বুধবার, জুন ৩, ২০২৬
বুধবার, জুন ৩, ২০২৬
31.1 C
Dhaka
Homeজেলার খবরনারী কারারক্ষীর সঙ্গে আপত্তিকর ফোনালাপ

নারী কারারক্ষীর সঙ্গে আপত্তিকর ফোনালাপ

প্রকাশ: জুন ৩, ২০২৬ ৮:৪১

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের এক নারী কারারক্ষীর সঙ্গে অনৈতিক ও আপত্তিকর কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক (জেল সুপার) মো. দিদারুল আলমকে স্ট্যান্ড রিলিজড (বর্তমান কর্মস্থল হতে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত) করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) কারা অধিদপ্তরের কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. দিদারুল আলমকে তাৎক্ষণিকভাবে কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি দিয়ে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কারা প্রশিক্ষক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, বুধবার (৩ জুন) সকাল ১০টার মধ্যেই তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে কর্মমুক্ত হতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রজ্ঞাপনে তার বদলির বিষয়টি প্রশাসনিক শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে কার্যকর করার কথা উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে চট্টগ্রাম কারাগারের হসপিটালাইজড প্রিজনার্স সিকিউরিটি ইউনিটের কারা তত্ত্বাবধায়ক মো. আনোয়ারুল করিমকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-১ এর অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তিনি আপাতত নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করে কারাগার পরিচালনার কাজ দেখভাল করবেন।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. দিদারুল আলম ও একই কারাগারের এক নারী কারারক্ষীর মধ্যে একটি ফোনালাপের অডিও রেকর্ড ভাইরাল হয়। ওই কথোপকথনে জেল সুপার ওই নারী কারারক্ষীকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর, কুরুচিপূর্ণ ও অনৈতিক ইঙ্গিত দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনিক পর্যায়ে দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি ওঠে। ঘটনার সত্যতা ও ভয়াবহতা বিবেচনা করে পরদিনই তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে শাস্তিমূলকভাবে বদলি করা হয়।

এই ঘটনাকে ঘিরে কারা প্রশাসনের অভ্যন্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও আচরণবিধি নিয়ে নতুন করে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জেলসুপার ও নারী কারারক্ষীর ফোনে আলাপ তোলে ধরা হলো-

“তুমি এখন একা রুমে? নারী কারারক্ষী বলেন জ্বি স্যার। তোমাকে আর রোজিনাকে আগামী সপ্তাহে রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাব। তোমরা আগে চলে যাবা তারপরে আমি আসবো। পারবা না? তোমাদের রুমে কি টিভি আছে? নারী কারারক্ষী বলেন না স্যার। তোমাদের ব্যারাকে টিভি দিতে বল নাই? জবাবে নারী কারারক্ষী বলে প্রয়োজন পড়ে নাই তাই বলিনি। জেলসুপার বলে এখন তো এসব লাগে না ওয়াইফাই দিয়েই সব দেখা যায়। জবাবে নারী কারারক্ষী বলে জি স্যার। তোমার মোবাইল ফোন কি এন্ড্রয়েড। না স্যার! টাচ, টাচ মোবাইল? নারী কারারক্ষী বলে আমার বাটন ফোন। ও, ফোন কিন নাই কেন? জবাবে নারী কারারক্ষী বলে আমার ফোনটা ভাইয়া নিয়ে গেছে আর ভাইয়ার ফোনটা আমাকে দিয়া গেছে।

তোমার সামনে কি রোজিনা আছে? না স্যার, রোজিনা আর ওরা বাজারে গেছে। কোথায় বাজারে গেছে, তুমি যাও না বাজারে? না স্যার আমি ভাত রান্না করছিলাম তো তাই তাদেরকে বললাম বাজারে যাওয়ার জন্য। আগামী সপ্তাহে তোমাকে আর রোজিনাকে রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাব। তোমরা আগে যাইবা তারপরে আমি আসবো। সন্ধ্যায়, পারবা না। জবাবে নারী কারারক্ষী বলে স্যার আমি ঐসব খায় না তো। কি খাওয়াতে? সাপ খাও? সাপ? না স্যার। কি খাও হ্যাঁ? কি খাও? স্যার আমি ভাত ছাড়া কিছুই খায় না। সমস্যা কি তাহলে হোটেলে ভাত খাইবা। স্যার আমি হোটেলের ভাত খাইতে পারি না। হোটেলের মিষ্টি খাইতে পারো না? ফার্স্ট ফুড খাইতে পারো না?

জবাবে নারী কারারক্ষী বলে আমি বাইরের খাবার পছন্দ করি না। তাইলে এমনিই যাবা, আমাকে খাওয়াবা। তুমি আর রোজিনা আমাকে খাওয়াবা, পারবা না? জবাবে নারী কারারক্ষী বলে স্যার চেষ্টা করব। তুমি এখন একা রুমে? জ্বি স্যার। রোজিনা কি তোমাকে জিজ্ঞাসা করেছে? স্যার তোমাকে আবার ফোন দিয়েছিল কিনা। তোমাদের মহিলারা তো অনেক কথা জানতে চায়? না স্যার। স্যার ও তো জানেই না। তোমার সঙ্গে আমার ব্যাপারে ওইসব জানে না তো? না স্যার। না জানাই ভালো, তুমি আর আমি জানবো। আমাদের নিজেদের বিষয়গুলো যেন তৃতীয় ব্যক্তি না জানে, তাইলে ওরা নেগেটিভে নিয়ে যাবে। বুঝতে পারছ। আর এটা আমাদের কারা ডিপার্টমেন্টে সবচেয়ে বেশি হয়। আমার কথা বুঝতেছো তুমি। জ্বি স্যার।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর