চা ও কফিতে থাকা ক্যাফেইন শরীরে দ্রুত উত্তেজনা তৈরি করে ঠিকই, কিন্তু খালি পেটে এটি পেটের ভেতরে অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে গ্যাস, অস্বস্তি, বুক জ্বালাপোড়া বা হজমের সমস্যার মতো বিষয়গুলো দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস চলতে থাকলে সমস্যাগুলো আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
এই কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শ, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথমেই এক গ্লাস পানি পান করা উচিত। এটি শরীরের জন্য একটি প্রাকৃতিক প্রস্তুতির মতো কাজ করে। রাতে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে যে পানিশূন্যতা তৈরি হয়, পানি তা পূরণ করতে সাহায্য করে।
পানি শুধু শরীরকে আর্দ্র রাখেই না, এটি হজম প্রক্রিয়াকেও সক্রিয় করে। সকালে পানি পান করলে অন্ত্রের কাজ স্বাভাবিক হয়, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে। একই সঙ্গে শরীর হালকা লাগে এবং দিন শুরু করতে এক ধরনের স্বস্তি পাওয়া যায়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, পানি পানের পর চা বা কফি খেলে এর নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা কমে যায়। কারণ তখন পেট সম্পূর্ণ খালি থাকে না, ফলে অ্যাসিডের মাত্রাও হঠাৎ করে বাড়ে না। এতে করে শরীরের ওপর চাপও কম পড়ে।
তবে এর মানে এই নয় যে চা বা কফি একেবারে বাদ দিতে হবে। বরং সঠিক সময় ও পদ্ধতিতে পান করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সকালে পানি পানের পর কিছুটা সময় নিয়ে চা বা কফি খেলে তা শরীরের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সকালে দিনের শুরুতে ছোট একটি পরিবর্তন—এক গ্লাস পানি পান—আপনার স্বাস্থ্যে বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রতিদিনের রুটিনে এই অভ্যাসটি যুক্ত করা যেতে পারে। এতে শরীর থাকবে সুস্থ, আর দিনটাও শুরু হবে আরও সতেজভাবে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


