গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে স্ট্রোক করে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর ২৭টি সেলাই দিতে হয়। এর কিছুদিন পর ব্রেন সার্জারি (মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার) করা হয়। জীবনের এই কঠিন সময় কাউকে পাশে পাননি বলে চ্যানেল 24 অনলাইনকে জানালেন এ গায়ক।
সম্প্রতি চ্যানেল 24 অনলাইনের সঙ্গে আলাপ হয় তৌসিফের। এ সময় শারীরিক অবস্থা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। জানান―মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর আগের থেকে খানিকটা ভালো আছেন এখন। তবে পরিপূর্ণ সুস্থ নয়। একা কোথাও যেতে দেয়া হয় না। মস্তিষ্ক মাঝে মধ্যে হঠাৎ করেই কাজ করা বন্ধ করে দেয় এবং তখন পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেন না তিনি।
‘দূরে কোথাও আছি বসে’-খ্যাত এ সংগীতশিল্পী বলেন―
গত ডিসেম্বরে যখন স্ট্রোক করি, তখনই অস্ত্রোপচারের কথা বলেছিলেন চিকিৎসকরা। আমার বাবাও একজন চিকিৎসক। বাবা একটি মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন, সিভিল সার্জন ছিলেন। ছোট ভাই ও ছোট বোনও ডাক্তার। ভাইদের বউরাও ডাক্তার। তো তখন পরিবারের কেউ রাজি ছিলেন না। পরে অবশ্য উপায় না দেখে রাজি হয় পরিবার। রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে অস্ত্রোপচার হয়েছে।
মস্তিষ্কের যে সমস্যার জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, সেটি এখনো ঠিক হয়নি বলেও জানালেন তৌসিফ। তিনি বলেন, হঠাৎ করেই মস্তিষ্ক নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। দাঁড় করা লাঠি যেমন যেকোনো সময় যেকোনো দিকে পড়ে যায়, আমারও সেই অবস্থা। হতে পারে তা সামনের দিকে বা পেছনের দিকে কিংবা ডান বা বাম পাশে। এটাকে এক ধরনের বিরল রোগ বলা হয়। মাথায় আঘাত লেগেছিল, সেই ট্রমার কারণে এমনটা হয়েছে বলেও জানালেন তিনি।
শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথার ফাঁকে তৌসিফ জানান, গত চার-পাঁচ বছর আগেও এমন পরিস্থিতি ছিল না তার। শেষ ক’বছরে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক-সহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করার পরও পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে পারছেন না। চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তাকে। তারা নিয়মিত এমআরই (ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং) করার কথা জানিয়েছেন। তবে শেষ চার-পাঁচ বছর জীবনে এমন কী ঘটল―যে কারণে বারবার এমন জটিল পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে তাকে, তা জানাননি এ গায়ক।
এদিকে গত ডিসেম্বরেই স্ট্রোক করে পড়ে গিয়ে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পাওয়ার কারণে ২৭টি সেলাই দিতে হয়। ওই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, তার চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল। তখন অনেক ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী তার আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনার কথা তুলেছিলেন। যদিও এ ব্যাপারে সরাসরি কিংবা ইঙ্গিতমূলক কোনো কথা বলতে দেখা যায়নি তাকে। সম্প্রতি আলাপচারিতায় এ প্রসঙ্গ উঠতেই চ্যানেল 24 অনলাইনকে তৌসিফ বলেন―
আমি এখনও চাই না, আল্লাহ আমাকে এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলুক যে, অন্যদের কাছ থেকে সহায়তা নিতে হয়। আমি সব ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে সবসময় দোয়া ও ভালোবাসা চাই। আমার পরিবার আছে। পরিবারের প্রায় সবাই প্রতিষ্ঠিত। তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আমার চিকিৎসা চলছে। যদিও মস্তিষ্কের চিকিৎসা ব্যয়বহুল।
প্রায় দুই দশক ধরে সংগীত ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত তৌসিফ। এ পর্যন্ত অনেক গান প্রকাশ করেছেন। ‘বৃষ্টি ঝরে যায়’, ‘দু’চোখে গোপনে’, ‘দূরে কোথাও আছি বসে’, ‘এক পলকে’ ও ‘আমার জান পাখি ময়না’ শিরোনামের গান-সহ অনেক শ্রোতাপ্রিয় ও ব্যবসাসফল গানও উপহার দিয়েছেন। কাজের ক্ষেত্রে ইন্ডাস্ট্রির অনেকের সঙ্গে সখ্যতাও গড়ে উঠেছে। এমনকি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সবসময় সম্পর্ক ভালো থাকার পরও বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ পাশে এসে দাঁড়ায়নি।
‘আমি কখনো কারও কাছে আর্থিক সহায়তার কথা বলিনি। আমার যে পরিস্থিতি, বিভিন্ন সাংবাদিক ভাইয়েরা ফোন করে খোঁজ-খবর নেন, সংবাদও হয়, সেসব কিন্তু তাদের চোখেও পড়ে। কিন্তু একবারের জন্যও এখন পর্যন্ত কোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বা সহশিল্পীরা ফোন করে আমার খোঁজ নেয়নি। এটা বিবেকহীনতা ছাড়া কিছুই নয়। মুখের কিছু কথা, সান্ত্বনা মানসিক শক্তি হিসেবে কাজ করে, সেই শূন্যতা অনুভব করি’―যোগ করেন তৌসিফ।
গানের মাধ্যমে দর্শক-শ্রোতাদের ভালোবাসা পেয়েছেন, পেয়েছেন খ্যাতি। শারীরিক ও মানসিক জটিলতা কাটিয়ে ফের গানে ফেরার ইচ্ছা তার। এমন কিছু গান করে যেতে চান, যা তাকে যুগ যুগ শ্রোতামহলে বাঁচিয়ে রাখবে। এ জন্য চেষ্টাও চলছে। শিগগিরই গানে ফেরা না হলেও সুস্থ থাকলে মাস দুয়েক পর গানে ফিরবেন তিনি। একইসঙ্গে শ্রোতাদের নিখাদ ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দোয়া প্রার্থনা করেছেন সংগীতশিল্পী তৌসিফ।


