শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬
শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬
27.2 C
Dhaka
Homeখেলাসেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড নাকি নরওয়ে

সেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড নাকি নরওয়ে

প্রকাশ: জুলাই ১০, ২০২৬ ১০:০১

ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ নির্ধারণ হবে নরওয়ে ও ইংল্যান্ডের লড়াইয়ে।

মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই কোয়ার্টার-ফাইনালকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে দেখছে অপটার সুপার কম্পিউটার। তবে সম্ভাবনার হিসাবে সামান্য এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড।

অপটার ২৫ হাজার ম্যাচ-সিমুলেশনের ফল অনুযায়ী, যেকোনো উপায়ে সেমিফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে ইংল্যান্ডের সম্ভাবনা ৬২.৩ শতাংশ। অন্যদিকে নরওয়ের সম্ভাবনা ৩৭.৭ শতাংশ।

কোয়ার্টার-ফাইনাল শুরুর আগে করা সিমুলেশনে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনায় ইংল্যান্ডের চেয়েও এগিয়ে ছিল ফ্রান্স (৭৩.৯ শতাংশ), স্পেন (৬৯.৮ শতাংশ) এবং আর্জেন্টিনা (৬৯.৪ শতাংশ)।

নরওয়ের জন্য এটি এক নতুন অধ্যায়। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো বড় টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলছে তারা। শেষ ষোলোতে বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিলকে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণও দিয়েছে নরওয়েজিয়ানরা।

এ পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটিতে জয় পেয়েছে নরওয়ে। একমাত্র হারটি এসেছে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে, যেখানে কোচ স্টালে সোলবাকেন শুরুর একাদশে ১০টি পরিবর্তন এনে মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়েছিলেন। পরে সেই সিদ্ধান্তই কাজে দেয়, কারণ নকআউট পর্বে আইভরি কোস্ট ও ব্রাজিলকে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নেয় তারা।

আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্যও নজর কেড়েছে নরওয়ে। পাঁচ ম্যাচে ১২ গোল করার পাশাপাশি ৯ গোলও হজম করেছে তারা। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সেমিফাইনালে ওঠার পথে অন্তত ১০ গোল করা এবং ১০ গোল হজম করার নজির রয়েছে শুধু ১৯৫৪ সালের জার্মানির।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রা ছিল উত্থান-পতনে ভরা। তবে শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে স্মরণীয় জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত থ্রি লায়ন্সরা। অভিজ্ঞতা অবশ্য তাদের পক্ষেই কথা বলছে। ব্রাজিল ও জার্মানির পর সবচেয়ে বেশি ১১ বার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলেছে ইংল্যান্ড।

তবে শেষ আটের রেকর্ড খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। আগের ১০টি কোয়ার্টার-ফাইনালের মধ্যে মাত্র তিনটিতে জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। সাতবারই একাধিক গোল হজম করেছে তারা।

ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন আর্লিং হালান্ড। নরওয়ের এই স্ট্রাইকার বিশ্বকাপে নিজের প্রথম চার ম্যাচেই গোল করেছেন। মাত্র ১৮টি শট থেকে করেছেন সাত গোল। ২০১৪ সালে কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেসের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে প্রথম পাঁচ ম্যাচে টানা গোল করার সুযোগ রয়েছে তার সামনে। ইউরোপীয়দের মধ্যে সর্বশেষ এই কীর্তি গড়েছিলেন ১৯৭০ সালে জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলার।

হালান্ডের সাত গোলের মধ্যে চারটিই ছিল ম্যাচজয়ী। বিশ্বকাপের এক আসরে এর চেয়ে বেশি ম্যাচজয়ী গোল করেছেন কেবল পোল্যান্ডের গ্রেজেগোর্জ লাতো (১৯৭৪) এবং ইতালির সালভাতোরে স্কিলাচি (১৯৯০), দুজনই করেছিলেন পাঁচটি করে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলেও দুর্দান্ত ধারাবাহিকতায় রয়েছেন হালান্ড। নরওয়ের হয়ে ৫৪ ম্যাচে করেছেন ৬২ গোল। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে টানা ১৪ ম্যাচে গোল করে এই সময়ে তিনি করেছেন ২৭টি গোল।

তবে ইংল্যান্ডেরও ভরসার নাম হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে হালান্ডের ঠিক পেছনেই আছেন কেইন। তার গোলসংখ্যা ছয়। ২০১৮ বিশ্বকাপেও তিনি ছয় গোল করেছিলেন। ইংল্যান্ডের হয়ে এক আসরে এর বেশি গোল করতে পেরেছেন শুধু গ্যারি লিনেকার, ১৯৮৬ সালে। নকআউট পর্বেও ধারাবাহিক কেইন। বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে ১২ ম্যাচে তার গোল ১১টি।

অন্যদিকে মেক্সিকোর বিপক্ষে জোড়া গোল করা জুড বেলিংহ্যাম ইতোমধ্যে এই বিশ্বকাপে চার গোল করেছেন। ইংল্যান্ডের কোনো মিডফিল্ডারের এক বিশ্বকাপে এটিই সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।

মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানেও এগিয়ে ইংল্যান্ড। দুই দল এ পর্যন্ত ১২ বার মুখোমুখি হয়েছে। ইংল্যান্ড জিতেছে আটটি ম্যাচ, নরওয়ে মাত্র দুটি। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সর্বশেষ চার দেখায় নরওয়ে কোনো গোলই করতে পারেনি।

তবে নকআউট পর্বে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক রেকর্ড উদ্বেগের। ইউরোপের দলের বিপক্ষে শেষ ছয়টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচের পাঁচটিতেই বিদায় নিয়েছে তারা। সবশেষ ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল ইংলিশরা।

অন্যদিকে বিশ্বকাপে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নরওয়ে এখনো জয় পায়নি। ছয় ম্যাচে তাদের রেকর্ড দুটি ড্র ও চার হার। নকআউট পর্বে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে আগের দুটি ম্যাচেই হেরেছে তারা।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর