মঙ্গলবার, মে ৫, ২০২৬
মঙ্গলবার, মে ৫, ২০২৬
25 C
Dhaka

রাঙ্গাবালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: দুই বছর ধরে কাজ বন্ধ, ভেস্তে যাচ্ছে দ্বীপবাসীর স্বপ্ন

0

দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর ও আগুনমুখা নদীবেষ্টিত দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালী। তিনদিকে নদী আর একদিকে সাগরঘেরা এই জনপদ। কৃষি ও মৎস্যনির্ভর এ অঞ্চলের মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক অধিকারগুলোর একটি স্বাস্থ্যসেবা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আধুনিক যুগেও এই উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলার মানুষ এখনো ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত।

উপজেলাটিতে নেই কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল। এমনকি নেই একজন সরকারি এমবিবিএস চিকিৎসকও। ফলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হলে এখানকার মানুষকে পাড়ি দিতে হয় ভয়াল আগুনমুখা নদী। একজন চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর সেই যাত্রা অনেক সময় হয়ে ওঠে জীবন-মৃত্যুর লড়াই।

জটিল রোগের চিকিৎসা তো দূরের কথা, গর্ভবতী নারীদের সিজারিয়ান অপারেশনের মতো কোনো ব্যবস্থাও নেই এই উপজেলায়। ফলে গর্ভবতী নারী, নবজাতক কিংবা মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে নদীপথে যেতে হয় পার্শ্ববর্তী গলাচিপা বা কলাপাড়া উপজেলার সরকারি হাসপাতালে। আর জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে যেতে হয় জেলা সদর পটুয়াখালী কিংবা বিভাগীয় শহর বরিশালে।

তবে নৌ-যোগাযোগ দিনের বেলায় সীমিত থাকলেও সন্ধ্যার পর প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বৈরী আবহাওয়ার সময় অনেক ক্ষেত্রে দিনেও নৌযান চলাচল বন্ধ থাকে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন লঞ্চঘাট পর্যন্ত পৌঁছানোই কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় রোগীদের ঘর থেকে বের করাও দুরূহ হয়ে যায়।

ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তার, হেকিম-কবিরাজ কিংবা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু এসব জায়গায় জ্বর, সর্দি-কাশির মতো প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া উন্নত কোনো চিকিৎসা সুবিধা নেই।

২০১২ সালে রাঙ্গাবালী উপজেলা হিসেবে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত এখানে গড়ে ওঠেনি একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল। তবে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে পাঁচ একর জমির ওপর ৫০ শয্যার একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ শুরু হয়। এতে নতুন আশার আলো দেখেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কিন্তু সেই আশাও এখন অনেকটাই থমকে গেছে। প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাজেট সংকটের কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে অর্ধনির্মিত হাসপাতাল ভবনটি যেন রাঙ্গাবালীর মানুষের স্বাস্থ্যবঞ্চনার এক নীরব প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চারতলা হাসপাতাল ভবনের তিনটি তলার ছাদ ঢালাই ও নিচতলার আংশিক দেয়ালের কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া দুটি কোয়ার্টার ভবন, একটি সাব-স্টেশন, চলাচলের রাস্তা ও বাউন্ডারি ওয়ালের কিছু অংশ নির্মাণ করা হলেও বাকিগুলো অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের বাইরে থাকা লোহার রডগুলোতে ইতোমধ্যে মরিচা ধরতে শুরু করেছে। অনেক জায়গায় ভিম-কলামের ঢালাইকাজে যথাযথ ভাইব্রেশন না হওয়ায় ফাঁকা অংশ পরে প্লাস্টার দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। দৃশ্যমান ইটের গাঁথুনিতে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পাইলিং থেকে প্রথম তলার ফ্লোর পর্যন্ত ফাঁকা জায়গায় এখনো বালু ভরাট করা হয়নি।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে পাঁচ একর জমির ওপর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট রাঙ্গাবালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রকল্পটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের কথা ছিল। প্রথম ধাপের কার্যাদেশের মূল্য ধরা হয় ১২ কোটি ৬৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় ধাপের কার্যাদেশের মূল্য ৮ কোটি ১৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।

প্রথম ধাপে কাজটি যৌথভাবে পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবুল কালাম আজাদ ও প্রাইম কনস্ট্রাকশন। দ্বিতীয় ধাপের কাজ পায় আবুল কালাম আজাদ, প্রাইম কনস্ট্রাকশন ও মেসার্স আয়ান এন্টারপ্রাইজ। ২০২৩ সালের ১০ এপ্রিল কার্যাদেশ পাওয়া কাজ দুটির মেয়াদ ছিল এক বছর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রথম ধাপের কাজের ৫৩ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ধাপের ৫৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়। ওই অনুপাতে অর্থও উত্তোলন করা হয়েছে। তবে গত বছরের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

দ্রুত এই হাসপাতালের নির্মাণকাজ শেষ করে কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, নতুন সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় দ্রুত প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু হবে এবং দ্বীপবাসী ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা পাবে।

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী হাই মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহেলা পারভীন বলেন, “২০১২ সালে উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত এখানে একটি সরকারি হাসপাতাল গড়ে ওঠেনি। ২০২৩ সালে হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হলেও ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে তা বন্ধ রয়েছে। ফলে এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়, এমনকি পথে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।”

বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার হোসেন আহমেদ বলেন, “এ এলাকার মানুষ এখনো আধুনিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকে জ্বর, সর্দি-কাশির মতো প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া উন্নত চিকিৎসা নেই। অনেক গর্ভবতী মা সিজারের জন্য যাওয়ার পথে মারা যান। সাপে কামড়ানো রোগীদের জন্য অ্যান্টিভেনম না থাকায় অনেক সময় রোগীকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শেষ করে কার্যক্রম চালু করা জরুরি।”

রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুর রহমান ফরাজি বলেন, “রাঙ্গাবালীবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি হাসপাতাল অত্যন্ত জরুরি। প্রায় দুই বছর ধরে ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে আমি সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় দ্রুত কাজ শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন।”

এ বিষয়ে পটুয়াখালী স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের আমলে কাজটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমি গত সপ্তাহে নির্মাণাধীন হাসপাতালটি পরিদর্শন করে এসেছি। এখন প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। আমরা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাচ্ছি। আশা করছি দ্রুত কাজ শুরু হবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে হাসপাতালটি হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।”

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, “স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে জেনেছি যে গত মাসে প্রকল্পটি আবার একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। বর্তমানে নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। খুব শিগগিরই নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে। ঠিকাদার নিয়োগের এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হবে।”

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদ ভূঞা বলেন, “ডিপিপি পাস হয়েছে। হাসপাতালটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের জন্য নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ হলে কাজ শুরু হবে।”

চাল-চলনে মার্জিত থাকতে হবে সকল মন্ত্রী-এমপিদের ঃ প্রধানমন্ত্রী

0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বুধবার (১১ মার্চ) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভায় তিনি এ পরামর্শ দেন।সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য গণমাধ্যমকে জানান, গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রেও মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে যার যে দায়িত্ব, তার বাইরে যেন কেউ মন্তব্য না করেন- এ বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বেলা সোয়া ১১টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভা শুরু হয়। সভা শেষ হয় বেলা ১টায়।

সভায় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভায় বিএনপির ২০৯ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির নেওয়া জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সামনের দিনগুলোতে করণীয় বিষয়ে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের দিকনির্দেশনা দেন।

সভায় বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির প্রসঙ্গও তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছে। কিন্তু ভোটের আঙুলের কালির দাগ মোছার আগেই আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি। এটাই হচ্ছে বিএনপি। এই বিএনপিকেই মানুষ দেখতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হবে। এ ছাড়া সামনে ডেঙ্গুর মৌসুমকে সামনে রেখে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সবাইকে সতর্ক করেন তিনি।

জুলাই জাতীয় সনদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সনদের কিছু বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। সরকার যেসব বিষয় বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।

 

সুন্দরবনের পারশে পোনা নিধন অব্যাহত, হুমকিতে জলজ প্রাণবৈচিত্র্য

0
সুন্দরবনের পারশে পোনা নিধন
সুন্দরবনের পারশে পোনা নিধন

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে নিষিদ্ধ ঘন মশারি জাল ব্যবহার করে পারশে মাছের পোনা আহরণ অব্যাহত রয়েছে। এতে একদিকে মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ধ্বংস হচ্ছে প্রাণীর লার্ভাসহ অসংখ্য জলজ জীব।

সামুদ্রিক ফলে সুন্দরবনের জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।সুন্দরবনের মোট ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা বাংলাদেশের অংশে পড়েছে। এর মধ্যে জলভাগের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৮৭৪ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার, যা পুরো বনের প্রায় ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ। এখানে ১৩টি বড় নদীসহ প্রায় ৪৫০টি খাল রয়েছে। বনের অর্ধেকের বেশি এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে বন বিভাগ, যেখানে জেলেদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। তবে বনসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর, নদী ও খালে অবাধে চলছে মাছের পোনা নিধন।

বিশেষ করে পারশে মাছের পোনা আহরণে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘন মশারি জাল। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের খুলনার পাইকগাছা নোনা পানি গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, একটি পারশে পোনা আহরণের বিপরীতে কমপক্ষে ১১৯টি চিংড়ি, ৩১২টি প্রাণিকণা এবং ৩১টি অন্যান্য প্রজাতির মাছের পোনা ধ্বংস হয়। অথচ মৎস্য আইনে সোয়া চার ইঞ্চির কম ফাঁসের জাল ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক বলেন, উপকূলের প্রান্তিক মানুষের জীবিকার অন্যতম উৎস সুন্দরবন। এ বনকে ঘিরে প্রায় দেড় লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু নিয়ম মেনে সম্পদ আহরণ না করলে উপকূলীয় লোনা পরিবেশের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বন সংকটে পড়বে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, পারশে মূলত লোনা পানির মাছ। এটি সুন্দরবনের মতো ম্যানগ্রোভ এলাকায় বেশি পাওয়া যায় এবং উপকূলীয় অঞ্চলের চিংড়ি ঘেরে চাষের জন্য এর পোনার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের ঘেরগুলোতে প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা পারশে পোনা সরবরাহ করা হয়। এ কারণে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি জেলে দল নিয়মিত সুন্দরবনে পোনা শিকার করছে।

বনজীবীদের দাবি, মূলত ডিসেম্বর থেকে মার্চ—এই তিন মাস পারশে পোনা আহরণ বেশি হয়। কয়রা অঞ্চলের একটি চক্রের সহযোগিতায় এই কার্যক্রম চলছে। সুন্দরবনে ট্রলার চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও সাদা মাছ পরিবহনের অনুমতি নিয়ে কিছু মহাজন ট্রলার নিয়ে বনে প্রবেশ করে। পরে নদী ও খালে পারশে পোনা ধরার কাজে তা ব্যবহার করা হয়।

বনজীবীরা আরও জানান, প্রতিটি দ্রুতগামী ট্রলারে আট থেকে ১০ জন জেলে থাকে এবং ঘন মশারি জাল ব্যবহার করা হয়। কোনো অভিযান পরিচালনার আগেই দালালদের মাধ্যমে জেলেরা খবর পেয়ে যায়। তখন তারা বনের গভীরে আশ্রয় নেয় এবং অভিযান শেষ হলে আবার পোনা ধরতে শুরু করে।

তাদের দাবি, একবার জাল টানলে দুই থেকে তিন মণ পারশে পোনা পাওয়া যায়। দুদিন পরপর এসব ট্রলার সাত থেকে আট মণ পোনা নিয়ে শিবসা নদীতে আসে। সেখান থেকে পাইকগাছা, দাকোপ ও মোংলার বিভিন্ন মোকামে সরবরাহ করা হয়। পাইকগাছা সেতুর নিচে প্রকাশ্যেই এসব পোনা বেচাকেনা হয়। আকারভেদে প্রতি কেজি পোনা ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকলেও সুন্দরবনকেন্দ্রিক সব ধরনের অপরাধ দমনে বন কর্মকর্তা ও প্রহরীরা কাজ করছেন। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ জাল, কীটনাশকসহ অবৈধভাবে প্রবেশ করা জেলেদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বন বিভাগের সঙ্গে কিছু চক্রের যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান। তিনি বলেন, বন কর্মকর্তা বা প্রহরীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ভিত্তিহীন। সুন্দরবনের ভেতরে পারশে পোনা ধরার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তবে স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন। সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলে কাজ করা কয়রা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি তারিক লিটু বলেন, কিছু প্রভাবশালী মহাজন বন বিভাগকে ম্যানেজ করে পারশে পোনা নিধন করছে। পাশাপাশি অভয়ারণ্য এলাকায় বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার ও বন্যপ্রাণী নিধনের ঘটনাও বন্ধ হয়নি।

বাংলাদেশ সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের মিডিয়া সমন্বয়ক ওবায়দুল কবির সম্রাট বলেন, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রহরীর যোগসাজশে কয়রা, দাকোপ ও সাতক্ষীরার শ্যামনগরকেন্দ্রিক কয়েকটি চক্র সক্রিয় রয়েছে।

এ বিষয়ে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন সুরক্ষায় বন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কমিউনিটি ভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে এবং কোনো কর্মকর্তা অনৈতিক কাজে জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্বলতা কাটাতে বানিয়ে ফেলুন মিক্সড ফ্রুট মিল্কশেক

0
মিক্সড ফ্রুট মিল্কশেক
মিক্সড ফ্রুট মিল্কশেক

সারাদিন রোজা রাখার পর আমাদের শরীরে দুর্বল হয়ে যায়। তাই দুর্বলতা কাটাতে ইফতারে বানিয়ে ফেলুন মিক্সড ফ্রুট মিল্কশেক। এটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এই সুস্বাদু পানীয়টি পুষ্টিতে ভরপুর।এনটিভির রান্নাবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘কনকা কুইক রেসিপি ২০২৬’ একটি পর্বে মিক্সড ফ্রুট মিল্কশেক রেসিপি দেওয়া হয়েছে। রেসিপিটি তৈরি করেছেন আইরিশ আতিয়ার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা। আসুন, জেনে নেওয়া যাক, বাসায় ঘরোয়া উপায়ে ‘মিক্সড ফ্রুট মিল্কশেক’ বানানোর পদ্ধতি। তার আগে চলুন দেখে নিই কী কী উপকরণ লাগবে—

উপকরণ

  • তরল দুধ এক কাপ
  • আইস কিউব পরিমাণমতো
  • তরমুজ ৬০ গ্রাম
  • ডালিম ১৫ গ্রাম
  • আপেল ১৫০ গ্রাম
  • কলা একটি
  • কাঠবাদাম কুচি পরিমাণমতো
  • প্রস্তুত প্রণালি

প্রথমে কনকা মিক্সার গ্রাইন্ডারে আইস কিউব নিন। এরপর তরমুজ, ডালিম, আপেল, কলা ও তরল দুধ দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে গ্লাসে ঢেলে কাঠবাদম কুচি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন দারুন স্বাদের মিক্সড ফ্রুট মিল্কশেক।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারনে শাহজালাল বিমানবন্দরে এ পর্যন্ত ৩৯১টি ফ্লাইট বাতিল

0
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

: আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করা দেশগুলো হলো— ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত ধাপে ধাপে মোট৩৯১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি এবং ১০ মার্চ ৩২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

এছাড়া ১১ মার্চ (০০০০ এলটি–এর পর) আরও ২৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৪টি, গালফ এয়ারের ২টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, এমিরেটসের ৪টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি ফ্লাইট রয়েছে।

এদিকে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যগামী কিছু ফ্লাইট সীমিত আকারে পরিচালিত হয়েছে এবং কিছু ফ্লাইট পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী মোট ৩৬৪টি ফ্লাইট পরিচালিত বা পরিকল্পিত হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ৬টি, ১ মার্চ ২০টি, ২ মার্চ ১৮টি, ৩ মার্চ ২২টি, ৪ মার্চ ৩৫টি, ৫ মার্চ ৩৮টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ৩৯টি, ৮ মার্চ ৩১টি, ৯ মার্চ ৪০টি এবং ১০ মার্চ ৪২টি ফ্লাইট পরিচালিত বা পরিকল্পনায় ছিল।

এছাড়া ১১ মার্চ ৩৯টি ফ্লাইট পরিচালনা বা পরিকল্পনার তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে মাস্কাটগামী ৮টি, সৌদি আরবগামী ১৯টি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ১২টি ফ্লাইট রয়েছে। আমিরাতগামী ফ্লাইটগুলোর মধ্যে দুবাইয়ে ৫টি, আবুধাবিতে ১টি এবং শারজাহয় ৬টি ফ্লাইট রয়েছে।

শুরু হল বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক

0
জাতীয় সংসদ
জাতীয় সংসদ

বুধবার (১১ মার্চ) বেলা সোয়া ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে থাকা বিএনপির একজন সংসদ সদস্য একটি গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকে নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনসহ সংসদ অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিত্বের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হতে পারে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। এর দেড় বছর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি।

সংবিধান অনুযায়ী, কোনো সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক আহ্বান করতে হয়।

কাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সে অনুযায়ী, আগামীকাল বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে শুরু হবে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন।

সাধারণত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন দীর্ঘ হয়। এই অধিবেশন কত দিন চলবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি গঠনের পর কমিটির বৈঠকে প্রথম অধিবেশনের সময়কাল ঠিক হবে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সংসদের শীর্ষ পদগুলোতে অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মুখ বসাতে চাইছে বিএনপি। স্পিকার পদে দলের স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য আবদুল মঈন খান, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুকের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদের ব্যাপারে আলোচনা বেশি।

 

বিভিন্ন আসনের ৫ প্রার্থী ভোট কারচুপির অভিযোগে মামলা করলেন হাইকোর্টে 

0
হাইকোর্ট
হাইকোর্ট

বুধবার (১১ মার্চ) এই মামলা করেন তারা। ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববিহাজ্জাজ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭টি।

গাইবান্ধা-৫ আসনে বাংলাদেশ বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল ওয়ারেছ। তিনি ভোট পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. ফারুক আলম সরকার পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৪৮৩ ভোট।

ঢাকা-৫ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি ভোট পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৬৪১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. নবী উল্লাহ পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৯১ ভোট।

কুষ্টিয়া-৪ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আফজাল হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ২০১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬০৩ ভোট।

৩ লাখ ৩৬ হাজার টন ডিজেল আসছে দেশে 

0
দেশে আসছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার টন ডিজেল
দেশে আসছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার টন ডিজেল

জ্বালানি সরবরাহ করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে বিকল্প দেশ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১১টি চালানে আসবে দুই লাখ ৮১ হাজার ৩৭৯মেট্রিক টন ডিজেল। বাকি ৫৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাওয়া যাবে দেশের শোধনাগার ও পেট্রোলিয়াম প্ল্যান্ট থেকে।

বর্তমানে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের জন্য নির্ধারিত একটি মাদার ভেসেল সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে। এমটি নর্ডিক পলাঙ নামের জাহাজটি গত ২ মার্চ সকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই জাহাজটিতে ক্রুড অয়েল লোড করা হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেটি এখনও বন্দরে নোঙর করে আছে।

বিপিসি সূত্র জানা গেছে, চলতি মার্চ মাসে ১১টি চালানে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা ডিজেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে গত ৩ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ৩২ হাজার ১৬৯ দশমিক ০৭ টন ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ। জাহাজটি ডিজেল খালাস সম্পন্ন করেছে।

এ ছাড়াও সোমবার (৯ মার্চ) ২৭ হাজার ২০৪ দশমিক ৬৬ টন ডিজেল নিয়ে বন্দরের জলসীমায় প্রবেশ করে ‘শিউ চি’ নামের ট্যাংকার জাহাজ। সিঙ্গাপুর থেকে এসব ডিজেল আমদানি করা হয়েছে।

শিপিং এজেন্টদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতেই ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের একটি ট্যাংকার জাহাজ ২৭ হাজার ৫ দশমিক ৪৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া ১২ মার্চ ‘এসপিটি থেমিস’ নামের আরেকটি জাহাজ ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া ‘র‍্যাফেলস সামুরাই’ ও ‘চাং হাং হং তু’ নামের আরও দুটি ট্যাংকার ১৩ মার্চ বন্দরে পৌঁছাতে পারে। প্রতিটি জাহাজেই প্রায় ৩০ হাজার টন করে ডিজেল রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিপিসি সূত্র আরও জানা গেছে, চলতি মার্চ মাসের মধ্যে ২৪ মার্চ ৩০ হাজার মেট্রিক টন, ২৫ মার্চ ৩০ হাজার মেট্রিক টন ও ১০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ও ২৭ মার্চ ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আরও জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্চ মাসে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড এবং দেশে স্থাপিত অন্য পেট্রোলিয়াম প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৫৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাওয়া যাবে।

চারটি ট্যাংকারের স্থানীয় এজেন্ট প্রতিষ্ঠান প্রাইড শিপিং লাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী এক সপ্তাহের মধ্যেই সব জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা। এরপর ধাপে ধাপে জ্বালানি খালাসের কাজ শুরু হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ৭০ শতাংশই ডিজেল। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে, যার বড় অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও গতিশীল করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সব চাহিদা সমন্বিতভাবে নিরূপণ এবং জ্বালানিবাহী জাহাজকে চট্টগ্রাম বন্দরে বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বন্দরের জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন ও বাংকারিং সুনিশ্চিত করাসহ অপারেশনাল কার্যকারিতা এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সজাগ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বন্দর চেয়ারম্যান আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে আসা অধিকাংশ জাহাজের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান উৎস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া হওয়ায় বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব এখানে তুলনামূলক কম।

 

২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছাড়াল স্বর্ণের ভরি

0
স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৭০ হাজার ছাড়াল
স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৭০ হাজার ছাড়াল

বুধবার (১১ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দামনির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার ১২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১ হাজার ২৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮০ হাজার ৬১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গতকালও দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। ওই দিন ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ডা. এফ এম সিদ্দিকী বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন 

0
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন ডা. এফ এম সিদ্দিকী
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন ডা. এফ এম সিদ্দিকী

সোমবার (৯ মার্চ) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে।মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ডা. এফ এম সিদ্দিকী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা ও চিকিৎসাশিক্ষার দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেন।