মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬
মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬
28 C
Dhaka
Homeজেলার খবরফটিকছড়িতে প্রশাসনের লাল পতাকাও রক্ষা করতে পারেনি চলাচলের রাস্তাঃ দালান তৈরির অভিযোগ

ফটিকছড়িতে প্রশাসনের লাল পতাকাও রক্ষা করতে পারেনি চলাচলের রাস্তাঃ দালান তৈরির অভিযোগ

আপডেট: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৯:৫৮
প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৮:০৬

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাদুর বাপের বাড়ি এলাকায় সরকারি খাস রাস্তা দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাস্তার জায়গা দখলমুক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এমনকি লাল পতাকা টাঙিয়ে দেওয়ার পরও সেটি সরিয়ে সেখানে গর্ত খোঁড়া হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয়রা জানান, মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে আবুল হোসেন সরকারি রাস্তার জায়গা দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর প্রশাসন তদন্ত করে সরকারি খাস রাস্তার জায়গা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

পরে চলাচলের সুবিধার্থে অভিযুক্ত আবুল হোসেনের পক্ষ থেকে বিকল্প পথের জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়া হলেও তা পুনরায় দখলের চেষ্টা করা হলে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আবুল হোসেন ওই লাল পতাকাও সরিয়ে ফেলে এবং এরপর সরকারি জায়গায় পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেন। বিকল্প চলাচলের পথে গর্ত খুঁড়ে উভয় জায়গা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে স্থানীয়দের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল্লাহ বলেন, “আবুল হোসেন সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ শুরু করলে এলাকাবাসী বাধা দেন। পরে কতিপয় নেতার সহায়তায় তিনি স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করেন।”

আরেক বাসিন্দা ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, “এলাকাবাসীর জোর আপত্তির মুখে বিকল্প পথ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দিন পর সেই পথও কেটে গর্ত করে জমি তৈরি করা হয়। এখন কেউ অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত এলাকায় আনা যাচ্ছে না।”

ধর্মপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শোয়াইব বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার সালিশি বৈঠক করা হলেও কোনো সমাধান করা সম্ভব হয়নি।”

অভিযোগের বিষয়ে আবুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে প্রবাসী দাবি করেন। ফোনে কখনো তার ভাই, আবার কখনো অপরিচিত এক নারী কথা বলেন। তারা জানান, বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব নয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি ধর্মপুর মৌজার বিএস খতিয়ানের ১ নম্বর দাগ, বিএস ১৬৪৯৪-এ ‘রাস্তা’ হিসেবে উল্লেখিত ০.০৭৫৩ একর জমিতে অবৈধ দখল ও স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে সংশ্লিষ্ট দখলদারকে নিজ খরচে ১৫ দিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

নোটিশে আরও বলা হয়, নির্দেশনা পালন না করলে বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট অ্যান্ড লোকাল অথরিটি ল্যান্ড অ্যান্ড বিল্ডিং (রিকভারি অব পজিশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৭০ (অধ্যাদেশ নং ২৪/১৯৭০) এবং ভূমি ও ইমারত (দখল পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ নং ২৪/১৯৭০-এর ৫(১) ধারা অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এ বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি রাস্তাটি দ্রুত দখলমুক্ত করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সরকারি জায়গার সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে খাস রাস্তা দখলের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর