মঙ্গলবার, মে ৫, ২০২৬
মঙ্গলবার, মে ৫, ২০২৬
25 C
Dhaka

জাতিসংঘে ইরানের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিলো রাশিয়া ও চীন

0

শুক্রবার(১৩ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করে যুক্তরাষ্ট্র। এসময় বাধা হয়ে দাঁড়ায় রাশিয়া ও চীন।  বৈঠকের মধ্যেই একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর সব অভিযোগ তোলে দুই পক্ষ।

জানা যায়, নিরাপত্তা পরিষদের চলতি মাসের সভাপতি হিসেবে ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তদারকি সংক্রান্ত ‘১৭৩৭ কমিটি’র কার্যক্রম সক্রিয় করার প্রস্তাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া ও চীন এই আলোচনা ঠেকানোর চেষ্টা করলেও ভোটাভুটিতে তা ব্যর্থ হয়। ১১–২ ভোটে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব পাস হয় এবং দুটি দেশ ভোটদান থেকে বিরত থাকে। বৈঠকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ সরাসরি অভিযোগ করেন, মস্কো ও বেইজিং তাদের প্রতিরক্ষা অংশীদার ইরানকে রক্ষা করতে বিশ্বনিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া এই কমিটির কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে।

মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, ইরান বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র না থাকা দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র রাষ্ট্র যারা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে এবং আইএইএ-কে পরিদর্শনের পূর্ণ সুযোগ দিচ্ছে না।

তিনি দাবি করেন, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের কারণে যে হুমকি তৈরি হয়েছে তা মোকাবিলার জন্যই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল জরুরি। তবে এই অভিযোগকে ‘অযথা আতঙ্ক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর অজুহাত খুঁজতেই ওয়াশিংটন এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

অন্যদিকে চীনের প্রতিনিধি ফু ছং এই সংকটের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকেই ‘উসকানিদাতা’ হিসেবে দায়ী করেন। তিনি বলেন, একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার কথা বলা আর অন্যদিকে ইরানের ওপর প্রকাশ্য শক্তি প্রয়োগ করা—যুক্তরাষ্ট্রের এই দ্বিচারিতা কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে।

তবে এর জবাবে ব্রিটেন ও ফ্রান্সও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে জানায়, আন্তর্জাতিক উদ্বেগের যথাযথ জবাব না দেওয়ায় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

বৈঠক শেষে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি সাংবাদিকদের জানান, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সবসময়ই শান্তিপূর্ণ ছিল এবং কোনো ধরনের নতুন নিষেধাজ্ঞা ইরান মেনে নেবে না।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিই দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রধান কারণ। এই মাসের শুরুতে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র গত বছরের জুন মাসে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা না চালালে দুই সপ্তাহের মধ্যেই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারত। তবে কিছু সূত্র বলেছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে এ দাবির সমর্থন পাওয়া যায়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারকে হত্যা করে তারা। সেইসঙ্গে হত্যা করা হয় ইরানের সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কমান্ডারকেও। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানও। ১৪ দিন ধরে চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলায় ইতোমধ্যে ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য।

১০৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হচ্ছে এলএনজিতে

0
এলএনজিতে ১০৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ,
এলএনজিতে ১০৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ,

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) গ্লোবাল এনার্জি মনিটর (জিইএম) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আমদানিকৃত গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাদেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

জিইএম-এর এশিয়া গ্যাস ট্র্যাকার অনুযায়ী, বর্তমানে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে মোট ১০৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এলএনজি টার্মিনাল ও পাইপলাইন প্রকল্প নির্মাণাধীন বা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জোটের ইরানে হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ায় এলএনজি অবকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণ করা হলে অঞ্চলটি ভয়াবহ মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের ঝুঁকিতে পড়বে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়া বর্তমানে বিশ্বের মোট নির্মাণাধীন এলএনজি আমদানি সক্ষমতার ১৭ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে, যার পরিমাণ বছরে ১১০.৭ মিলিয়ন টন। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এমনভাবে তাদের এলএনজি অবকাঠামো পরিকল্পনা করছে যা বাস্তবায়িত হলে বর্তমান সক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হবে। অন্যদিকে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি টার্মিনাল সম্প্রসারণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তবে জিইএম-এর গ্লোবাল এলএনজি বিশ্লেষক রবার্ট রোজানস্কি সতর্ক করে বলেন, এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরশীল উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো এসব মূল্য ধাক্কা সামাল দিতে হিমশিম খাবে।

জিইএম-এর প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ায় এলএনজি প্রকল্পের ব্যর্থতার উচ্চ হার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দেখা গেছে, গত এক দশকে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান যে পরিমাণ এলএনজি সক্ষমতা চালু করেছে, তার চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি প্রকল্প বাতিল বা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। ইউরোপের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় এসব প্রকল্পের ব্যর্থতার হার অনেক বেশি, যা এই অঞ্চলে গ্যাস অবকাঠামোতে বিনিয়োগের আর্থিক ও নীতিগত ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্ট করে তোলে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই ঝুঁকি আরও প্রকট। কারণ এদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাত ব্যাপকভাবে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। জিইএম-এর তেল-গ্যাস কর্মসূচীর পরিচালক জুই জলি পরামর্শ দিয়েছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের জন্য দূরদর্শী সিদ্ধান্ত হবে এলএনজি থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাওয়া। এলএনজি যে জ্বালানি নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, দেশীয় নবায়নযোগ্য উৎস তা দিতে সক্ষম। আইইএফএ-এর বাংলাদেশের লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলমও মনে করেন, এলএনজির অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত অস্থির ও অনিশ্চিত।

বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে। পাকিস্তানে গত তিন বছরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে এবং ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের মোট চাহিদার ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মেটানোর পথে রয়েছে।

 

‘কিডনির রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নাই’

0

আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউ এর বি ব্লকের সম্মুখ প্রাঙ্গণ বটতলা থেকে বিশ্ব কিডনি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে কিডনি রোগ সচেতনতামূলক র‍্যালি শেষে অধ্যাপক নজরুল ইসলামএ কথা বলেন।

এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল- ‘সুস্থ কিডনি সকলের তরে, কিডনি যত্নে বাঁচাও ধরণীরে’।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২০১৯ সালে প্রকাশিত আটটি স্টাডির ওপর একটি সিস্টেমিক রিভিউ এর মতে বাংলাদেশে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ২২.৪৮ শতাংশ। ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে এই তথ্যকে সঠিক ধরে নিলে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় তিন কোটি ৮২ লক্ষ ও দ্রুত হারে এ সংখ্যা বাড়ছে। এই রোগে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হচ্ছে। নতুন রোগীদের প্রায় ৮০ শতাংশ রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অথবা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করছে। বর্তমানে এই রোগে মৃত্যুর স্থান অষ্টম ও ২০৪০ সাল নাগাদ কিডনি রোগ মৃত্যুর কারণ হিসেবে পঞ্চম স্থান দখল করবে, যা মানুষের সুস্থ জীবন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

র‍্যালি শেষে শহীদ ডা. মিল্টন হলে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কিডনি রোগ প্রতিরোধমূলক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও স্ক্রিনিং সম্প্রসারণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কিডনি সেবাকে অন্তর্ভুক্ত ও শক্তিশালী করা, কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পর্কে গণসচেতনতা বৃদ্ধি, মরণোত্তর কিডনি প্রতিস্থাপন সফল করার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ঘোষিত সার্বজনীন স্বাস্থ্য চিকিৎসা বাস্তবায়িত হলে কিডনি রোগ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। কারণ, কিডনি রোগ দীর্ঘ দিন নীরবে বৃদ্ধি পায় ও সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা না পাওয়ায় এ রোগ জটিল আকার ধারণ করে।

কিডনি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত র‍্যালিপূর্বক সমাবেশে বক্তারা কিডনি রোগ প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও রোগ নির্ণয় ব্যয় নামমাত্র। তাই রোগ নির্ণয়ে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। একটি পরিবারে কিডনি চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিৎসা। এই ব্যয়ভার শুধু ব্যক্তি রোগীর ওপর নয় অথবা রোগীর পরিবারের ওপরও নয়, বরং এই চিকিৎসা সাপোর্ট দেওয়া সমগ্র জাতির জন্য, সরকারের জন্য একটি অত্যন্ত দুরূহ কাজ। সুতরাং চিকিৎসক হিসেবে, আমাদের স্বাস্থ্য সেবার অভিভাবক হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই কিডনি রোগে প্রতিকারের ব্যাপারে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।

একটা আশার বিষয় হচ্ছে কিডনি রোগের চিকিৎসা যতটা ব্যয়বহুল কিডনি রোগ নির্ধারণ কিন্তু ততই সহজ একটি প্রক্রিয়া। শুধু একটি প্রস্রাবের পরীক্ষার মাধ্যমে একজন কিডনি রোগী শনাক্ত করতে অনেকখানি সক্ষম। আমরা যদি প্রতিটি ইউনিয়ন সাব সেন্টার, উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স, সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, ডায়াবেটিক কেয়ার সেন্টারগুলোতে এই তথ্য ও আবেদিক পেলোতে এই তথ্য এবং এই প্রযুক্তিটাকে পৌঁছে দিতে পারি তাহলে কিডনি রোগ শনাক্ত অনেকটাই সহজসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। কিডনি রোগের প্রতিকারও সক্ষমতার ভেতরে চলে আসবে।

র‍্যালিটির শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। এতে বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব ডা. মো. ফরহাদ হাসান চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল মুকীত, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. রেজাউল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. শাহনেওয়াজ দেওয়ান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেজবাহ উদ্দিন নোমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এর আগে ৮ মার্চ বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় বিএমইউ এর বি ব্লকের সম্মুখ প্রাঙ্গণ বটতলায় বিশ্ব কিডনি দিবস-২০২৬ এর প্রাক্কালে কিডনি রোগ সচেতনতামূলক ভ্রাম্যমাণ ছাদখোলা গাড়ির শুভ উদ্বোধন করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ শুরুতেই কিডনি রোগ চিহ্নিত না হলে রোগীর জন্য অনেক বড় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া ১১ মার্চ শের-ই-বাংলা নগরস্থ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ কিডনি ডিজিস অ্যান্ড ইউরোলজি-এর অডিটোরিয়ামে কিডনি রোগ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আহমেদ আযম খান শপথ নিলেন মন্ত্রী হিসেবে 

0
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন আহমেদ আযম খান
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন আহমেদ আযম খান

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা পৌনে একটার দিকে তিনি এই শপথ নেন। এর আগে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

এর আগে জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথ গ্রহণ করেন। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে আয়োজিত শপথ অনুষ্ঠানে তাদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

এর আগে সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচিত হন ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। হাফিজ উদ্দিন আহমদ এতদিন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এবং কায়সার কামাল ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তাসকিন ফিরে পেলেন বোলিংয়ের স্বীকৃতিসেই অবিশ্বাস্য বোলিংয়ের স্বীকৃতি

0
ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ
ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদ

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ক্রিকেটের অন্যতম জনপ্রিয় ওয়েবসাইটটি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২০২৫ সালের সেরা পারফরমার নির্বাচিত করেছে। তাসকিনের বোলিংটা ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে গত বছরের সেরা বোলিংনির্বাচিত হয়েছে। এছাড়া ছেলেদের বর্ষসেরা অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ও মেয়েদের বর্ষসেরা অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন হারমানপ্রীত কৌর।

লর্ডসে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ২০২৩-২৫ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ দক্ষিণ আফ্রিকা জেতে টেম্বা বাভুমার নেতৃত্বেই। তাতে করে ২৭ বছর পর কোনো আইসিসি ইভেন্টের শিরোপাখরা কেটে যায় প্রোটিয়াদের। আর হারমানপ্রীতের নেতৃত্বে ভারত প্রথমবারের মতো নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতেছে ২০২৫ সালেই। এছাড়া মেয়েদের আইপিএলেও মুম্বাইকে শিরোপা জেতান তিনি।

যে লর্ডসে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরে দক্ষিণ আফ্রিকা, সেই টেস্টে এইডেন মার্করামের ব্যাটিং ক্রিকইনফোর দৃষ্টিতে ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে বর্ষসেরা। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ২০৭ বলে ১৩৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মার্করাম। ১৯৯৮ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের ২৭ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকা আরও এক আইসিসি ইভেন্ট জেতায় লর্ডসে ফাইনালসেরা পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, অ্যাশেজে ইংল্যান্ডকে একাই গুঁড়িয়ে দেওয়া মিচেল স্টার্ক জিতেছেন টেস্টে সেরা বোলিংয়ের পুরস্কার। পার্থে মাত্র ৫৮ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন এই অজি গতিদানব। ওয়ানডে ব্যাটিংয়ে ইতিহাস গড়েছেন আফগানিস্তানের ইব্রাহিম জাদরান। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর করা ১৭৭ রানের ইনিংসটি বর্ষসেরা নির্বাচিত হয়েছে। ভারতের বরুণ চক্রবর্তী জিতেছেন ওয়ানডে বোলিংয়ের পুরস্কার।

লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম, শাহাদাত হোসেন দীপু, চতুরঙ্গ ডি সিলভা, আলাউদ্দিন বাবু, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, শুভম রানজানে—২০২৫ বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালসের এই সাত ব্যাটারের উইকেট নিয়েছিলেন তাসকিন। ৪ ওভারে ১৯ রানে ৭ উইকেট নিয়ে তাসকিন পেয়েছিলেন ম্যাচসেরারও পুরস্কার। বিপিএল ইতিহাসে দ্বিতীয় সেরা বোলিংয়ের কীর্তি মোহাম্মদ আমিরের। ২০২০ বিপিএলে রাজশাহী রয়্যালসের বিপক্ষে ৪ ওভারে ১৭ রানে ৬ উইকেট নেন আমির। সেবার তিনি খেলেছেন খুলনা টাইগার্সের হয়ে।

বিপিএলে ইনিংসে ৭ ও ৬ উইকেট নেওয়ার কীর্তি একটি করেই। ২৪ বার ঘটেছে ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি রয়েছে। তাসকিন দুই বার ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন।

এবারের পুরস্কারের জন্য জুরি বোর্ডে ছিলেন ইয়ান বিশপ, শেন বন্ড, ডেল স্টেইন ও আকাশ চোপড়ার মতো কিংবদন্তিরা। মোট ৮ জন ভারতীয় ক্রিকেটার বিভিন্ন বিভাগে সেরা হয়েছেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া থেকে ৩ জন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ২ জন ক্রিকেটার এই তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন।

একনজরে প্রধান বিজয়ীরা:

  • বর্ষসেরা অধিনায়ক (পুরুষ): টেম্বা বাভুমা (দক্ষিণ আফ্রিকা)
  • বর্ষসেরা অধিনায়ক (নারী): হারমানপ্রীত কৌর (ভারত)
  • টেস্ট ব্যাটিং: এইডেন মার্করাম (১৩৬ বনাম অস্ট্রেলিয়া)
  • টেস্ট বোলিং: মিচেল স্টার্ক (৭/৫৮ বনাম ইংল্যান্ড)
  • টি-টোয়েন্টি লিগ বোলিং: তাসকিন আহমেদ (৭/১৯, বিপিএল)
  • টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ব্যাটিং: ফিল সল্ট (১৪১ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা)
  • টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক বোলিং: কুলদীপ যাদব (৪/৩০ বনাম পাকিস্তান)

বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে প্রান গেল ১৩ জনের

0
বাগেরহাটে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষ
বাগেরহাটে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষ

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) উপজেলার খুলনা-মোংলা মহাসড়কের শ্যাওলাবুনিয়ায় বেলাই ব্রিজের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।নিহত ৮ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। বাকি ৪ জনের মরদেহ রামপাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই তিন নারীসহ ১২ জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আরও ১৫ জন গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা জানান, দ্রুতগতিতে চলাচলের সময় দুইটি যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষ হলে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সংসদের স্পিকার হলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ

0

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম তার নাম প্রস্তাব করেন, যা সমর্থন করেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম।সংসদের সভাপতি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাব সংসদের সামনে উপস্থাপন করেন এবং এটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।

বেলা ১১টার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এর আহ্বানে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে সংসদীয় নেতা তারেক রহমান ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য প্রস্তাব করেন। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা, সহ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এ প্রস্তাবে পূর্ণ সমর্থন জানান।

অন্যদিকে, বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, এই বিষয়ে আগে আলোচনা হলে তারা খুশি হতেন।

দেশের জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিপিসির নতুন সিদ্ধান্ত

0

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদেশ থেকে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিতভাবে জ্বালানি তেলের পার্সেল দেশে পৌঁছাচ্ছে। পাশাপাশি প্রধান স্থাপনা থেকে সারাদেশের বিভিন্ন ডিপোতে রেলওয়ে ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে জ্বালানি তেল পাঠানো হচ্ছে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এবং বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সরকারি সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের অধীন বিপণন কোম্পানিগুলোর প্রধান স্থাপনা ও ডিপো খোলা রাখা হবে এবং সেখান থেকে নিয়মিতভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে।

বিএনপি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চায়: প্রধানমন্ত্রী

0

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার পর সংসদে শুরু হওয়া প্রথম অধিবেশনে তিনি এ মন্তব্য করেন।বেগম খালেদা জিয়া ও শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি।

তিনি বলেন, দল–মত নির্বিশেষে আমি দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই বিএনপির লক্ষ্য। এভাবে বিএনপি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চায়।

সবার সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ায় কোনো বিরোধ থাকতে পারে না, বিরোধ নেই।

বক্তব্যের শেষে তারেক রহমান সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। এতে পূর্ণ সমর্থন জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আহ্বানে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়।

সাদাকাতুল ফিতর কি এবং কেন, আলোচনায় গাজী মুহিব্বুল্লাহ সিদ্দীকি

0

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম পালনের পর যেহেতু তা ভঙ্গ করা হয় এবং এ উপলক্ষে শরিয়ত কর্তৃক আরোপিত এই দান অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়, তাই একে সাদাকাতুল ফিতর নামে আখ্যায়িত করা হয়।

সাদাকাতুল ফিতর কেন আদায় করতে হয়-

অসহায় প্রতিবেশি ও স্বজনদের জন্য ফিতরা, দান-অনুদান ও উপহার সামগ্রী প্রদান আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়ারও অন্যতম মাধ্যম। রোজা পালনে কোনোভাবে যদি রোজার আংশিক ক্ষতি, ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়; তার সমাধান ও মুক্তির মাধ্যম হচ্ছে- সদাকাতুল ফিতর আদায় করা। যা আমাদের জন্য একান্ত আবশ্যকীয়।

রসুল সা. বলেছেন, দুটি কারণে সাদাকাতুল ফিতরকে উম্মতের জন্য অবধারিত করা হয়েছে। এক.অশ্লীল কথা ও অর্থহীন কাজ হতে মাহে রমজানের সাওমকে পবিত্র করার জন্য। দুই. গরিব-মিসকিনদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য। (সুনানে আবি দাউদ ১৬০৯)

সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের উপকারিতা:

সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের তাৎপর্য অত্যাধিক। এতে ধনী ও দরিদ্রদের মাঝে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়৷ একজন মুসলিম ঈদে আনন্দ করবে আর তার প্রতিবেশী না খেয়ে থাকবে, কষ্ট পাবে এরূপ ইসলামে কাম্য নয়। বরং ধনী গরিব নির্বিশেষে সকলের মাঝে সুসম্পর্ক ও হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামের আদর্শ।

দীর্ঘ একমাস সাওম পালনের পর, অসহায় দুস্থ মানুষের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার সুযোগ তৈরি হয় এই সাদাকাতুল ফিতরের মাধ্যমে। অপরদিকে সাদাকাতুল ফিতর এর মাধ্যমে একমাস সাওম পালনের সময় ত্রুটি বিচ্যুতিগুলোর কাফফারা আদায় হয়ে যায়। এতে রমজানের সাওমের পবিত্রতা রক্ষা পায়।

সাদাকাতুল ফিতর কারা দিবে-

প্রত্যেক মুসলমানের জন্য সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। নাবালক ছেলে-মেয়ের পক্ষ থেকে বাবাকে এ ফিতরা আদায় করে দিতে হবে। যেসব লোকের ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব, তাদের বিবরণ হাদিস শরিফে উল্লিখিত হয়েছে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, প্রত্যেক গোলাম, আজাদ, পুরুষ-নারী, প্রাপ্তবয়স্ক, অপ্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের ওপর রসুল সা. সাদাকাতুল ফিতর হিসেবে খেজুর হোক অথবা যব হোক এক ‘সা’ পরিমাণ আদায় করা অবধারিত করেছেন। ঈদের নামাজের জন্য বের হবার আগেই লোকজনকে তা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। (বুখারি ১৫১২)

সদকাতুল ফিতরের নিসাব জাকাতের নিসাবের সমপরিমাণ। অর্থাৎ কারো কাছে সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা অথবা তার সমমূল্যের নগদ অর্থ কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অতিরিক্ত সম্পদ ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় বিদ্যমান থাকলে তার ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। যাঁর ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব, তিনি নিজের পক্ষ থেকে যেমন আদায় করবেন, তেমনি নিজের অধীনদের পক্ষ থেকেও আদায় করবেন। তবে এতে জাকাতের মতো বর্ষ অতিক্রম হওয়া শর্ত নয়। (ফাতহুল ক্বাদির : ২/২৮১)

এমনকি পবিত্র রমজানের শেষ দিনেও যে নবজাতক দুনিয়ায় এসেছে কিংবা কোনো ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছে, তার যদি সম্পদ থাকে, তাহলে তার পক্ষ থেকেও সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে। (ফাতাওয়া আলমগিরি ১/১৯২)

সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ-

সদাকায়ে ফিতর সম্পর্কিত হাদিসসমূহে মোট পাঁচ প্রকার খাদ্যের বর্ণনা পাওয়া যায়, যব, খেজুর, পনির,কিসমিস ও গম। রসুল সা.-এর যুগে মোট চারটি পণ্য দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করা হতো। খেজুর, কিশমিশ, যব ও পনির। হযরত আবু সাঈদ খুদরি রা. বলেন, আমরা এক সা পরিমাণ খাদ্য অথবা এক সা পরিমাণ যব অথবা এক সা পরিমাণ খেজুর অথবা এক সা পরিমাণ পনির অথবা এক সা পরিমাণ কিশমিশ দিয়ে সদকাতুল ফিতর আদায় করতাম। (বুখারি ১৫০৬)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রসুল সা. মুসলিমদের স্বাধীন ও ক্রীতদাস পুরুষ ও নারী এবং ছোটো ও বড়ো সবার জন্য এক সা (প্রায় সাড়ে ৩ কেজি) খেজুর বা গম ফিতরা আবশ্যক করেছেন। (বুখারি ১৫০৩)

সাদাকাতুল ফিতর যব, খেজুর, পনির বা কিসমিস দ্বারা আদায় করলে প্রত্যেকের জন্য এক ‘সা’ দিতে হবে । আর গম বা গমের আটা বা গমের ছাতু দ্বারা আদায় করলে আধা ‘সা’ দিতে হবে।এটা হল ওজনের দিক দিয়ে তফাত।

আর মূল্যের দিক থেকে তো পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ গম,গমের আটা বা গমের ছাতু যদি হয়,তবে তা পৌনে দুই সের সাবধানতাবশত পুরো দুই সের দিতে হবে। এর সমপরিমাণ মূল্যও দেওয়া যায়।

আর যদি খেজুর,কিসমিস,যব,যবের ছাতু এসবের কোন একটি দ্বারা ফিতরা দেয়া হয়,তাহলে ৩ কিলো দেড়শ গ্রাম অথবা এর সমপরিমাণ মূল্য দিতে হবে।বর্ণিত যে বস্তুর হিসাবে দেওয়া হোক কিছু বেশি দেওয়াই ভালো। কারণ সামান্য কম হলে ফিতরা আদায় হবেনা। আর বেশি দিলে সওয়াব পাওয়া যায়। (আলমগীরী ১/১৯৩ ও দারুল উলুুুম ৬/৩২৬)

উল্লিখিত খাদ্যবস্তুর পরিবর্তে সেগুলোর কোনো একটিকে মাপকাঠি ধরে তার মূল্য আদায় করলেও তা আদায় হয়ে যাবে। মূল্যের দিক থেকে ওই খাদ্যবস্তুগুলোর মধ্যে তফাত থাকলেও সবচেয়ে কম দামের বস্তুকে মাপকাঠি ধরে যদি কেউ ফিতরা আদায় করে দেয়, তাহলেও তা আদায় হয়ে যাবে।