মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার চূড়ান্ত আপিল শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৮ এপ্রিল ২০২৬।
ফুল বেঞ্চের এ আদেশের ফলে চূড়ান্ত আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম–২ আসনের নির্বাচনী ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা যাবে না।
উল্লেখ্য যে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার লিজিংয়ের দায়ের করা একটি আপিল আদেশের প্রেক্ষিতে ঋণ খেলাপী হিসেবে সুপ্রিমকোর্টের চেম্বার জজ আদালতের নির্দেশে, নির্বাচন কমিশন বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে।
ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা পুনর্বহালের আবেদন জানিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি তিনি হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (নং–১০৫৩/২০২৬) দায়ের করেন।
২০ জানুয়ারি বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো: আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে রিটটির শুনানি শুরু হয়। পরবর্তীতে আইনি জটিলতা এড়াতে মামলাটি নতুন বেঞ্চে স্থানান্তর করা হয়।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো: আসিফ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে ২৫ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য হয়। ওইদিন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর আইনজীবীরা যমুনা ব্যাংকের একটি ঋণ সংক্রান্ত বিষয় চেম্বার জজ আদালতে আপিলাধীন রয়েছে এ মর্মে দাবি করলে আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তি করে আসার নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে ২৭ জানুয়ারি রিটটির চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা পুনর্বহাল এবং তাকে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন।
হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুল আমিনের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতে একটি সিভিল মিস পিটিশন (সিএমপি) দায়ের করেন। এর ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগ বিষয়টি শুনানির জন্য গ্রহণ করে এবং আজ ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশে স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।
এ বিষয়ে সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সাবেক বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়জী, ব্যারিস্টার আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অ্যাডভোকেট মামুন মাহবুব হোসেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নুরুল আমিনের আইনজীবী ও নির্বাচনী চিফ এজেন্ট অ্যাডভোকেট মো: ইসমাইল গণি বলেন,“হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হয়েছে এবং আপিল বিভাগ তা গ্রহণ করায় নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত করা হয়েছে।”
ফুল বেঞ্চের এ আদেশের ফলে ফটিকছড়ি আসনে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ নিয়ে নতুন করে আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের ওপরই নির্ভর করছে এ আসনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চিত্র।


