মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২৬
মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২৬
28.7 C
Dhaka
Homeজেলার খবরচুড়ান্ত পর্যায়ে 'ফটিকছড়ি উত্তর' উপজেলা গঠন প্রক্রিয়া

চুড়ান্ত পর্যায়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠন প্রক্রিয়া

প্রকাশ: জুন ২৯, ২০২৬ ৭:৫৮

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলাকে ভেঙে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়া এখন চুড়ান্ত পর্যায়ে। স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে মানুষের মধ্যে।প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর ১২১তম সভার আলোচ্যসূচিতে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব স্থান পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বেড়েছে প্রত্যাশা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিকার-১ শাখা থেকে জারি করা সভার নোটিশ অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই (বুধবার) সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১০০০ নম্বর কক্ষে নিকারের ১২১তম সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভার দ্বিতীয় আলোচ্যসূচিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের উত্থাপিত ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিকার সভায় প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

বর্তমানে ফটিকছড়ি উপজেলায় দুটি থানা, দুটি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন রয়েছে। প্রায় সাত লাখ মানুষের বসবাস এই উপজেলায়। আয়তন ও জনসংখ্যা দুই দিক থেকেই দেশের অন্যতম বৃহৎ এ উপজেলায় একক প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেবা কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

স্থানীয়দের আশা, নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হলে এই ভোগান্তি অনেকটাই কমবে এবং সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।

তবে নতুন উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়া যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে সীমানা নির্ধারণ নিয়ে কিছু প্রশ্ন। বৃহত্তর সুয়াবিল ইউনিয়ন এবং নাজিরহাট পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড নতুন উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

এর আগে বৃহত্তর সুয়াবিল অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম এই এলাকাকে নতুন উপজেলার প্রস্তাব থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি কর্মসূচি পালন করে।

সংগঠনটির দাবি, এসব এলাকা অন্তর্ভুক্ত হলে ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।নতুন উপজেলার সদর দপ্তর কোথায় হবে, সেটিও এখন আলোচনার বিষয়।

এক পক্ষের দাবি, সুয়াবিল ও নাজিরহাট পৌরসভাকে যুক্ত করে ভূজপুর এলাকায় সদর দপ্তর স্থাপন করা হোক। অন্য পক্ষ সদর দপ্তর আরও উত্তরে নারায়ণহাট ইউনিয়নের জুজখোলা মৌজায় স্থাপনের পক্ষে।

তবে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, সব ইউনিয়নের মানুষের জন্য যাতায়াত সুবিধাজনক এমন কেন্দ্রীয় স্থানই হওয়া উচিত নতুন উপজেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র। এ নিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক গণশুনানিও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা প্রতিষ্ঠার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, পেশাজীবী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।

মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান থেকে শুরু করে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আবেদন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

নিকারের আলোচ্যসূচিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে সেই দীর্ঘ আন্দোলনের সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে নিকারের ১২১তম সভার আলোচ্যসূচিতে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা ছাড়াও চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলাতে ‘হালদা থানা’ প্রতিষ্ঠা, কুমিল্লায় ‘বাঙ্গরা’ নামে নতুন উপজেলা গঠন, ময়মনসিংহে ‘আদর্শনগর’ উপজেলা গঠন এবং পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার প্রশাসনিক পুনর্গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর