মেজাজ খিটখিটে থাকা ও অলসতা তো থাকেই, পাশাপাশি অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ কারণে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানোর কথা বলে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।
এই পর্যাপ্ত ঘুম পূরণ বা অবসরে দীর্ঘ সময় ঘুমানোও অনেকের অভ্যাস। কেউ কেউ ঘুমাতে পছন্দ করেন বলেও বেশি সময় ঘুমিয়ে থাকেন। কিন্তু জানেন কী, এই অতিরিক্ত ঘুমানোও সমস্যার কারণ হতে পারে।
অতিরিক্ত ঘুমের সঙ্গে কিছু স্বাস্থ্যগত জটিলতার সম্পর্ক রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ওজন বেড়ে যাওয়া, ডিপ্রেশন, মাথাব্যথা এবং অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থেকে অসুস্থতায় মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে হোপকিন্স মেডিসিন। তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-
- অতিরিক্ত ঘুম কি অসুস্থ করে তোলে:
জনস হোপকিন্স মেডিসিনের নিউরোলজিস্ট ও ঘুম বিশেষজ্ঞ ডক্টর চার্লিন গামাল্ডো বলেন, বিষয়টি এমন নাও হতে পারে। আমরা এর সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনো জানি না। সম্ভবত উল্টো কাজ করে; অর্থাৎ, আপনি অসুস্থ থাকলে তখন আপানাকে বেশি ঘুমাতে বাধ্য করে।
অতিরিক্ত ঘুম সত্যিই অসুস্থতার কারণ, নাকি এটি কোনো বিদ্যমান শারীরিক সমস্যার লক্ষণ―এর কারণ যাই হোক না কেন, আপনি যদি সবসময় চোখ-মুখে ঘুম ভর করছে বলে মনে করেন বা কিছুক্ষণ পর পরই ঝিমুনি আসছে, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করতে হবে।
- কতটুকু ঘুমকে অতিরিক্ত বলা যায়:
ঘুমের প্রয়োজনীয়তা মূলত ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু সাধারণ নিয়ম হিসেবে বিশেষজ্ঞরা একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি রাতে গড়ে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর জন্য পরামর্শ দেন।
এ ব্যাপারে ডক্টর চার্লিন গামাল্ডো বলেন, শরীরকে চাঙা রাখার জন্য নিয়মিত প্রতি রাতে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুমের প্রয়োজন হয়, তাহলে সেটি ঘুমজনিত সমস্যা বা শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে।
- কেন ক্লান্তি বোধ হয়:
ডক্টর চার্লিন গামাল্ডোর মতে, বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে অথবা ঘুমের গুণগত মান নষ্ট করতে পারে। এ কারণে বিছানায় ৮ ঘণ্টা শুয়ে বা ঘুমানোর পরও ক্লান্তি ও অলসতা লাগতে পারে। সেসব সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে- - স্লিপ অ্যাপনিয়া: এটি একটি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা। এর কারণে ঘুমের মধ্যে সাময়িকভাবে শ্বাস নেয়া বন্ধ হয়ে থাকে।
রেস্টলেস লেগস সিন্ড্রোম: এটি মস্তিষ্কের একটি সমস্যা। ফলে বিশ্রামের সময় পা নাড়াচাড়া করার তীব্র এবং অস্বস্তিকর অনুভূতি হয়ে থাকে।
- ব্রুক্সিজম: এটি হচ্ছে ঘুমের মধ্যে দাঁত কিড়মিড় করা বা কামড় দিয়ে রাখা।
দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা ও নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ রয়েছে, যেগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও ঘুমানোর পরও ক্লান্তি ও অলসতা অনুভব হয়ে থাকে। আবার এমন কিছু সমস্যা রয়েছে, যা ঘুমের গুণগত মান খুব নষ্ট না করলেও ঘুমের প্রয়োজনীয়তা বাড়ায়। যেমন-
- ডিলেড স্লিপ ফেজ সিন্ড্রোম: এ সমস্যা মানুষের সার্কাডিয়ান রিদম বা শরীরের জৈবিক ঘড়ি এলোমেলো হয়ে যায়, যা গভীর রাত পর্যন্ত জাগিয়ে রাখে এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠা দুষ্কর করে তোলে।
- ইডিওপ্যাথিক হাইপারসোমনিয়া: অজানা কোনো কারণে কারও কারও অতিরিক্ত ঘুম পায়। সেটি এই রোগ।
এসব সমস্যা জটিল মনে হলেও এর চিকিৎসা রয়েছে। সেসব আপনার ঘুমের গুণগত মান উন্নত করতে ভূমিকা রাখে।
- ঘুম পরীক্ষা করা (স্লিপ স্টাডি):
ঘুম বিশেষজ্ঞ ডক্টর চার্লিন গামাল্ডো বলেন, এমন অনেক মানুষ আছে যাদের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেশি ঘুমাতে শুরু করেন। তারা ভাবেন, এটি হয়তো বার্ধক্যের একটি স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে ঘুমের প্রয়োজনীয়তায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হওয়া ঠিক নয়। অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের আজীবন একই পরিমাণ ঘুমের প্রয়োজন হয়।
এ ক্ষেত্রে আপনি বা আপনার কাছের কোনো মানুষের যদি উল্লেখিত সমস্যাগুলো দেখা যাওয়ার পর তেমন সমস্যা না থাকে এবং ৯ ঘণ্টা বিছানায় থাকার পরও আরও ঘুমাতে ইচ্ছা হয়, তাহলে বুঝতে হবে এটি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা বিষণ্ণতার মতো কোনো অন্তর্নিহিত রোগের লক্ষণ হতে পারে। আর প্রয়োজনের থেকে বেশি ঘুমালে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই ঘুম বিশেষজ্ঞ।


