বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি শেষে রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করা হয়।
এদিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির তার যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৯ জুলাই রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন, আইনজীবী মো. আহসানুল করিম এবং ব্যারিস্টার নাসির উদ্দীন অসীম।
মামলার নথি অনুযায়ী, ঋণখেলাপি সংক্রান্ত অভিযোগে নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল।পরে ঋণ পুনঃতফসিলের পর তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে আদালত তার প্রার্থিতা পুনর্বহাল করেন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন।
গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ সুগম করেন। তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল গ্রহণ করে আপিল বিভাগ বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য পরবর্তী নির্দেশনা দেন।
আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, সরোয়ার আলমগীর নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেও প্রার্থিতা-সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম-২ আসনের নির্বাচনী ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা যাবে না। একই সঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবে তার শপথ গ্রহণও স্থগিত থাকবে।
এর আগে গত ১৬ জুন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ হাইকোর্টে জারি করা রুল দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। পাশাপাশি রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ, গেজেট জারি এবং শপথ গ্রহণ স্থগিত রাখার আগের নির্দেশও বহাল রাখেন।
এখন ৯ জুলাইয়ের রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের ভোটার, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ হাইকোর্টের এই রায়ের ওপর নির্ভর করছে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা-সংক্রান্ত আইনি জটিলতার ভবিষ্যৎ এবং আসনটির নির্বাচনী ফলাফল গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের পরবর্তী প্রক্রিয়া।


