মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে ফটিকছড়ির সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্লাহর বদলির খবর আসে। তার দায়িত্ব পালনকালে ভূমি অফিসের সেবায় হয়রানির অভিযোগ, টিলা কাটা এবং অবৈধভাবে মাটি-বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
স্থানীয় সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি, নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি এবং কর্মকর্তাদের অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের একজন স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান চৌধুরী। তার অভিযোগ, ফটিকছড়ি উপজেলা ভূমি অফিসের একাধিক কর্মকর্তার কাছে তিনি বার বার হেনস্তার শিকার হয়েছেন।
একইভাবে বাবুনগর এলাকার ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাও ভূমি অফিস থেকে সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, বারবার যোগাযোগ করেও এখনো সম্পত্তি সংক্রান্ত সমস্যার কোন সমাধান পাননি তিনি।
এদিকে টিলা কাটা ও অবৈধভাবে মাটি-বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ অক্টোবর সুয়াবিলের শোভনছড়িতে এক বিধবার বাড়ির আঙিনা কেটে মাটি নেওয়ার ঘটনা পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর। এর আগে ভূমি কর্মকর্তা রহমত উল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও মাটি কাটা বন্ধ হয়নি।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন সংসদ সদস্য। তার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একই দিন রাতে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে রহমত উল্লাহ জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তখনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর ফটিকছড়ির পাইন্দং এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে টিলা কাটার দায়ে ইরতিসাম কালাম ইরসাল নামের এক যুবককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভূমি কর্মকর্তা।তবে জরিমানার পরও একই এলাকায় ফের টিলা কাটার অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় মোহাম্মদ শওকত ও তার ছেলে ইরতিসাম কালাম ইরসালের নাম উঠে আসে। শওকত দাবি করেন, ভূমি কর্মকর্তা তাকে টিলা কাটার অনুমতি দিয়েছেন। তবে রহমত উল্লাহ এ দাবি নাকচ করে জানান, তিনি কাউকে অনুমতি দেননি বরং আগেই অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছিলেন।পরে ফের টিলা কাটার বিষয়টি তার জানা ছিল না। এরপর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ভূমি অফিসের সেবায় হয়রানির অভিযোগ, টিলা কাটা ও অবৈধ মাটি-বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষের মধ্যেই অবশেষে
স্বল্প সময়ে বদলির বিষয়ে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘এটি একটি ধারাবাহিক বদলি।’ তবে বদলির আদেশ, নতুন কর্মস্থল বা প্রশাসনিক কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি তিনি।


