বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ব্রুকলিনের ডিস্ট্রিক্ট বিচারক নাতাশা সি মার্লে এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জাকিয়া খান ব্রুকলিনের কোনি আইল্যান্ড এলাকায় প্রবীণদের জন্য দুটি পুনর্বাসন কেন্দ্র (সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার) ও একটি হোম হেলথ কেয়ার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত জাকিয়া খানকে ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত দুটি স্থাবর সম্পত্তি, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ মোট ৫০ লাখ ডলার সমমূল্যের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে তিনি আদালতে স্বাস্থ্যসেবা খাতের জালিয়াতি চক্রান্ত, সরকারের সঙ্গে প্রতারণা ও ঘুষ লেনদেনের দায় স্বীকার করেছিলেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত সুদীর্ঘ সাত বছর ধরে এই বিপুল অঙ্কের প্রতারণা চালানো হয়। জাকিয়া খানের মালিকানাধীন দুটি ডে কেয়ার সেন্টার—‘হ্যাপি ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার’ ও ‘ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার’—এবং ‘রেসপনসিবল কেয়ার স্টাফিং’ নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই অপরাধ সংঘটিত হয়।
প্রতারণার কৌশলে দালালাদের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মেডিকেইড গ্রহীতাদের প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া হাজিরা খাতায় সই করিয়ে নেওয়া হতো। প্রকৃতপক্ষে কোনো সেবা না দিয়েই সরকারি স্বাস্থ্য বিমা কর্মসূচি ‘মেডিকেড’-এর কাছে পূর্ণ অর্থ দাবি করে ভুয়া বিল জমা দেওয়া হতো। এভাবে হ্যাপি ফ্যামিলি ও ফ্যামিলি সোশ্যাল ডে কেয়ার সেন্টার দুটি সরকারের কাছে ৬ কোটি ৪ লাখ ডলারের ভুয়া বিল জমা দিয়ে প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার তুলে নেয়।
মামলার রায় ঘোষণার পর ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের ভারপ্রাপ্ত ইউএস অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা জুনিয়র বলেন, এই রায় করদাতাদের অর্থ আত্মসাৎকারী যেকোনো দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে এক কঠোর সতর্কবার্তা।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই), ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস এবং নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) যৌথভাবে এই আর্থিক জালিয়াতির তদন্ত পরিচালনা করে।


