কোষ্ঠকাঠিন্য হলেই অনেকের প্রথম ভরসা ইসবগুল। প্রাকৃতিক, ঘরোয়া আর সহজলভ্য এই তিন কারণে বছরের পর বছর ধরে ভারত-বাংলাদেশের ঘরে ঘরে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চিকিৎসকরাও অনেক সময় স্বল্পমেয়াদে ইসবগুল খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে পুষ্টিবিদরা এখন বলছেন, ভুলভাবে বা দীর্ঘদিন ইসবগুল খেলে উপকারের বদলে উল্টো ক্ষতি হতে পারে।
সম্প্রতি পুষ্টিবিদ দীপশিখা জৈন ইসবগুলের কিছু কম আলোচিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা তুলে ধরেছেন। তার মতে, আমরা সাধারণত ইসবগুলের উপকারিতা নিয়েই কথা বলি, কিন্তু এর ঝুঁকিগুলো প্রায় উপেক্ষিত থেকে যায়। তিনি জানান ইসবগুলে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। এই ফাইবার অনেকের জন্য উপকারী হলেও সব ধরনের হজমপ্রণালীর জন্য এটি উপযোগী নয়। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই গ্যাস, পেটফাঁপা বা হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ইসবগুল সমস্যা আরও বাড়াতে পারে।
দীপশিখা জৈন বলেন, যাদের শরীর অতিরিক্ত ফাইবার ঠিকমতো হজম করতে পারে না, তাদের ক্ষেত্রে ইসবগুল গ্যাস ও পেটফাঁপা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে ক্ষুদ্রান্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার অতিরিক্ত বৃদ্ধির থাকলে সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে। ক্ষুদ্রান্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার অতিরিক্ত বৃদ্ধি এমন একটি অবস্থা, যেখানে ক্ষুদ্রান্ত্রে অতিরিক্ত ব্যাকটেরিয়া জমে যায়। এতে ফাইবার হজম করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় ইসবগুল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমার বদলে পেটব্যথা, অস্বস্তি ও অতিরিক্ত গ্যাস তৈরি হতে পারে।
পুষ্টিবিদের মতে, প্রতিদিন ইসবগুল খেয়ে পেট পরিষ্কার করার অভ্যাস শরীরকে অলস করে দিতে পারে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ইসবগুল খেলে শরীর স্বাভাবিকভাবে মলত্যাগ করার ক্ষমতা হারাতে শুরু করে। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিন খেলে শরীর হয়ে যেতে পারে নির্ভরশীল
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা এসেছে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার নিয়ে। পুষ্টিবিদের মতে, প্রতিদিন ইসবগুল খেয়ে পেট পরিষ্কার করার অভ্যাস শরীরকে অলস করে দিতে পারে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ইসবগুল খেলে শরীর স্বাভাবিকভাবে মলত্যাগ করার ক্ষমতা হারাতে শুরু করে। তখন ইসবগুল ছাড়া পায়খানা করাই কঠিন হয়ে যায়। অর্থাৎ, ইসবগুলের ওপর নির্ভরতা তৈরি হলে অন্ত্রের স্বাভাবিক গতি কমে যায়, যা ভবিষ্যতে কোষ্ঠকাঠিন্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সতর্কতা
ইসবগুল পানি শোষণ করে ফুলে ওঠে। তাই পর্যাপ্ত পানি না খেলে এটি মল নরম করার বদলে আরও শক্ত করে ফেলতে পারে। দীপশিখা জৈন সতর্ক করে বলেন, ইসবগুল খেয়ে যদি পানি কম পান করেন, তাহলে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য আরও খারাপ করে দিতে পারে। মল শক্ত হয়ে যায় এবং সমস্যা বাড়ে।
পুষ্টিবিদের পরামর্শ ইসবগুল একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে অপ্রয়োজনে বা নিয়মিত এটি খাওয়া ঠিক নয়। প্রথমে খুব অল্প পরিমাণে শুরু করা উচিত। তিনি বলেন, আধা থেকে ১ চা-চামচ দিয়ে শুরু করুন। শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, সেটি দেখুন।
প্রাকৃতিক হলেই যে কোনও কিছু সম্পূর্ণ নিরাপদ এই ধারণা সব সময় ঠিক নয়। ইসবগুল উপকারী হতে পারে, কিন্তু ভুল ব্যবহার বা অতিরিক্ত নির্ভরতা হজমের সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই নিজে নিজে ফাইবার সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার বদলে স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
সূত্র: এনডিটিভি


