বুধবার, মার্চ ৪, ২০২৬
বুধবার, মার্চ ৪, ২০২৬
23.7 C
Dhaka
Homeজেলার খবরমারা গেছে সেই গলাকাটা থাকা ছাত্রী 

মারা গেছে সেই গলাকাটা থাকা ছাত্রী 

প্রকাশ: মার্চ ৩, ২০২৬ ৯:৫৫

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গলের ভেতর গলায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সাত বছর বয়সী শিশুটি শেষ পর্যন্ত মারা গেছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে, রোববার (১ মার্চ) সকালে তাকে সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের  দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

শিশুটির মামা গণমাধ্যমকে জানান, ভোর সাড়ে চারটার দিকে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। অস্ত্রোপচারসহ প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা দেওয়া হলেও ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির গলায় ও হাতে গভীর ক্ষত ছিল। গলার গুরুতর আঘাতে তার শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুরু থেকেই সে কথা বলতে পারছিল না।

এর আগে, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানিয়েছিলেন, শিশুটির গলায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে যৌন সহিংসতার আলামত পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরের দিকে ইকোপার্কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার গভীরে সড়ক সংস্কার কাজ চলছিল। এ সময় এক স্কেভেটর চালক দেখতে পান, রক্তাক্ত একটি শিশু জঙ্গল থেকে টলমল পায়ে রাস্তার দিকে আসছে। শ্রমিকরা দ্রুত এগিয়ে গিয়ে তার গলার ক্ষত কাপড় দিয়ে চেপে ধরে রক্তক্ষরণ বন্ধের চেষ্টা করেন।

পরে তাকে একটি ট্রাকে করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উদ্ধারস্থল সহস্রধারা ঝরনা এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ মিটার উত্তরে পাহাড়ি নির্জন পথ বলে জানা গেছে।

শিশুটি ইশারায় বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে এমন নিষ্ঠুর আচরণ করেছে তাকে দেখলে সে চিনতে পারবে।

পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির বাড়ি কুমিরা ইউনিয়নের মছজিদদা (মাস্টারপাড়া) এলাকায়। তার বাসা থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার। এত কম বয়সী একটি শিশু কীভাবে একা ইকোপার্কের এত গভীরে পৌঁছাল, তাকে কেউ তুলে নিয়ে গেছে কি না, কিংবা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় রোববার রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস ও উদ্বেগজনক। সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

শিশুটির পরিবার জানায়, দুই দিন ধরে তদন্ত চললেও এখনো কোনো স্পষ্ট সূত্র মেলেনি। ঘটনার নির্মমতায় এলাকায় গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর