বৃহস্পতিবার, মে ২৮, ২০২৬
বৃহস্পতিবার, মে ২৮, ২০২৬
29 C
Dhaka
Homeধর্মকোরবানি ও আকিকা একই পশু দিয়ে দেওয়া যাবে কিনা ?

কোরবানি ও আকিকা একই পশু দিয়ে দেওয়া যাবে কিনা ?

প্রকাশ: মে ২৭, ২০২৬ ৮:৪৩

কোরবানির ঈদের সময় অনেকেই নিজেদের সন্তানের আকিকার দায়িত্বটিও সেরে ফেলতে চান। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সামর্থ্য অনুযায়ী আলাদা পশু না কিনে একই পশুতে কি কোরবানি ও আকিকা দুটোই আদায় করা সম্ভব? ইসলামি শরীয়াহর বিধানে একই পশুতে শরিক হওয়ার সুযোগ আছে কি না এবং এটি কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়ই বিভ্রান্তি দেখা দেয়।

যদিও এ নিয়ে আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা রয়েছে ইসলামে। ইসলামের ভিন্ন ভিন্ন মাহজাবে রয়েছে আলাদা ব্যাখ্যা। যেমন কোনো মাজহাব বা মতবাদ অনুসারে কোরবানির সঙ্গে আকিকা করা জায়েজ নেই, আবার কোন কোন মাজহাব অনুযায়ী কোরবানির সঙ্গে আকিকা করা বৈধ। ইসলামী লেখক ও গবেষকরা বলছেন, ভিন্ন মাহজাবের অনুসারীরা এ নিয়ে আলাদা ব্যাখ্যা দিলেও ধর্মগ্রন্থ কোরআন কিংবা হাদিসের আলোকেই এ নিয়ে সিদ্ধান্তের সুযোগ আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মুহা আব্দুর রশীদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, যে সম্পদ থাকলে জাকাত ওয়াজিব হয়, সেই ধরনের সম্পদ যদি তার থাকে তাহলে তো তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে। আর যার নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলো, তিনি অবশ্যই কোরবানি দিবেন। অনেকেই নির্ধারিত সময় নানা কারণে আকিকা দিতে পারেন না। তাদের অনেকে কোরবানির ঈদের সময় একই পশু দিয়ে আকিকা দিতেও দেখা যায়। এটি নিয়ে দুই ধরনের বর্ণনাও রয়েছে।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কোরবানি ও আকিকা আলাদা ও ভিন্ন দুইটি ইবাদত। কিন্তু সন্তান জন্মের পর শুকরিয়াস্বরূপ যে পশু জবাই করা হয়। আর অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তির নিসাব বা নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব। অর্থাৎ আকিকা যেখানে সুন্নত বা বাধ্যতামূলক নয়, সেখানে কোরবানিকে ওয়াজিব বা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সামর্থ্যবানদের জন্য।

এ প্রসঙ্গে ইসলামি লেখক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ওয়াজিব হলো সেই ইবাদত যেটি পালন করা বাধ্যতামূলক। কোনো ব্যক্তি যদি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নির্দিষ্ট সম্পদের মালিক হন তাকে কোরবানি দিতে হবে। অন্যদিকে, সন্তান জন্মের পর শুকরিয়াসরূপ যে পশু জবাইকে বলা হয় সেটি আকিকা। আকিকা করা বাধ্যতামূলক নয়।

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, গৃহপালিত পশু দ্বারা কোরবানি করতে হয়। যেমন- ভেড়া, ছাগল, দুম্বা, গরু, মহিষ ও উট। এই ছয় প্রকার পশু দ্বারা কোরবানি করা যায়, এ ছাড়া অন্য কোনো পশু দ্বারা কোরবানি করা যায় না। এ ধরনের পশুকে কোরআনের ভাষায় বলা হয় বাহিমাতুল আনআম অর্থাৎ অহিংস্র গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু। আবার, অন্যদিকে আকিকার ক্ষেত্রে পশু হিসেবে ছাগল বা খাসিকে নির্ধারিত করা হয়েছে ইসলামে।

মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ বলছিলেন, হাদিস অনুসারে ছাগল বা খাসি দিয়েই আকিকা করতে হবে বা উত্তম। কিন্তু কোরবানিতে উট, গরু, দুম্বা মহিষ সব কিছুই কোরবানি দেওয়া যাবে।

ইসলামি গবেষকদের মতে, আকিকা ও কোরবানি একই ধরনের ইবাদত বা আমল। কোরবানির ক্ষেত্রে যে বিধান সেটি হবে আকিকার ক্ষেত্রেও একই নিময়। একইভাবে জবাই করতে হবে।

যারা নির্ধারিত সময়ে সন্তানের আকিকা করতে পারেননি বা সামর্থ্য না থাকার কারণে আকিকা করতে পারেননি তাদের ক্ষেত্রে একই পশু দিয়ে কোরবানি ও আকিকা সম্ভব কি-না এই প্রশ্নগুলোও সামনে আসছে। জবাবে ইসলামি গবেষকরা বলছেন, বিভিন্ন মাজহাব অনুযায়ী আলাদা আলাদা নিয়ম আছে। তবে কোরবানির পশুতে ভাগ হিসেবে আকিকাও দেওয়া যায়।

শরীফ মুহাম্মদ বলেন, হানাফি মাজহাব অনুযায়ী কোরবানির পশু দিয়ে আকিকা করা যায়। কিন্তু আহলে হাদিসের অনুসারীরা এটার বিরোধিতা করেন। তার মতে, কোরবানির পশুতে যেটাতে ভাগ দেওয়ার সুযোগ আছে সেখানে একটা ভাগ বা দুইটা ভাগ আকিকার জন্য দিতে পারে। এটা অনুমোদিত।

পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, কোরবানির দিন পশু জবাই করলে অন্তত প্রথম পশুটা কোরবানির হওয়া উত্তম। ধরেন একজন মানুষ কোরবানি করছেন না বা পারছেন না, কিন্তু তার সন্তানের আকিকাটা রয়ে গেছে। কিন্তু আপনি আকিকার পশুটা জবাই করলেন, কিন্তু কোরবানির কোনো পশু জবাই করলেন না। এটা তার জন্য উত্তম সিদ্ধান্ত না। যেমন- যদি কেউ গরুতে এক ভাগ কোরবানির জন্য দিলেন, আরেকটা ছাগল আলাদাভাবে আকিকা করলেন এটা উত্তম। আবার গরুর একভাগ আকিকা, আরেক একভাগ কোরবানিও দিতে পারেন তার সামর্থ্য অনুযায়ী।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর