পাশাপাশি রাস্তার পাশে ড্রেন নির্মাণের কিছু অংশের কাজও অসম্পূর্ণ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলাচলে তৈরি হয়েছে ঝুঁকি। ইতোমধ্যে এসব ম্যানহোলে পড়ে একাধিক শিক্ষার্থী আহত হলেও স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী চলাচল করেন। কিন্তু ম্যুরাল কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার সবগুলো ম্যানহোলের ঢাকনা স্থাপন করা হয়নি। খোলা এসব ম্যানহোল পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে তারা একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেছেন। তবে প্রতিবারই কোনো শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে প্রশাসনের নজরে আনা হয়। এরপরও ম্যানহোলগুলো স্থায়ীভাবে নিরাপদ করার বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
গতপরশু সন্ধ্যায় (৭ আগস্ট) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক নবীন শিক্ষার্থী ওই এলাকার একটি ম্যানহোলে পড়ে গিয়ে কোমরে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এর আগেও একই স্থানে একাধিক শিক্ষার্থী ম্যানহোলে পড়ে আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গণিত বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীও কিছুদিন আগে ওই এলাকার একটি ম্যানহোলে পড়ে আহত হন। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ করায় তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
শুধু ম্যানহোল নয়, মুক্তমঞ্চ ও একাডেমিক ভবনের মাঝামাঝি এলাকার রাস্তার পাশের ড্রেনেজ নির্মাণের কিছু অংশের কাজও অসম্পূর্ণ রয়েছে। ড্রেনের উপরের অংশে ঢালাই না দেওয়ায় ঢালাইয়ের জন্য ব্যবহৃত রডগুলো খাড়া অবস্থায় উঁচু হয়ে রয়েছে। এতে পথচারীদের জন্য আরও একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, ওই অংশের রাস্তায় প্রায়ই কাদা জমে থাকে। ফলে কাদা এড়িয়ে চলতে গিয়ে অনেক সময় তাদের ম্যানহোলের পাশ দিয়ে হাঁটতে হয়। এতে অসাবধানতাবশত খোলা ম্যানহোলে পড়ে যাওয়া কিংবা উঁচু হয়ে থাকা রডে আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এক শিক্ষার্থী বলেন, “ম্যানহোলগুলো দীর্ঘদিন ধরে খোলা অবস্থায় পড়ে আছে। কোনো শিক্ষার্থী পড়ে আহত হওয়ার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসে এবং প্রশাসনকে জানানো হয়। কিন্তু কিছুদিন পর আবার একই পরিস্থিতি দেখা যায়। আমরা চাই, দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই জায়গাগুলো নিরাপদ করা হোক।”
শিক্ষার্থীদের দাবি, ম্যুরাল কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও অন্তত ঝুঁকিপূর্ণ ম্যানহোলগুলো ঢেকে দেওয়া, চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী দেওয়া এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অসমাপ্ত ড্রেনেজ নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুতই সমাধান হবে।
প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, ম্যুরাল কমপ্লেক্স সম্পন্ন হওয়ার কাজ দু-এক মাসের মধ্যে শুরু হবে, মেনহোলের ঢাকনাও প্রস্তুত। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র পেলেই কাজ শুরু হবে। কিন্তু আপাতত অস্থায়ীভাবে মেনহোলগুলো ঢেকে দেওয়া হবে।
এদিকে ক্যাম্পাসে দুর্ঘটনা ঘটার পর প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরিবর্তে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো আগে থেকেই চিহ্নিত করে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে খোলা ম্যানহোল ও অসমাপ্ত ড্রেনেজের কারণে আরও গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা শিক্ষার্থীদের।


