সোমবার, মে ১৮, ২০২৬
সোমবার, মে ১৮, ২০২৬
28 C
Dhaka
Homeজাতীয়বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ, সাধারণ মানুষের জন্য ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’?

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ, সাধারণ মানুষের জন্য ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’?

প্রকাশ: মে ১৮, ২০২৬ ১০:০১

জ্বালানি তেল ও এলপি গ্যাসের দাম বাড়ার পর এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। ঘাটতি সমন্বয়ের কথা বলে বছরে দুইবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। আগামী ১ জুন থেকেই নতুন দাম কার্যকর করার আবেদনও করা হয়েছে। এরই মধ্যে গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে সর্বোচ্চ ৩২ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিতরণ সংস্থাগুলো। এসব আবেদনের ওপর বুধবার থেকে গণশুনানি করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির কথা জানিয়ে বিদ্যুতের পাইকারি দাম ২১ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে পিডিবি। সংস্থাটি চাইছে জুন মাস থেকেই এই নতুন দাম কার্যকর হোক। পাশাপাশি বছরে দুইবার দাম সমন্বয়ের ক্ষমতাও চেয়েছে তারা।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, ডলারের মূল্য বৃদ্ধি, তেল ও কয়লার দাম বাড়ার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প উপায় খুব সীমিত।

এদিকে বিতরণ সংস্থাগুলো গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় দাম সর্বোচ্চ ৩২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি পাইকারি পর্যায়ে বাড়তি দামও গ্রাহকের ওপর সমন্বয়ের আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া ডিমান্ড চার্জসহ বিভিন্ন ফি বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।

বিদ্যুতের দাম বাড়ার সম্ভাবনায় উদ্বেগে সাধারণ মানুষ। কাটছাঁট করতে হচ্ছে দৈনন্দিন বাজেটে। তারা বলছেন, নিত্যপণ্যের দাম আগেই অনেক বেড়েছে, কিন্তু আয় বাড়েনি। এর মধ্যে আবার বিদ্যুতের দাম বাড়লে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো সাধারণ মানুষের জন্য ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়াবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ কোনো বিলাসপণ্য নয়, এটি মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের সঙ্গে জড়িত। তাই শুধু গ্রাহকের ওপর চাপ না দিয়ে বিদ্যুৎ খাতের অপচয়, সিস্টেম লস ও অযৌক্তিক ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গে উৎপাদন ব্যয়, ভোক্তা কল্যাণ ও অর্থনীতির নানা বিষয় জড়িত। তাই সাশ্রয়ীভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি অপচয় ও সিস্টেম লস কমাতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সব চাপ শুধু ভোক্তা ও উৎপাদকের ওপর চাপিয়ে দিলে হবে না।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বলেন, বিদ্যুতের যে ব্যয় দেখানো হচ্ছে তা যৌক্তিক নয়। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের প্রকৃত ব্যয় ৮ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়, অথচ ১২ টাকা দেখানো হচ্ছে। লুণ্ঠনমূলক ব্যয় ও অতিরিক্ত মুনাফা কমিয়ে যৌক্তিক ব্যয় নির্ধারণের করতে হবে।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এই প্রস্তাব নিয়ে বুধবার ও বৃহস্পতিবার গণশুনানি করবে বিইআরসি। তবে নতুন করে দাম বাড়ানো হলে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন ভোক্তারা। তাদের দাবি, দাম বাড়ানোর বদলে বিদ্যুৎ খাতের অযৌক্তিক ব্যয় ও অপচয় কমিয়ে ঘাটতি সমন্বয়ের উদ্যোগ নেয়া হোক।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর