সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
30 C
Dhaka
Homeআন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সাম্প্রদায়িক সংঘাত প্রতিরোধে সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন...

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সাম্প্রদায়িক সংঘাত প্রতিরোধে সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারীর

প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৮:৩৭
সাম্প্রদায়িক সংঘাত প্রতিরোধ এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও নৈতিক শিক্ষার ওপর অধিক গুরুত্বারোপের আহ্বান জানিয়েছেন ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের সাজ্জাদানশীন ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারী।
২৯ আগস্ট শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক আন্তঃধর্মীয় সম্মেলন “One World: One Humanity”-এ প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
World Council of Religious Leaders (WCORL) আয়োজিত এ সম্মেলনে বিভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্যের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে নৈতিক নেতৃত্ব, বিভাজন দূরীকরণ এবং মানবতার কল্যাণে সম্মিলিত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, “সাম্প্রদায়িক সংঘাতের পেছনে প্রায়ই ভুল বোঝাবুঝি, অসহিষ্ণুতা, বিদ্বেষপূর্ণ পূর্বধারণা, ভুল তথ্য এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে অর্থবহ যোগাযোগের অভাব কাজ করে।”
তিনি বলেন, “ধর্মীয় বিশ্বাস, আদর্শ ও ঐতিহ্যের ভিন্নতা যেন কখনোই ঘৃণা বা বৈরিতার কারণ হয়ে না দাঁড়ায়।
আমরা একে অপরের সঙ্গে মতভিন্নতা পোষণ করতে পারি, কিন্তু মতভিন্নতা কখনোই পারস্পরিক ঘৃণাতে  পরিণত হওয়া উচিত নয়। আমরা নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসে দৃঢ় থাকতে পারি, একইসঙ্গে অন্য একজনের নিজ ধর্ম পালনের অধিকারকেও সম্মান করতে পারি।”
ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের মানুষের মধ্যে নিয়মিত ও অর্থবহ সংলাপ আয়োজনের জন্য ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “সংকট দেখা দেওয়ার পরই কেবল সংলাপ নয়, শান্তিপূর্ণ সময়েও এ ধরনের যোগাযোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। সংঘাত সৃষ্টি হওয়ার আগেই পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা হলে ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেওয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব। নেতৃবৃন্দের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে, কারণ তাঁদের বক্তব্য বিভাজন নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে, আবার বিভাজনকে আরও গভীরও করতে পারে।”
তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে তাঁদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীল যোগাযোগকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।
তিনি অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতি সহনশীলতা ও শ্রদ্ধাবোধের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাসের জন্য প্রতিটি ধর্মীয় বা আদর্শিক বিষয়ে একমত হওয়া জরুরি নয়। আমরা মর্যাদার সঙ্গে মতভিন্নতা পোষণ করতে পারি, শ্রদ্ধার সঙ্গে কথা বলতে পারি, আন্তরিকতার সঙ্গে অন্যের কথা শুনতে পারি এবং সহনশীলতার সঙ্গে একসঙ্গে বসবাস করতে পারি।”
ভিন্নতা সত্ত্বেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখাকে বৃহত্তর সংঘাত প্রতিরোধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নৈতিক শিক্ষা ও আত্মশুদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ
বক্তব্যের আরেক অংশে ড. মাইজভাণ্ডারী শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে নৈতিক ও চারিত্রিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “শিক্ষা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; বরং এর মাধ্যমে চরিত্র গঠন, শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা, ধৈর্য, দায়িত্ববোধ এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধও গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি চরিত্র গঠন, নৈতিক আচরণ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, সংঘাত নিরসন, সহনশীলতা এবং আত্মশুদ্ধিবিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচি ও সেশনের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “সমাজকে পরিবর্তনের আহ্বান জানানোর আগে আমাদের নিজেদের পরিবর্তনের কথা ভাবতে হবে।”
রাগ নিয়ন্ত্রণ, অহংকার পরিহার, নিজের ভেতরের পূর্বধারণা ও পক্ষপাত সম্পর্কে আত্মসমালোচনা এবং আত্মশৃঙ্খলা গড়ে তোলার গুরুত্ব তিনি তুলে ধরেন।
তিনি আন্তঃধর্মীয় কর্মসূচি, যুব সংলাপ, সমাজসেবামূলক উদ্যোগ এবং শান্তি ও নৈতিকতাভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম আয়োজনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
তিনি ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে সংলাপ, মধ্যস্থতা ও সমঝোতার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যাতে মতপার্থক্য সহিংসতায় রূপ নেওয়ার আগেই তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়।
সম্মেলনের সমাপনী পর্বে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর প্রতি কেবল বক্তব্য বা ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অভিন্ন মূল্যবোধগুলোকে বাস্তব কর্মকাণ্ডে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সম্মেলনে WCRL-এর মহাসচিব বাওয়া জেইন সভাপতিত্ব করেন। সম্মেলনে উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে ছিলেন শায়খ আবুবকর নক্সবন্দী; ড. খলিফা মুবারক আলধাহেরি, মোহাম্মদ বিন জায়েদ ইউনিভার্সিটি ফর হিউম্যানিটিজের চ্যান্সেলর; জন কার্ডিনাল ওনাইয়েকান, নাইজেরিয়ার আবুজার আর্চবিশপ এমেরিটাস; ইমাম ড. তালিব এম. শরীফ, ওয়াশিংটন ডিসির মসজিদ মুহাম্মদ—দ্য নেশনস মস্কের প্রেসিডেন্ট; ফ্রেড স্টেলা, হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশনের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল সদস্য; এরভাদ কোবাদ জে. জারোলিয়া, জরথুস্ত্রীয় ধর্মযাজক; রেভারেন্ড ড. নিকোলাস কাজারিয়ান, গ্রিক অর্থোডক্স আর্চডায়োসিস অব আমেরিকার ইকুমেনিক্যাল কর্মকর্তা; এবং মার্গারেট কেম্পনার বুশ, গ্লোবাল কান্ট্রি অব ওয়ার্ল্ড পিস-এর প্রতিনিধি।
এসময় ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারীর সফরসঙ্গী ছিলেন, ওয়েস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটির
পিএইচডি গবেষক, আজমাইন আসরার মাইজভাণ্ডারী।
আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর