মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে বাধা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে নৌবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
অভিযান চলাকালে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৫ হাজার ৯৭৪ লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করা হয়। এর মধ্যে খান ফ্লাওয়ার মিল থেকে ৩ হাজার ৯৭৪ লিটার এবং তৃষ্ণা বেকারির কারখানা থেকে ২ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া খান ফ্লাওয়ার আটার মিলে যে কক্ষে অবৈধভাবে তেল মজুত রাখা হয়েছিল, সেটি সিলগালা করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েদ মাহামুদ বুলবুল জানান, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে নৌবাহিনী, পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের যৌথ অভিযান পরিচালনা করেন বিসিক শিল্পনগর এলাকার খান ফ্লাওয়ার আটার গোডাউন ও তৃষ্ণা বেকারির কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সেখান থেকে ৫ হাজার ৯৭৪ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়।
এ সময় লাইসেন্স ছাড়া তেল মজুতের দায়ে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬–এর ৫৬(৩) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে খান ফ্লাওয়ার মিলকে ১ লাখ টাকা এবং তৃষ্ণা বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া জরিমানা অনাদায়ে খান ফ্লাওয়ার মিলের মালিক মো. জামাল উদ্দিন খানকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং তৃষ্ণা বেকারির মালিক মো. জুয়েলকে ৭ দিনের কারা দণ্ডাদেশ দেয়া হয়। এছাড়া জব্দকৃত জ্বালানি তেল স্থানীয় পাম্পের সরকারি মূল্যে বিক্রি করে ওই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়।
এদিকে, জরিমানা ও তেল জব্দকে কেন্দ্র করে খান ফ্লাওয়ার মিলের মালিক ও শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপর চড়াও হয়। তারা সড়কে প্রশাসনের গাড়ির সামনে ইট ও বালুর বস্তা ফেলে পথ অবরোধ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। পরে খবর পেয়ে নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রসঙ্গত, সারাদেশে জ্বালানি তেলের সংকট থাকার কারণে ভোলা জেলার পেট্রোল পাম্পগুলো প্রতি সপ্তাহে চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার লিটারের বেশি তেল পায় না। সেখানে দুইজন মজুমদার ৫৯৭৪ লিটার তেল অবৈধভাবে মজুত করে রেখেছে। যা একটি পেট্রোল পাম্পের প্রাপ্তির চেয়েও বেশি।


