শুক্রবার, অক্টোবর ৯, ২০২৬
শুক্রবার, অক্টোবর ৯, ২০২৬
24 C
Dhaka
Homeআন্তর্জাতিকচাপ ও হুমকি না থাকলে শান্তি আলোচনা সফল হতে পারে : পেজেশকিয়ান

চাপ ও হুমকি না থাকলে শান্তি আলোচনা সফল হতে পারে : পেজেশকিয়ান

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৮:৪৫

মধ্যপ্রাচ্যে মাসের পর মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা থমকে যাওয়ার মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, চাপ এবং হুমকি না থাকলেই কেবল ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা সফল হতে পারে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সাত মাসব্যাপী সংঘাত বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এই গ্রীষ্মকাল থেকেই অচল হয়ে পড়ে রয়েছে।

জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয় যা সংঘাত সমাপ্তির একটি কাঠামো তুলে ধরেছিল, তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ইরানের হামলার কারণে মার্কিন সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনা কোনো বড় ধরনের সাফল্য আনতে ব্যর্থ হয়েছে।

তুর্কমেনিস্তানে কমনওয়েলথ অফ ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটস (সিআইএস)-এর শীর্ষ সম্মেলনে আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘সংলাপে অর্থ এবং সাফল্যের সুযোগ তখনই থাকে যখন তা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক অঙ্গীকারের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয় এবং যা চাপ ও হুমকি থেকে মুক্ত থাকে।’

মাসুদ পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ‘শক্তির ছায়ায় পরিচালিত আলোচনা আলোচনা নয়, এটি চাপিয়ে দেওয়া এবং জোরজবরদস্তি। ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আঞ্চলিক বাণিজ্য, যোগাযোগ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনাকে প্রভাবিত করবে।’

পেজেশকিয়ান গত সোমবারও বলেছিলেন যে, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অর্থহীন এবং এর ফলে কেবল নতুন করে হামলা হয়েছে। তিনি আরও বলেছিলেন, যে শত্রু প্রতিদিন হত্যাকাণ্ড, নিষেধাজ্ঞা, চাপ এবং হুমকির আশ্রয় নেয় এবং তার অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তার সঙ্গে আলোচনা অর্থহীন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটন সামরিক অভিযান কমিয়ে অর্থনৈতিক চাপের ওপর বেশি জোর দিয়েছে এবং সেপ্টেম্বরের ১ তারিখের পর থেকে ইরানে কোনো হামলা চালায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল বলেছে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে এই যুদ্ধ অপরিহার্য ছিল—যদিও তেহরান দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্য অস্বীকার করে আসছে।

এরপর থেকে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু স্থানান্তরিত হয়েছে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার দিকে, যা উপসাগরীয় তেল পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মূলত বন্ধ রয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চাইছে এবং তাদের অনুমতি ছাড়া চলাচলের চেষ্টা করা জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নিজস্ব পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে এবং যে জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে অবরোধ লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে সেগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর