শুক্রবার, অক্টোবর ৯, ২০২৬
শুক্রবার, অক্টোবর ৯, ২০২৬
29 C
Dhaka
Homeখেলামেসিকে নিয়ে যা বললেন গিনেস

মেসিকে নিয়ে যা বললেন গিনেস

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১১:৪৪

ছোট্ট মেসির পায়ের জাদুতে তখন মুগ্ধ ফুটবলবিশ্ব। বার্সেলোনার যুব অ্যাকাডেমিতে খেলা সেই বিস্ময়বালককে নিজেদের দলে পেতে চেয়েছিল স্পেনও। কিন্তু নানা চেষ্টা করেও মন গলানো যায়নি আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকরের। স্পেনের হয়ে খেলার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে কেন আর্জেন্টিনাকেই বেছে নিয়েছিলেন মেসি, সেই পুরোনো গল্পই সামনে আনলেন গিনেস মেলেন্দেজ।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের সমাপ্তির আবেগঘন মুহূর্তের দুদিন পর সামনে এসেছে পুরোনো এক গল্প। একসময় বার্সেলোনার যুব অ্যাকাডেমিতে খেলার সময় মেসিকে স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলানোর চেষ্টা করেছিলেন দেশটির বয়সভিত্তিক দলের সাবেক সমন্বয়ক গিনেস মেলেন্দেজ। তবে নানা চেষ্টা করেও আর্জেন্টাইন মহাতারকার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি তিনি।

রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) হয়ে কাজ করার সময়কার সেই অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি স্প্যানিশ রেডিও ওন্দা সেরোর ‘রাদিওএস্তাদিও নোচে’ অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন মেলেন্দেজ। মেসিকে প্রথম দেখার স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, মাত্র ১২ বছর বয়সেই ছেলেটির খেলার ধরন তাঁকে মুগ্ধ করেছিল।

মেলেন্দেজের ভাষায়, আমি মেসিকে প্রথম দেখি যখন তার বয়স ১২ বছর। তাকে দেখে মনে হয়েছিল, যেন কোনো কার্টুন থেকে বেরিয়ে এসেছে। বল পায়ে পেলেই সে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলে যেত। পথে ড্রিবলিং করে একের পর এক খেলোয়াড়কে পেছনে ফেলত।

সে সময় বার্সেলোনার বিখ্যাত যুব অ্যাকাডেমি লা মাসিয়ায় নিজের প্রতিভার পরিচয় দিতে শুরু করেছেন মেসি। তাঁর সমসাময়িক খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিলেন জেরার্ড পিকে ও সেস ফাব্রেগাসের মতো ফুটবলারও, যাঁরা পরবর্তী সময়ে স্প্যানিশ ফুটবলে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেন।

মেসিকে স্পেনের হয়ে খেলানোর ব্যাপারে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এমনকি তাঁর ঘনিষ্ঠ সতীর্থদের মাধ্যমেও তাঁকে রাজি করানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কোনো প্রচেষ্টাই কাজে আসেনি।

স্পেনের অনূর্ধ্ব-১৫ দলের তৎকালীন কোচ মেলেন্দেজ বলেন, ফেডারেশন আমাকে বলেছিল, আর্জেন্টাইন ছেলেটিকে স্পেনের হয়ে খেলতে রাজি করাতে হবে। আমরা সব ধরনের চেষ্টা করেছি, এমনকি তার সতীর্থদের দিয়েও বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তাকে রাজি করানো সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, ১৪ বছর বয়সি খেলোয়াড়দের নিয়ে ইংল্যান্ডে একটি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল স্পেনের। সেখানে নেদারল্যান্ডস ও পর্তুগালের মতো দলও অংশ নেওয়ার কথা ছিল। বয়সভিত্তিক পর্যায়ের এমন প্রতিযোগিতা তরুণ ফুটবলারদের জন্য ছিল বড় সুযোগ। কিন্তু স্পেনের হয়ে খেলার প্রস্তাবে সাড়া দেননি মেসি।

মেলেন্দেজের কথায়, লিও আমাদের হয়ে খেলতে চাইত না। নিজের সিদ্ধান্তে সে অটল ছিল। সে আর্জেন্টিনার হয়েই খেলতে চেয়েছিল।

সাক্ষাৎকারে ২০০৩ সালের আরেকটি ঘটনাও স্মরণ করেন স্পেনের সাবেক এই কর্মকর্তা। সে সময় ফিনল্যান্ডে অনুষ্ঠিত একটি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কোচ হুগো তোকাল্লির সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। স্পেন সেবার সেমিফাইনালে উঠেছিল, যেখানে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ছিল আর্জেন্টিনা।

সেই সাক্ষাতের স্মৃতি তুলে ধরে মেলেন্দেজ বলেন, আমরা খাবার ঘরের দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ কেউ একজন আমার নাম ধরে ডাকল। পেছনে ফিরে দেখি, আর্জেন্টিনার কোচ তোকাল্লি।

এরপর মেসিকে নিয়ে তোকাল্লির সঙ্গে কথোপকথনের বর্ণনা দেন তিনি। মেলেন্দেজ জানান, তোকাল্লিকে তিনি বলেছিলেন, আর্জেন্টিনা মেসিকে দলে না আনায় স্পেনের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কারণ মেসি স্পেনের হয়ে খেলতে রাজি হয়নি। জবাবে তোকাল্লি তাঁকে জানান, মেসির খেলার একটি ভিডিও তিনি পেয়েছেন এবং ছেলেটিকে অসাধারণ মনে হয়েছে। তাই তাকে নিয়ে একটি ম্যাচ আয়োজন করে প্রথমবারের মতো দলে ডাকার পরিকল্পনা করছেন তিনি।

সেই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২৯ জুন আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে মাঠে নামেন মেসি। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ৮-০ গোলের বড় জয় পায় আর্জেন্টিনা। জাতীয় দলের হয়ে মেসির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই ম্যাচটি আয়োজন করা হয়েছিল বলে জানান মেলেন্দেজ।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে সেই ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তা করেন মেসি। এর মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর আন্তর্জাতিক পথচলার ভিত্তি আরও মজবুত হয়। পরবর্তী সময়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য সাফল্য অর্জন করেন তিনি। স্পেনের হয়ে খেলার প্রস্তাব ফিরিয়ে শৈশবেই যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেই আর্জেন্টিনার হয়েই ইতিহাস গড়েছেন বিশ্ব ফুটবলের এই মহাতারকা।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর