দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মমতা জানান, তাঁর দলের লড়াই শুধু বিজেপির সঙ্গেই নয়, বরং ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এখন সরাসরি সরকারের পক্ষ নিয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক’। টিএমসি এই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করবে ও কমিশনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, তবে কৌশলী কারণে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো এখনই প্রকাশ করতে চাননি।
নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে টিএমসি সভাপতি বলেন, দলের অনেক কর্মী ভীতি ও হুমকির মুখে নিরাপত্তার তাগিদে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘যদি বিজেপিতে যোগ দিলে কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, তবে তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই’। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে আশ্বাস দেন, তৃণমূল কংগ্রেস আবারও বাঘের মতো লড়ে শক্তিশালীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।
সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইন্ডিয়া ব্লকের নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব ও তেজস্বী যাদবসহ বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা তাঁকে ফোন করে সমর্থন জানিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব আগামীকাল তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানান মমতা। পরাজয়ের পর নিজেকে আরও ‘মুক্ত’ দাবি করে তিনি বলেন, আগামী দিনে বিরোধী জোটের নেতাদের নিয়ে তিনি তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণ করবেন।


