শীতে ফুসকুড়ি দূর করতে নানা উপায় অবলম্বন করা হয়। কিন্তু কিছুতেই যায় না। শুরুতে ত্বক কিছুটা টানটান
হয় এবং কয়েকদিন পর চুলকানি শুরু হয়। তারপর ত্বক খসখসে ও লাল হয় এবং এর থেকেও খারাপ অভিজ্ঞতা হচ্ছে, এই ফুসকুড়ি এভাবেই ভোগাতে থাকে। যা নিজ থেকে চলে যায় না। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীতকালীন ফুসকুড়িতে যত বেশি চুলকানো হয় তত বেশি ব্যথা হয়। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
শীতের এই ফুসকুড়ি নিরাময়ের জন্য ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে হাইড্রেটিং ফেসিয়াল ব্যবহার করতে পারেন। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সুনিতা নায়েক বলেন, ঠান্ডা
আবহাওয়া ত্বকের স্বভাব পরিবর্তন করে। এ সময় বাতাস শুষ্ক হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে হিটার ব্যবহার করা হলে ত্বক অধিকতর শুষ্ক হয়। আবার গরম পানি দিয়ে নিয়মিত গোসল করলেও ত্বকের ক্ষতি হয়। এতে দ্রুতই আর্দ্রতা হারাতে থাকে ত্বক।
এ চিকিৎসক বলেন, ত্বকে একবার সমস্যা হলে ত্বক নিজেকে ঠিকভাবে রক্ষা করা বন্ধ করে দেয়। ত্বকের পৃষ্ঠ রুক্ষ, খিটখিটে এবং সবকিছুর প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়, এমনকি কাপড়, তাপ ও নিজের স্পর্শের প্রতিও।
- ফুসকুড়ি প্রতিরোধের উপায়:
- চুলকানি নিয়ন্ত্রণ করা: রাতে ঘুমানোর সময় ফুসকুড়ি বেশি চুলকানি অনুভব হতে পারে। এ সময় শরীরের তাপমাত্রা পরিবর্তন হয়, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং হঠাৎ চুলকানি তীব্র হয়, যা স্থায়ীও হয়। দিনের বেলা যা নিয়ন্ত্রণযোগ্য মনে হলেও তা ঘুমানোর সময় অসহনীয় হয়ে উঠে। এ ক্ষেত্রে নিজ থেকে যতটা সম্ভব ফুসকুড়িতে স্পর্শ না করাই ভালো।
- সাবান ব্যবহার ও গরম পানি এড়িয়ে চলা: ডা. সুনিতার মতে, বড় ভুলের একটি হচ্ছে ধুয়ে ফেলা। দীর্ঘক্ষণ গরম পানিতে গোসলের কারণে ত্বক ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং শক্তিশালী সাবান ত্বককে পরিষ্কার করলেও কিন্তু অপরিপক্ক মনে করে। আবার শুকনো দাগে ঘষাঘষি করলে ত্বক আরও জ্বলে উঠে। শীতে ত্বককে প্রদাহ দেয়ার বিপরীতে শান্তি দিতে সাবান ও গরম পানি এড়িয়ে চলুন।
- ময়েশ্চারাইজিং ব্যবহার: শুষ্ক ত্বকে ক্রিম ব্যবহার করা হলে খুবই কার্যকর ফল পাওয়া যায়। ত্বক অল্প ভেজা থাকলেও আর্দ্রতা থরে রাখে। ঘন সাধারণ ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে, যা সুগন্ধযুক্ত লোশনের থেকে ভালো কাজ করে এবং সহজেই ম্লান হয়। রাতে ভারী স্তরগুলো কার্যকর। আর তখনই ত্বক নিজেকে ঠিক করার কাজ করে। ত্বককে দীর্ঘ সময়ের জন্য আর্দ্রতা ধরে রাখতে সিরামাইড, গ্লিসারিন বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত ব্যারিয়ার রিপেয়ার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন।
- রাতে ঢিলেঢালা পোশাক পরা: রাতে ঘুমানোর সময় কোন ধরনের পোশাক পরা উচিত, এ ব্যাপারে খুব বেশি সংখ্যক মানুষ জানেন না। ডা. সুনিতা বলেন, শীতে মানুষ রুক্ষ কাপড়, টাইট নাইটওয়ার বা থার্মাল পোশাক পরে ঘুমায়, যা তাপ ধরে রাখে। অথচ এসব পোশাক চুলকানির কারণ হতে পারে, যা অনেকেই জানেন না। এ কারণে ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরা যেতে পারে। এতে জ্বালাপোড়া থেকে ত্বক রক্ষা পাবে।
- হালকা গরম পানিতে অল্প সময়ে গোসল: গরম পানির পরিবর্তে হালকা গরম পানি দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে গোসল করতে পারেন। মৃদু, সাবান ছাড়া ক্লিনজার ব্যবহার করে গোসল করলে আর্দ্রতা হ্রাস পায়। এতে ত্বকের পচন রোধ হয়।
- হাইড্রেটিং ফেসিয়াল: ডিপ হাইড্রেশন ফেসিয়াল আর্দ্রতার মাত্রা পূরণ করতে এবং ত্বকের বাধাকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। মেডিকেল গ্রেড ময়েশ্চারাইজিং ট্যাবলেট সাধারণত সংবেদনশীল ত্বকে কাজ করে। এসব ত্বকের পচন দূর করে এবং হাইড্রেটিং উপাদানগুলোকে কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে দেয়।


