বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬
বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬
33 C
Dhaka
Homeস্বাস্থ্যকানের এই লক্ষণগুলো দেখা দিলেই পরামর্শ নিন চিকিৎসকের 

কানের এই লক্ষণগুলো দেখা দিলেই পরামর্শ নিন চিকিৎসকের 

প্রকাশ: এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১২:০১

মানুষের শরীরে নানান রোগ বাসা বাঁধে। তবে টিউমার আর ক্যানসার এই রোগ নিয়ে চিন্তায় থাকেন অনেকে। বিশেষ করে টিউমারের সমস্যা দেখা দিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপারেশন করতে হয়। আর অবহেলায় টিউমার অনেক সময় ক্যানসারে রূপ নেয়। সে কারনে টিউমারের লক্ষণ নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরী। বিভিন্ন ধররের টিউমার রয়েছে। তবে কানের টিউমার নিয়ে অনেকের মাঝেই সচেতনতার অভাব রয়েছে। এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই অনেকেরই।

কানের পাশে বা ভেতরে ছোট একটা গাঁট অনেকে ভাবেন, এটা কিছু না, নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, এই ছোট পরিবর্তনই কখনও বড় সমস্যার শুরু হতে পারে। কারণ, কানে যে টিউমার তৈরি হয়, তার বেশিরভাগই নিরীহ হলেও কিছু ক্ষেত্রে তা ক্যানসারেও পরিণত হতে পারে।

কানের টিউমার কি

কানের ভেতর বা বাইরে অস্বাভাবিক কোষ জমে যে গাঁট বা মাস তৈরি হয়, তাকেই কানের টিউমার বলা হয়। এটি বাইরের কান, মধ্যকান বা ভেতরের যেকোনো অংশে হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এগুলো ক্যানসার নয়, তবে অবহেলা করলে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া বা ভারসাম্যহীনতার মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে।

অনেক সময় কানে যে গাঁট দেখা যায়, তা সিস্টও হতে পারে। সিস্ট সাধারণত তরলভর্তি ছোট থলি এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর নয়। অন্যদিকে টিউমার হলো টিস্যুর শক্ত গঠন, যা নিরীহ বা ক্যানসার দুই ধরনেরই হতে পারে।

কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করা যাবে না: কানের টিউমার দেখা দিলে আগে থেকেই বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দেয়। যেসব লক্ষণ অবহেলা করা যাবে না:

কানে বা কানের পাশে গাঁট অনুভব হওয়া
হঠাৎ শুনতে কম লাগা
কানে ব্যথা বা অস্বস্তি
কানে রক্ত বা তরল বের হওয়া
মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানো
কানে বাজা
ত্বকের রঙ বদলে যাওয়া বা নতুন তিল
এই লক্ষণগুলোর যেকোনোটি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কেন হয় এই সমস্যা: যখন শরীরে নতুন কোষ অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত তৈরি হয় বা পুরোনো কোষ ঠিকমতো নষ্ট হয় না, তখনই টিউমার তৈরি হয়। কিছু ঝুঁকির কারণও আছে, যেমন

দীর্ঘদিন কানের ইনফেকশন
কানে ছিদ্র বা আঘাত
অতিরিক্ত ঠান্ডা পানির সংস্পর্শ
ধূমপান বা প্যাসিভ স্মোক
বংশগত কিছু রোগ

চিকিৎসা: সব টিউমারের জন্য একই চিকিৎসা দরকার হয় না। চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি সব দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রয়োজন হলে সার্জারি বা রেডিওসার্জারি করা হয়। ক্যানসারের ক্ষেত্রে অপারেশন, রেডিয়েশন বা কেমোথেরাপি লাগতে পারে। সময়মতো ধরলে ভয় কম থাকে। দেরি করলে অনেক সময় ক্যানরার হয়ে যায়।

মনে রাখতে হবে কানের টিউমার ক্যানসারের দিকে না গেলেও নানা ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে। এগুলো শ্রবণশক্তি কমিয়ে দিতে পারে এবং বারবার কানে সংক্রমণ হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া, কানের ভেতরে থাকা যে অঙ্গগুলো আমাদের শোনা ও শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, টিউমার সেগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে, ফলে মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানোর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই জটিলতা এড়াতে দ্রুত চিকিৎসা চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। চিকিৎসকরা বলছেন, শুরুতেই ধরা পড়লে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চিকিৎসা সফল হয়।

সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর