বুধবার, জুন ৩, ২০২৬
বুধবার, জুন ৩, ২০২৬
36 C
Dhaka
Homeবাংলাদেশসরিয়ে নেয়া হচ্ছে খানজাহান আলী মাজারের দীঘির কুমিরটি

সরিয়ে নেয়া হচ্ছে খানজাহান আলী মাজারের দীঘির কুমিরটি

প্রকাশ: জুন ৩, ২০২৬ ১১:২৩

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) এর মাজার সংলগ্ন দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। মাজারে আগত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলীর মাজার সংলগ্ন দীঘিতে দীর্ঘ সময় ধরে বাস করছে বিশালাকার এই কুমির। সম্প্রতি দীঘিতে গোসল করতে নামলে সাত বছর বয়সী এক শিশুর পা ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায় কুমিরটি। পরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলীর মাজার সংলগ্ন দীঘিতে দীর্ঘ সময় ধরে বাস করছে বিশালাকার এই কুমির। সম্প্রতি দীঘিতে গোসল করতে নামলে সাত বছর বয়সী এক শিশুর পা ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায় কুমিরটি। পরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ১০টায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন। সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বন বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর মাজার এলাকায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি বাড়ানো হবে।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, কুমিরটি স্থানান্তরের জন্য বুধবার খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দল বাগেরহাটে আসবে। তারা কুমিরটির আচরণ ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে ধরার পদ্ধতি, স্থানান্তরের সময় এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয়গুলো নির্ধারণ করবেন।

এর আগে সোমবার রাত ৮টার দিকে মাজার সংলগ্ন দীঘিতে গোসল করতে নেমে সাত বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিরটি শিশুটির পা ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। পরে মঙ্গলবার ভোরে মাজার সংলগ্ন দীঘির মহিলা ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হৃদয়বিদারক এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তারা মাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং কুমিরটিকে দ্রুত সরিয়ে নেয়ার দাবি জানান। জনমনে সৃষ্টি হওয়া আতঙ্ক ও নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসন কুমিরটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগেরহাটের হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারের দিঘিতে কুমিরকে কুকুর খাওয়ানোর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে সে সময় নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর