রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬
রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬
28.9 C
Dhaka
Homeজেলার খবরফটিকছড়ির যুবককে পাশ্ববর্তী রাউজানে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ফটিকছড়ির যুবককে পাশ্ববর্তী রাউজানে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ১২:৪৪

রাউজান উপজেলায় রাশেদ (৪০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, তাকে ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, তিনি স্ট্রোকজনিত কারণে মারা যেতে পারেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের একটি বাড়ির উঠান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত রাশেদ ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা লাল মিয়া বাড়ির প্রয়াত বদরুদ্দোজার ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।

নিহতের চাচা আবদুল মাবুদ জানান, রাশেদ তার খালাতো বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি মাঝে-মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ করতেন।
তিনি বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে গভীর রাতে বাড়িতে পৌঁছালে তার খালাতো বোন দরজা খুলে দেননি। বিষয়টি তিনি আমাদেরও জানিয়েছিলেন। পরে সকালে জানতে পারি রাশেদের মরদেহ পাওয়া গেছে। রাতে তিনি বাইরে অবস্থান করছিলেন। তাই আমাদের ধারণা, ডাকাত সন্দেহে স্থানীয় কেউ তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

ফটিকছড়ি উপজেলার বাসিন্দা মোরশেদ আলম বলেন, স্ত্রী মারা যাওয়ার পর রাশেদ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। মাঝে-মধ্যে উল্টাপাল্টা কথা বলতেন। তিনি কখনো রংমিস্ত্রির হেলপার, আবার কখনো রাজমিস্ত্রির হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। তাকে রাউজানে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এদিকে উরকিরচর ইউনিয়নের স্থানীয় সমাজসেবক ও বীমাকর্মী আবুল কাশেম হিরু জানান, সকালে মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

এ বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “ফটিকছড়ির ওই ব্যক্তি রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উরকিরচরে তার খালাতো বোনের শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন। ওই বাড়িতে তার খালাতো বোন ও তার জা ছিলেন। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তারা দরজা খুলে দেননি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ঘরের সামনে সিঁড়ি ছিল। সেখানে পড়ে যাওয়ার কারণে মুখে আঘাত লাগে এবং রক্ত বের হয়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ ও নিহতের পরিবার।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর