রবিবার, মে ৩, ২০২৬
রবিবার, মে ৩, ২০২৬
30 C
Dhaka

হঠাৎ পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান মোতায়েন সৌদিতে কেন ?

0
পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান
পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান

শনিবার (১১ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হঠাৎ পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানের বহর মোতায়েনের ব্যাপারে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কিং আবদুল আজিজ বিমানঘাঁটিতে এই যুদ্ধবিমান মোতায়েনের লক্ষ্য হলো যৌথ সামরিক সমন্বয় জোরদার করা এবং সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা, যাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

এ বিষয়ে অবশ্য পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো একটি দেশের ওপর হামলা হলে তা উভয় দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

এদিকে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক আলোচনা চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই যুদ্ধবিমান মোতায়েন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তেহরান-ওয়াশিংটন শান্তি আলোচনা কোনও কারণে ভেস্তে গিয়ে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তানের এই যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের বিরুদ্ধে লড়বে।

এরই মধ্যে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় শান্তি আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে বিস্তর সংশয় তৈরি হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অতীত বিশ্বাসঘাতকতার কথা মাথায় রেখে লড়াইয়ের প্রস্তুতিও নিয়ে রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুলের সঙ্গে এক ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ‘সম্পূর্ণ অবিশ্বাস’ নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে ইরান। অতীতে বারবার কূটনীতিতে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাই নিজেদের জনগণের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে লড়াই করবে ইরান।

এর আগে, একই কথা বলেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও। শুক্রবার স্থানীয় সময় রাতে (১০ এপ্রিল) ইসলামাবাদে পৌঁছে এক বিবৃতিতে ইরানের প্রতিনিধিদলের প্রধান গালিবাফ বলেন, তেহরানের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু ওয়াশিংটনের ওপর আমাদের কোনো বিশ্বাস নেই।

এসময় তিনি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অতীতের বিশ্বাসঘাতকতার অভিজ্ঞতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। গালিবাফ বলেন, ইরানের সদিচ্ছা থাকার পরও এক বছরের কম সময়ের মধ্যে আলোচনার মাঝপথে দুইবার তারা আমাদের ওপর হামলা করেছে এবং অসংখ্য যুদ্ধাপরাধ করেছে।

ইরানের প্রতিনিধিদলের প্রধান আলোচক অবশ্য এও বলেছেন, যদি আমেরিকান পক্ষ একটি প্রকৃত চুক্তির জন্য প্রস্তুত থাকে এবং ইরানি জাতির অধিকার মেনে নিতে রাজি হয়, তবে তারা ইরানের পক্ষ থেকেও একটি চুক্তির জন্য প্রস্তুতি দেখতে পাবে।

এদিকে ইরানের সম্ভাব্য যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে নতুন এক তথ্য ফাঁস করেছে মার্কিন গোয়েন্দারাও। তাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে অস্ত্রের একটি বড় চালান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। এই অস্ত্রের মধ্যে থাকবে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও।

মার্কিন গোয়েন্দারা দাবি করেছেন, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে ব্যবহার করে বিদেশি মিত্রদের মাধ্যমে তাদের কিছু নির্দিষ্ট অস্ত্র আবারও পুনরায় মজুদ করছে ইরান। তারা ইঙ্গিত পেয়েছেন চীন এসব অস্ত্র তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যেন অস্ত্রগুলো কোথা থেকে আসছে সেটি শনাক্ত না করা যায়।

তারা বলেছেন, এ মুহূর্তে চীন কাঁধ থেকে ছোড়া বিমান বিধ্বংসী মিসাইল ব্যবস্থা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই মিসাইল ব্যবস্থা দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল ইরান, যার দুই ক্রুকে উদ্ধার করতে বিশাল অভিযান চালাতে হয় মার্কিন সৈন্যদের। এ উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে আরও দুটি পরিবহন বিমান ও দুটি হেলিকপ্টার হারায় যুক্তরাষ্ট্র।

প্রসঙ্গত, ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।

পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এ যৌথ হামলার প্রথম ধাক্কাতেই প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য। ৩৮ দিন ধরে চলা এই যুদ্ধে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে হারায় ইরান। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ও ধ্বংস হয় দেশটির বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সেইসঙ্গে প্রাণ হারায় ইরানের ২ হাজারের বেশি মানুষ।

যুদ্ধ চলাকালীনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার এক বক্তব্যে জানান, এই যুদ্ধ শুরুর জন্য তাকে অব্যাহতভাবে চাপ দিয়েছিল ইসরায়েল ও সৌদি আরব।

এদিকে, ৩৮ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে শক্ত জবাব দেয় ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় দেশটি। ইরানের লাগাতার হামলার মুখে করুণভাবে ভেঙে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও। এ অবস্থায় আবার ইরানের পক্ষে যোগ দেয় লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতি বাহিনী; যা ইরানের শক্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয় যুদ্ধে। এছাড়া, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ইরানের হামলায় ভয়ংকর বিপদের মুখে পড়ে যায় ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্ররা। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ধস নামে মার্কিন তেল বাণিজ্যেও।

এ অবস্থায় ইরানকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানোর জন্য শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের দ্বারস্ত হয় যুক্তরাষ্ট্র। গত ৭ এপ্রিল কার্যকর হয় ১৫ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি। কিন্তু, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও বিশ্বাসঘাতকতার কলঙ্ক এবারও মুছতে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান-ওয়াশিংটনের সমঝোতা হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই লেবাননে নারকীয় এক হত্যাযজ্ঞ চালায় ইসরায়েল। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে ৫০টি বিমান নিয়ে একশোরও বেশি গোলাবর্ষণ করে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। অল্প সময়ের এই হামলায় প্রাণ হারান তিনশো জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে এই হামলার দায় এড়াতে চাইলেও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করে বসেন, লেবাননে চালানো ভয়াবহ ওই হামলা তারা করেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বোঝাপড়া করেই।

ফলে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অতীত বিশ্বাসঘাতকতা ও শর্তভঙ্গের ইতিহাস মাথায় রেখে বেশ সতর্ক অবস্থানেই আছে ইরান। এমনকি, আবারও যুদ্ধের আশঙ্কায় সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে দেশটি।

 

শিশুর টিকা কেন জরুরি? কখন কোন টিকা দিতে হবে

0

শিশু জন্মের পর থেকেই তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল থাকে। তাই এই সময় থেকেই নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, টিকা শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধের ভিত্তি তৈরি করে এবং মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা শুধু ব্যক্তিগত সুরক্ষা নয়, বরং একটি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জন্মের পর থেকেই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিশুদের টিকা দেওয়া হয়।

  • সরকারি টিকা: বিনামূল্যে সুরক্ষার ব্যবস্থা

সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিকা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিসিজি, পেন্টাভ্যালেন্ট, পোলিও, পিসিভি, এমআর এবং ডিপিটিসহ বিভিন্ন টিকা। বিসিজি টিকা শিশুকে যক্ষ্মা থেকে সুরক্ষা দেয়। পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস বি ও হিব সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। পোলিও টিকা শিশুকে স্থায়ী পক্ষাঘাতের ঝুঁকি থেকে বাঁচায়। পিসিভি টিকা নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস ও রক্তে সংক্রমণ প্রতিরোধে কাজ করে। এমআর টিকা হাম ও রুবেলা থেকে সুরক্ষা দেয়, যা শিশু ও গর্ভবতী মায়ের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রোগ। এছাড়া ডিপিটি, টিটি ও টিডি টিকা ধনুষ্টংকার ও ডিপথেরিয়ার মতো মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। জলাতঙ্কের ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের জন্য সরকারি হাসপাতালে র‌্যাবিস টিকাও দেওয়া হয়।

  • বেসরকারি টিকা: অতিরিক্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা

সরকারি টিকার পাশাপাশি কিছু বেসরকারি টিকা অতিরিক্ত সুরক্ষা হিসেবে দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে রোটা ভাইরাস, ভারিসেলা, হেপাটাইটিস এ, টাইফয়েড, ইনফ্লুয়েঞ্জা, এমএমআর, এইচপিভি এবং মেনিনজোকক্কাল টিকা। এই টিকাগুলো শিশুদের ডায়রিয়া, জলবসন্ত, টাইফয়েড, ফ্লু এবং বিভিন্ন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

  • কখন কোন টিকা দিতে হবে

বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মের পর প্রথম ছয় মাসে বিসিজি, পেন্টাভ্যালেন্ট, পোলিও ও পিসিভি টিকার নির্ধারিত ডোজ দেওয়া হয়। এরপর ধাপে ধাপে ৬ সপ্তাহ, ১০ সপ্তাহ ও ১৪ সপ্তাহে এসব টিকার বাকি ডোজ সম্পন্ন করা হয়। ৯ মাসে এমআর টিকা এবং ১৫ মাসে এর বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়। এক বছর বয়সের পর হেপাটাইটিস এ টিকা, ১৮ মাসে ডিপিটি ও পোলিও বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়। দুই বছর বয়সের পর টাইফয়েডসহ অন্যান্য বেসরকারি টিকা দেওয়া যেতে পারে। ৫ বছর বয়সে স্কুলে যাওয়ার আগে ডিটি টিকা দেওয়া হয়। ১০ বছর বয়সের পর থেকে কিশোরীদের জন্য এইচপিভি টিকা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

চিকিৎসকরা বলছেন, টিকা গ্রহণের নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। এতে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।

সব মিলিয়ে, টিকা শুধু একটি চিকিৎসা নয়, বরং শিশুর সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

উচ্চ রক্তচাপে কারণে দুপুরে এড়িয়ে চলুন ৩ খাবার

0

উচ্চ রক্তচাপ এখন অনেকেরই সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেও সচেতন হওয়া জরুরি। বিশেষ করে দুপুরের খাবারে কিছু খাবার এড়িয়ে চললে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের খাবারে কয়েকটি অভ্যাস বদলালেই উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

  • অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার

অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বাড়ানোর অন্যতম বড় কারণ। আচার, চিপস, ভাজা বাদাম বা বিভিন্ন ধরনের সংরক্ষিত খাবারে লবণের পরিমাণ বেশি থাকে। এসব খাবার শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তচাপ দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

  • ভাজাপোড়া ও চর্বিযুক্ত খাবার

ফ্রাই করা খাবার, পুরি, পরোটা বা বেশি চর্বিযুক্ত মাংস নিয়মিত খেলে রক্তনালীর ওপর চাপ পড়ে। এসব খাবারে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকায় রক্তনালী সংকুচিত হতে পারে। ফলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

  • অতিরিক্ত ভাত বা মিষ্টি জাতীয় খাবার 

দুপুরে অনেক বেশি ভাত বা মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাসও উচ্চ রক্তচাপের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে শরীরের ওজন দ্রুত বাড়ে। যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করে।

  • তাহলে দুপুরে কী খাবেন?

চিকিৎসকরা বলছেন, দুপুরের খাবারে লবণ কম দিয়ে রান্না করা সবজি রাখা ভালো। এর সঙ্গে শসা, টমেটো ও গাজরের সালাদ খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া ডাল, মাছ বা মুরগির মতো হালকা প্রোটিনযুক্ত খাবার শরীরের জন্য উপকারী। ভাত খেতে চাইলে অল্প পরিমাণে খাওয়াই ভালো।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পরিমিত খাবারই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার অন্যতম সহজ উপায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গরমের মাঝেও ঢাকায় হঠাৎ কুয়াশা নিয়ে যা জানা গেলো 

0

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে এক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ টিম তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানায়, কুয়াশা সাধারণত তখনই সৃষ্টি হয়, যখন বাতাসে থাকা জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হয়ে ক্ষুদ্র পানিকণায় পরিণত হয়ে বাতাসে ভাসতে থাকে। এই প্রক্রিয়া ঘটে যখন তাপমাত্রা কমে গিয়ে শিশিরবিন্দুর কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

তারা আরও জানায়, গরমের দিনে সূর্যের তাপে প্রচুর পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যায়। পরে রাতের শেষভাগ বা ভোরে তাপমাত্রা কমে গেলে এই আর্দ্রতা ঘনীভূত হয়ে কুয়াশার সৃষ্টি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কুয়াশা তৈরির জন্য কয়েকটি শর্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে, বাতাসে উচ্চমাত্রার আর্দ্রতা, তাপমাত্রা কমে শিশিরবিন্দুতে পৌঁছানো ও বাতাসের গতি কম বা হালকা থাকা।

এছাড়া বৃষ্টির পর কিংবা নদী, খাল বা পুকুরের আশপাশে কুয়াশা বেশি দেখা যায়। কারণ এসব এলাকায় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। গরমকালে বৃষ্টির পর ভোরে মাটি ও পানির তাপমাত্রা দ্রুত কমে গেলে ভূমির কাছাকাছি স্তরে কুয়াশা তৈরি হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমকালে সাধারণত ঘন কুয়াশা কমই দেখা যায়। এ সময় হালকা কুয়াশা বা জলাশয়ের কাছে ‘স্টিম ফগ’ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তন এমন পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ।

তারা আরও জানান, এই ধরনের কুয়াশা সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয় এবং সূর্যের তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত মিলিয়ে যায়।

গরমের মধ্যেও কুয়াশা দেখা দিলেও এটি অস্বাভাবিক কোনো দুর্যোগ নয়। বরং আবহাওয়ার স্বাভাবিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই এটিকে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

মেধা-মননশীলতার মাধ্যমে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়ানোর আহ্বান আইজিপির

0

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতি কমপ্লেক্সের সেমিনার হলে আয়োজিত ‘আইজিপি শিক্ষাবৃত্তি-২০২৫’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। আইন জানা ও মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে এবং সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে। ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজের উন্নয়নে কাজ করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের কোনো সদস্য অপরাধে জড়িত হলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না; বরং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রতিটি জেলার সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সভাপতি ড. এম আকবর আলীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিমিয়া সাআদত। স্বাগত বক্তব্য দেন সমিতির সহসভাপতি ইয়াসমিন গফুর।

এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন ড. মো. আবুল হোসেন এবং মো. ফারুক হোসেন। উপস্থিত ছিলেন সমিতির অন্যান্য সদস্য, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে তরুণ প্রজন্মকে মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

অনুষ্ঠানে ‘কেমন পুলিশ চাই’ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মতামতও তুলে ধরা হয়। তারা পুলিশকে আরও বন্ধুসুলভ ও জনবান্ধব হিসেবে দেখতে চাওয়ার পাশাপাশি আইন প্রয়োগে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে ড. এম আকবর আলী বলেন, পুলিশ সদস্যদের জনগণের সঙ্গে আরও ভালো আচরণ করতে হবে।

উল্লেখ্য, কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলের অর্থায়নে বাংলাদেশ পুলিশ পরিচালিত বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৪০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে এই শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।

এর মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ শিক্ষার্থীর হাতে সরাসরি বৃত্তি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। বাকি ৩০০ শিক্ষার্থীকে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারের মাধ্যমে বৃত্তি দেওয়া হবে।

৫০ হাজার লিটার তেল মজুদ, জরিমানা সাড়ে ৩ লাখ টাকা

0

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি রোধে সংস্থাটি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মজুতদার ও কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অভিযানে চট্টগ্রামের হাটহাজারী, কর্ণফুলী মোজ্জারটেক বাজার, সদরঘাট ও মেডিকেল রোড এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট ও ব্যক্তিগত গোডাউন থেকে অবৈধভাবে মজুত করা অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও ভোজ্যতেল জব্দ করা হয়।

এসব অভিযানে মোট ৪৫ হাজার ৫৪৯ লিটার তেল উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তেল উৎপাদন, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার অভাব ও অবৈধ মজুতের দায়ে ৬টি প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ১ হাজার ৫০০ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা এলাকায় পৃথক অভিযানে ৭০০ লিটার ডিজেল ও ৫০০ লিটার পেট্রোল অবৈধভাবে মজুতের দায়ে দুইজনকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে ফরিদপুরের কোতোয়ালি এলাকায় একটি পেট্রোল পাম্পকে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদের অভিযোগে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই অভিযানে মোটরসাইকেলের ট্যাংকে অতিরিক্ত জ্বালানি নেওয়ায় এক আরোহীকেও ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী আরও বলেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা প্রতিরোধে তাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন বার্তা

0
ভিসা ফি ছাড়াই পাকিস্তানে যেতে পারবেন

শনিবার (১১ এপ্রিল) ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের ওয়েবসাইটে নতুন এ বার্তা দেওয়া হয়েছে।

দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়েছে, একজন আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী যুক্তরাষ্ট্রে কতদিন অবস্থান করতে পারবেন, তা আপনার আগমনের সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা নির্ধারণ করেন। এটি আপনার বি১/বি২ ভিজিটর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ নয়।

অর্থাৎ, ভিজিটর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা যাবে না। বরং, মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাই নির্ধারণ করে দেবেন, ভ্রমণকারী কতদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রে কতদিন থাকার অনুমতি পেয়েছেন, তা জানতে আপনার I-94-এ উল্লেখিত “admit until date” দেখুন- i94.cbp.dhs.gov।

আগামী বাজেটে কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে

0
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ‘স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন-২০২৬’-এর আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা ও সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, বাংলাদেশে মানুষের অভাব নাই। তবে কাজের লোক খুঁজে পাওয়া যায় না। এজন্যই এই সরকারের একটি বড় উদ্যোগ কারিগরি শিক্ষা। আমরা প্রত্যেকটি জায়গায় কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছি। আগামী বাজেটে কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে যদি আমরা আর্থ-সামাজিকভাবে উন্নত করতে চাই, তবে কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। জাপান, জার্মানি বা কানাডার মতো উন্নত দেশগুলো হাতে-কলমে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমেই আজ বিশ্বের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। সরকার এই খাতকে ‘থার্ড সেক্টর’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং আগামী বাজেটেও এর প্রতিফলন দেখা যাবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, কারিগরি শিক্ষার লক্ষ্য হলো স্বল্প সময়ে হাতে-কলমে শিখে পরিবার ও দেশকে স্বাবলম্বী করা। এখানে বাড়তি বা অযাচিত পড়াশোনা করে সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই। আমাদের এমন পাঠ্যক্রম তৈরি করতে হবে যা সরাসরি কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহীদের জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমল থেকেই বিশেষ সুযোগ রাখা আছে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত সরকারের সময় শ্রীলঙ্কা থেকে ট্রেনিংয়ের নামে প্রচুর টাকা অপচয় করা হয়েছে, যার কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। এখন থেকে প্রত্যেকটি কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা আনতে তিনি ঘোষণা দেন, পলিটেকনিকের প্রতিটি ক্লাসরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। শিক্ষকরা ক্লাসে ঠিকমতো পড়ান কিনা, তা আমি ঢাকা থেকেই পর্যবেক্ষণ করব।

শিক্ষকদের আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, একবারে সকলকে আবাসন দেওয়া সম্ভব না হলেও একটি নির্দিষ্ট অংশকে এই সুবিধার আওতায় আনতে আমরা কাজ করছি। আপনাদের সমস্যাগুলো একে একে সমাধান করা হবে, কোনোটিই অমীমাংসিত রাখা হবে না।

সেমিনারে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্পিনার উসমান তারিক আবার বিতর্কে জড়ালেন

0

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স বনাম রাওয়ালপিন্ডিজ ম্যাচে এই ঘটনা ঘটে। রাওয়ালপিন্ডির হয়ে ব্যাট করছিলেন নিউজিল্যান্ডের তারকা মিচেল। এ সময় বল ছাড়ার ঠিক আগে উসমান তারিক হঠাৎ থেমে গেলে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন মিচেল। প্রথমে হাত তুলে অপ্রস্তুতির ইঙ্গিত দেন, পরে ক্রিজ ছেড়ে সরে দাঁড়ান। কিন্তু ততক্ষণে ডেলিভারি সম্পন্ন করে ফেলেন উসমান, যা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন ম্যাচের আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। তিনি মিচেলকে বারবার বোলারের কাজে বিঘ্ন না ঘটানোর বিষয়ে সতর্ক করেন। পরে উভয়পক্ষ শান্ত হয়।

ঘটনাটি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা। তিনি বলেন, এটা আম্পায়ারদেরই সমাধান করতে হবে। ব্যাটারকে প্রস্তুত থাকতে হবে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

ম্যাচ শেষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন উসমান তারিক। তিনি জানান, মিচেল যখন সরে যায়, আমি কারণ জানতে চাই। সে বলে আমি বিরতি নিচ্ছি। আমি বলি, আমি দ্বিতীয়, তৃতীয় এমনকি চতুর্থবারও এভাবে থামতে পারি। এটি আমার অ্যাকশনের অংশ।

উল্লেখ্য, এর আগেও তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে আপত্তি জানান ক্যামেরন গ্রিন। এমনকি পিএসএলেও তার বিরুদ্ধে চাকিংয়ের অভিযোগ ওঠে। পরে আম্পায়ারদের নির্দেশে বায়োমেকানিক্যাল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন এই অফস্পিনার।

নিজের বোলিং নিয়ে উসমানের দাবি, তার হাতে জৈবিক কারণে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা বাঁক রয়েছে, যা অনেকেই ভুলভাবে সন্দেহ করেন।

এদিকে তার পক্ষে কথা বলেছেন ভারতের সাবেক স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তিনি বলেন, ব্যাটাররা সুইচ হিট বা রিভার্স শট খেলতে পারে, কিন্তু বোলারদের ওপরই বেশি বিধিনিষেধ কেন? ক্রিজে ‘পজ’ যদি তার স্বাভাবিক অ্যাকশনের অংশ হয়, তাহলে সেটি বৈধ হওয়া উচিত।

ঘটনাটি ঘিরে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে বোলিং অ্যাকশন ও ক্রিকেটের নিয়মকানুন, যা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি উঠছে ক্রিকেটবিশ্বে।

ইরানের এখনো হাজার হাজার মিসাইল অক্ষত; যেকোনো সময় মেরামত করতে পারবে লঞ্চার: গোয়েন্দা রিপোর্ট

0

বুধবার (৮ এপ্রিল) মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়, পেন্টাগনের দাবি অনুযায়ী ইরানের সামরিক সক্ষমতা ‘চূর্ণ’ হয়ে গেলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। যুদ্ধের শুরুতে তাদের কাছে প্রায় আড়াই হাজার মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, যার এক হাজারটিরও বেশি এখনো ব্যবহারের উপযোগী রয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ‘কার্যত ধ্বংস’ বলে দাবি করলেও গোয়েন্দারা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা জানিয়েছেন, ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি পাহাড়ের গভীরে নির্মিত হওয়ায় সাধারণ বিমান হামলায় সেগুলো ধ্বংস করা অসম্ভব।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন তারা মূলত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সুড়ঙ্গগুলো বন্ধ করতে পেরেছিলেন, কিন্তু ভেতরে থাকা লঞ্চার বা মূল সমরাস্ত্রগুলো অকেজো করতে পারেননি। ফলে ইরান লড়াইয়ের এই বিরতিকে তাদের ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্স থেকে লঞ্চারগুলো উদ্ধার ও মেরামতের কাজে ব্যবহার করার সুযোগ পাচ্ছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইরানের বর্তমান সামরিক শক্তির একটি খতিয়ান তুলে ধরেছে। সেখানে বলয়া হয়, ইরানের অর্ধেকেরও বেশি লঞ্চার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও হাজার হাজার স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার মিসাইল এখনো তাদের হাতে রয়েছে। এছাড়া যুদ্ধের শুরুতে থাকা ড্রোনের ৫০ শতাংশের বেশি ধ্বংস হলেও তেহরান এখন রাশিয়া বা চীন থেকে ড্রোন প্রযুক্তি সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এছাড়াও পারস্য উপসাগরে মার্কিন জাহাজ লক্ষ্য করে হামলার জন্য এখনো কার্যকর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ রয়েছে দেশটির কাছে।

সিআইএ-র সাবেক বিশ্লেষক কেনেথ পোলাক সতর্ক করে বলেছেন, ইরানিরা তাদের বাহিনীকে দ্রুত উদ্ভাবন ও পুনর্গঠন করার অসাধারণ ক্ষমতা রাখে। এই অজেয় শক্তির বার্তা নিয়েই শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনায় বসছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার।

মার্কিন বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি লড়াইয়ের এই সময়টুকুকে তাদের প্রতিরক্ষা শিল্প পুনর্গঠনে ব্যবহার করতে পারে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদী হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি মেনে নেওয়া হলে ইরান দ্রুততম সময়ে তাদের আগের সামরিক শক্তিতে ফিরে আসতে সক্ষম হবে।