মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ফটিকছড়ি থানায় মামলাটি করেন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ধুরুং এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইমাম হোসেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩২৪, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৬৫, ৩৪২, ৫০৬(২), ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন দাবি করেন, উপজেলা জামায়াতের আমির নাজিম উদ্দীন ইমুর নেতৃত্বে অভিযুক্তরা তাকে মারধর করেন, ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করেন এবং চোখ বেঁধে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে তাকে অপহরণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নাজিম উদ্দীন ইমু বলেন, বাদী দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করে আসছিলেন। এ নিয়ে কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষকে দলীয় কার্যালয়ে ডেকে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়। কাউকে অপহরণ, আটকে রাখা বা মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
অন্যান্য আসামিরাও অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, বাদী ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে তাদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। সর্বশেষ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন শিকদারের ফটিকছড়ি সফর ও একটি সামাজিক বৈঠক নিয়ে ফেসবুকে মানহানিকর মন্তব্য করায় ২০ জুলাই বাদীকে দলীয় কার্যালয়ে ডেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। পরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে মামলা করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
মামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জামায়াতের একাংশের কর্মী-সমর্থকরাও দাবি করেন, সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে। তাদের মতে, মামলার অভিযোগে বর্ণিত অপহরণ বা হত্যাচেষ্টার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান সূত্র।


