মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
31.1 C
Dhaka
Homeজেলার খবরফটিকছড়ির এসএসসি ফলাফলে ভিন্ন সমীকরণ: সেরা হওয়ার মাপকাঠি আসলে কী?

ফটিকছড়ির এসএসসি ফলাফলে ভিন্ন সমীকরণ: সেরা হওয়ার মাপকাঠি আসলে কী?

প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ৭:৪০

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ফটিকছড়িতে দেখা গেছে ভিন্ন এক চিত্র। সেরা ১০ প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাসের হার বেশি হলেই, জিপিএ-৫ বেশি এমন কোনো সরল সমীকরণ নেই।

ফটিকছড়ি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ৬০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবার ৪ হাজার ৪৩৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ২ হাজার ৫৫৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২৪ জন। উপজেলায় মোট পাসের হার ৫৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

তবে এবার পাসের হারে সবার ওপরে রয়েছে আবদুল্লাহপুর উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১ জন।

অন্যদিকে, পাসের হারের সেরা দশে না থেকেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে পুরো উপজেলায় সবার ওপরে ফটিকছড়ি বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ২০১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩৯ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬৯ দশমিক ১৫ শতাংশ হলেও জিপিএ-৫ পেয়েছে সর্বোচ্চ ১৮ জন।
আরও চমক রয়েছে ধুরুং খুলশী লায়ন্স উচ্চ বিদ্যালয়ে। প্রতিষ্ঠানটির ১৪৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১৩ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭৬ দশমিক ১৮ শতাংশ হলেও জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন।

পাসের হারে দ্বিতীয় ধর্মপুর উচ্চ বিদ্যালয়,৮১ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং তৃতীয় গোপালঘাটা উচ্চ বিদ্যালয় ৮১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এরপর রয়েছে আজিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়, জাহানারা মমতাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ধর্মপুর কমল কৃষ্ণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মাইজভান্ডার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নানুপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও শাহনগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ।

ফটিকছড়ি বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শহীদুল আজম বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ১৩৯ জন কৃতকার্য হয়েছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ জন।

তবে গোপালঘাটা উচ্চ বিদ্যালয় এডহক কমিটির সভাপতি মো. সাইফুল আলম শাকিল বলেন, শুধু জিপিএ-৫ দিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের ফলাফল মূল্যায়ন করা উচিত নয়। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, কতজন কৃতকার্য , কতজন অকৃতকার্য —সামগ্রিক ফলাফল একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ভূজপুর ন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দীন সিকদার বলেন, পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুই সূচকেই সাফল্য অর্জন করা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ফটিকছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সেলিম রেজা বলেন, এবার ফটিকছড়িতে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আগের তুলনায় খারাপ হয়েছে। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও কমেছে।

সব মিলিয়ে ফটিকছড়ির এবারের এসএসসি ফলাফল বলছে, পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুই সূচকে সাফল্যের চিত্র এক নয়। পাসের হারে আবদুল্লাহপুর উচ্চ বিদ্যালয় যেমন উপজেলার সেরা হয়েছে, তেমনি সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ অর্জনের কৃতিত্ব পেয়েছে ফটিকছড়ি বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ।

ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সেরা বলতে শুধু পাসের হার, নাকি জিপিএ-৫, নাকি সামগ্রিক ফলাফল, কোনটিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত?

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর