শনিবার (২৮ মার্চ) পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের একটি চালান বাংলাদেশে আসা শুরু হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন্স) কাজী মো. রবিউল আলম। তিনি বলেন, আগামী ৩১ মার্চ এই ৭ হাজার মেট্রিক টন তেল আসা পুরোপুরি সম্পন্ন হবে।
এর আগে গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপ লাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক লিটার বা পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল তেল এসে পৌঁছায়। জ্বালানি তেল সরবরাহ ঠিক রাখার লক্ষে শুক্রবার ছুটির দিনেও ডিপো খোলা রাখে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ২৪ মার্চ দুপুরে ভারতের আসামে অবস্থিত নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেলহেড ওয়েল ডিপোতে ৫৭ লাখ লিটার বা পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল তেল সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হয়।
প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের রিসিপ্ট টার্মিনালে এসব ডিজেল তেল পৌঁছায়।
রেলহেড অয়েল ডিপো সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার ভারত থেকে পাইপলাইনে আসা পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল তেলের চালান সম্পন্ন হয়েছে। এসব তেল আনতে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে।
এর আগে চলতি বছরে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে তিন ধাপে ১৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল তেল আনা হয়েছে
উল্লেখ্য, উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সারা বছর ডিজেল সরবরাহ রাখতে ভারত থেকে সরাসরি পাইপ লাইনের মাধ্যমে পার্বতীপুরের রেলহেড তেল ডিপোতে জ্বালানি তেল (ডিজেল) সরবরাহ করা হয়। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার ভূ-গর্ভস্থ এই পাইপ লাইন স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়।
পরে ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়। দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী ভারত আগামী ১৫ বছর ডিজেল সরবরাহ করবে এবং বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি আমদানি করা যাবে। পরে ব্যবহার, খরচ ও চাহিদা অনুযায়ী আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি করা হবে।
এই পাইপ লাইন দিয়ে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন তেল ভারত থেকে আমদানি করা সম্ভব বলেও বিপিসির পক্ষ থেকে
জানানো হয়। আগে খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে তেল আসতে সময় লাগতো ৬ থেকে ৭ দিন।


