বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২৬
বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২৬
33.9 C
Dhaka

২৫ মন্ত্রী ও ১১ প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি 

0

নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের অনুমোদন দিয়ে ২৫ জন মন্ত্রী ও ১১ জন প্রতিমন্ত্রীকে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

৩৬ জনের তালিকা সম্বলিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ১১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) তাদেরকে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদে নিয়োগদান করেছেন।

মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া পূর্ণ মন্ত্রীর তালিকায় রয়েছেন- আ. ক. ম মোজাম্মেল হক, ওবায়দুল কাদের, নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, আসাদুজ্জামান খান, ডা. দীপু মনি, মো. তাজুল ইসলাম, মুহাম্মদ ফারুখ খান, আবুল হাসান মাহমুদ আলী, আনিসুল হক, হাছান মাহমুদ, আবদুস শহীদ, সাধন চন্দ্র মজুমদার, র আ ম ওবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী, আব্দুর রহমান, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, আবদুস সালাম, মহিবুল হাসান চৌধুরী, ফরহাদ হোসেন, ফরিদুল হক খান, জিল্লুল হাকিম, সাবের হোসেন চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, নাজমুল হাসান পাপন, ইয়াফেস ওসমান, ড. সামন্ত লাল সেন।

প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় রয়েছেন- বেগম সিমিন হোসেন রিমি, নসরুল হামিদ, জুনাইদ আহমেদ পলক, মো. আলী আরাফাত, মহিবুর রহমান, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জাহিদ ফারুক, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, রুমানা আলী, শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আহসানুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২২২টিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। একাদশ সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিকে পেছনে ফেলে স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ৬২ জন; যাদের মধ্যে ৫৯ জন আওয়ামী লীগেরই নেতা। আর জাতীয় পার্টির আসন অর্ধেকের বেশি কমে নেমেছে ১১টিতে। দুটিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগের শরিক দল জাসদ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এবং একটিতে জয় পেয়েছে কল্যাণ পার্টি। একটি আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে।

এদিকে, বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে নতুন মন্ত্রিসভায়। নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি বিদায়ী মন্ত্রিসভার অনেকেই। আর প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছেন ১৪ জন। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য ৩৭ জন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ শপথ নিচ্ছেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। ইতোমধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ১১ প্রতিমন্ত্রীর তালিকা প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

নতুন মন্ত্রিসভায় ৪ নারী 

0

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠিত হবে। নতুন সরকারের এ মন্ত্রিসভায় থাকছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ চার নারী।

নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ মন্ত্রী এবং ১১ জন প্রতিমন্ত্রী। ২৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে রয়েছেন দুইজন নারী। একজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আরেকজন দীপু মনি। শেখ হাসিনা টানা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। আর আওয়ামী লীগ সরকারের চতুর্থ মন্ত্রিসভায় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন দীপু মনি। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন দুই নারী সংসদ সদস্য। তাদের একজন হলেন রুমানা আলী। অন্যজন সিমিন হোসেন রিমি।

রুমানা আলী গাজীপুর-৩ আসনে নৌকা প্রতীকে ২৪ হাজার ৫২২ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ১৯৬ ভোট পেয়েছেন।

সিমিন হোসেন রিমি গাজীপুর-৪ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে ৮৯ হাজার ৭২৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আলম আহমেদ ৪৪ হাজার ৪৫ ভোট পেয়েছেন। সিমিন এই আসনে আগেকার সংসদ সদস্য তানজিম আহমদ সোহেল তাজের বড় বোন। সিমিন ও সোহেল তাজের বাবা বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ।

গত ৭ জানুয়ারি ২৯৯ আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ ২২২টি, জাতীয় পার্টি ১১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬১টি এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) একটি করে আসন পেয়েছে। একটি আসনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি।

এদিকে নতুন মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিদায়ী মন্ত্রিসভার ৩০ জন স্থান পাননি নতুন মন্ত্রিসভায়। আর প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছেন ১৪ জন। প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য ৩৭ জন।

এবার ২৮ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়লেন

0
অনালাইন ডেস্ক । জনতা মেইল
অনালাইন ডেস্ক । জনতা মেইল

আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী (দুজন টেকনোক্র্যাট) ও ১১ জন প্রতিমন্ত্রীর নাম জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ৩ জন উপমন্ত্রী ছিলেন। তফসিল ঘোষণার পর টেকনোক্র্যাট (সংসদ সদস্য নন এমন) দুজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করেন। তাঁরা হলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম। এর মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভায় শুধু ইয়াফেস ওসমান আছেন। স্থান পাননি মোস্তাফা জব্বার ও শামসুল আলম।

এ ছাড়া এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাননি তিনজন প্রতিমন্ত্রী। তাঁরা হলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। এই তিনজনও নতুন মন্ত্রিসভায় নেই। মন্ত্রিসভার বাকি সবাই সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন প্রতিমন্ত্রী এবারের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। এই তিনজনের নামও নেই নতুন মন্ত্রিসভায়।

এ ছাড়া বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে যাঁরা নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি, তাঁদের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছাড়া আছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চোধুরী, রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ।

 

প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে যাঁরা বাদ পড়েছেন, তাঁদের মধ্যে আরও আছেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেছা। এ ছাড়া দুজন উপমন্ত্রী বাদ পড়েছেন। তাঁরা হলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এবং পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম। অপর উপমন্ত্রী (শিক্ষা) মহিবুল হাসান চৌধুরী পদোন্নতি পেয়ে এবার পূর্ণ মন্ত্রী হচ্ছেন।

 

নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ১১

0
অনালাইন ডেস্ক । জনতা মেইল
অনালাইন ডেস্ক । জনতা মেইল

এর মধ্যে ২ জন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হচ্ছেন।

মন্ত্রিপরিষদে স্থান পেয়েছেন যারা-

১. আ. ক. ম মোজাম্মেল হক (গাজীপুর-১)

২. ওবায়দুল কাদের (নোয়াখালী-৫)

৩. নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন (নরসিংদী-৪)

৪. আসাদুজ্জামান খান (ঢাকা-১২)

৫. ডা. দীপু মনি (চাঁদপুর-৩)

৬. মো. তাজুল ইসলাম (কুমিল্লা-৯)

৭. মুহাম্মদ ফারুক খান (গোপালগঞ্জ-১)

৮. আবুল হাসান মাহমুদ আলী (দিনাজপুর-৪)

৯. আনিসুল হক (বাহ্মণবাড়িয়া-৪)

১০. মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ (চট্টগ্রাম-৭)

১১. মো. আব্দুস শহীদ (মৌলভীবাজার-৪)

১২. সাধন চন্দ্র মজুমদার (নওগাঁ-১)

১৩. র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩)

১৪. মো. আব্দুর রহমান (ফরিদপুর-১)

১৫. নারায়ন চন্দ্র চন্দ (খুলনা-৫)

১৬. আব্দুস সালাম (ময়মনসিংহ-৯)

১৭. মহিবুল হাসান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৯)

১৮. ফরহাদ হোসেন (মেহেরপুর-১)

১৯. ফরিদুল হক খান (জামালপুর-২)

২০. মো. জিল্লুল হাকিম (রাজবাড়ী-২)

২১. সাবের হোসেন চৌধুরী (ঢাকা-৯)

২২. জাহাঙ্গীর কবির নানক (ঢাকা-১৩)

২৩. নাজমুল হাসান (কিশোরগঞ্জ-৬)

এবং টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী দুজন হচ্ছেন-

২৪. স্থপতি ইয়াফেস ওসমান

২৫. সামন্ত লাল সেন

প্রতিমন্ত্রী

১. বেগম সিমিন হোমেন (রিমি) (গাজীপুর-৪)

২. নসরুল হামিদ (ঢাকা-৩)

৩. জুনাইদ আহমেদ পলক (নাটোর-৩)

৪. মোহাম্মদ আলী আরাফাত (ঢাকা-১৭)

৫. মো. মহিববুর রহমান (পটুয়াখালী-৪)

৬. খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (দিনাজপুর-২)

৭. জাহিদ ফারুক (বরিশাল-৫)

৮. কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (খাগড়াছড়ি)

১৯. বেগম রুমানা আলী (গাজীপুর-৩)

১০. শফিকুর রহমান চৌধুরী (সিলেট-২)

১১. আহসানুল ইসলাম (টিটু) (টাঙ্গাইল-৬)

নতুন মন্ত্রীরা আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণভবনে শপথ নেবেন। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। শপথগ্রহণ শেষে নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ নিজ নিজ শপথবাক্যে স্বাক্ষর করবেন।

এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ-সদস্য শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত দিয়ে তার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য সম্মতি দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরে জারি করা হয় প্রজ্ঞাপন।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ-সদস্য শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন এবং তার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।

এতে আরও বলা হয়, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে গণ্য হবে।

এর আগে, এদিন সকাল ১০টায় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ নবনির্বাচিত ২৯৮ জন সংসদ সদস্য।

তার আগে, সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথমে শপথ গ্রহণ করেন বর্তমান স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী।

এরপর স্পিকার হিসেবে তিনি শেখ হাসিনাসহ অন্য সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান। জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র হিসেবে বিজয়ীরাও এদিন শপথ নিয়েছেন।

 

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

0

বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১০ জানুয়ারি) সকালে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে মহান নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন সরকারপ্রধান। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দলের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরও একটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

এরপর যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু তার স্বপ্নের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বরাবরের মতো এবারও নানা কর্মসূচি আয়োজন করেছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল সাড়ে ৬টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে সংগঠনের সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে ৮টায় বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন।

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক জনসভার আয়োজন করেছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

আয়ানের মৃত্যু: ইউনাইটেডের পরিচালক ও দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

0

রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুলে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খতনা করাতে গিয়ে ‍মৃত্যু হয়েছে শিশু আয়ান আহমেদের। তার মৃত্যুর ঘটনায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে মামলা করেছে পরিবার।

মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) বাড্ডা থানায় মামলাটি করেন শিশুর বাবা মো. শামীম আহমেদ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিন গাজী।

তিনি বলেন, শিশু আয়ানের বাবা মো. শামীম আহমেদ অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে মামলাটি করেন। মামলায় ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুই চিকিৎসক ও পরিচালককে আসামি করা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এনেসথেসিয়া স্পেশালিস্ট ডা. সাইদ সাব্বির আহমেদ, হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. তাসনুবা মাহজাবিন। তবে হাসপাতালের পরিচালকের নাম জানা যায়নি।

শিশু আয়ানের বাবা শামীম বলেন, ‘আমরা অনেক বড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লড়ছি। কতটুকু সফল হবো জানি না। এ হাসপাতাল আমাদের বাসার কাছে, আর অনেক বড় প্রতিষ্ঠান দেখেই এখানে আসা। তারা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আগামীকাল মানববন্ধন করব, এরপর স্বাস্থ্য অধিদফতরে অভিযোগ জানাব।’

আয়ানের দাদা আবদুস সালাম কবীর বলেন, ‘আমরা এক কাপড়ে আছি গত ১০ দিন ধরে। আমার ফুটফুটে সুন্দর নাতিরে ওরা মেরে ফেলেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন জানাই, যেন তিনি আমাদের দিকে দেখেন। তিনি যাতে এর কোনো ব্যবস্থা নেন।’

এদিকে এ ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল ও মেডিকেল শাখার পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মাঈনুল আহসান জানান, মুগদা জেনারেল হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধানের নেতৃত্ব চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটির অন্য তিন সদস্যের মধ্যে একজন মুগদা হাসপাতালের এনেসথেসিয়া বিভাগের বিশেষজ্ঞ, আরেকজন মুগদা হাসপাতালেরই সহকারী পরিচালক। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন সহকারী পরিচালকও রয়েছেন এ কমিটিতে।

একনজরে বিপিএলের ৭ দলের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড

0

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দশম আসর মাঠে গড়াচ্ছে আগামী ১৯ জানুয়ারি থেকে। দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি এই টি-টোয়েন্টি লিগকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো দল গঠন করেছে।

বিপিএলের উদ্বোধনী দিনে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মুখোমুখি হবে দুরন্ত ঢাকা। ৭ দলের এই আসরে মোট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ৪৬টি। প্রায় দেড় মাসের এই আসরের পর্দা নামবে ১ মার্চ ফাইনালের মধ্য দিয়ে।

প্রত্যেক শুক্রবার দিনের ম্যাচ শুরু দুপুর ২টায়, রাতের ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়। শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৬ দিনই দিনের ম্যাচ শুরু হবে দুপুর দেড়টায়, রাতের ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। শুধু ফাইনাল ম্যাচের জন্য রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে।

এদিকে বিপিএলের এবারের আসরের ড্রাফটে ৭ ক্যাটাগরিতে মোট ২০৩ জন দেশি ক্রিকেটারকে রাখা হয়েছিল। আর ৫ ক্যাটাগরিতে বিদেশি ক্রিকেটার ছিলেন ৪৪৮ জন। এর আগে একজন দেশি এবং একাধিক বিদেশি ক্রিকেটারকে সরাসরি চুক্তিতে দলে ভেড়ানোর সুযোগ পেয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। এ ছাড়া গত আসর থেকে ৩ জন ক্রিকেটার করে ধরে রাখারও সুযোগ ছিল তাদের।

একনজরে দেখে নেয়া যাক, বিপিএলের দশম আসরে ৭ দলের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড…

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স

রিটেইন ও ডিরেক্ট সাইনিং: লিটন দাস, মোস্তাফিজুর রহমান, তানভীর ইসলাম, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সুনীল নারাইন, তাওহিদ হৃদয়, মঈন আলী, আন্দ্রে রাসেল, ইফতিখার আহমেদ, জামান খান, খুশদিল শাহ, জনসন চার্লস, নুর আহমেদ, নাসিম শাহ, রশিদ খান।

ড্রাফট : মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, জাকের আলী, মাহিদুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, রাকিম কর্নওয়াল, ম্যাথু ওয়াল্টার ফোর্ড, ইমরুল কায়েস, মুশফিক হাসান, এনামুল হক।

রংপুর রাইডার্স

রিটেইন ও ডিরেক্ট সাইনিং : নুরুল হাসান সোহান, শেখ মাহেদী হাসান, হাসান মাহমুদ, আজমাতউল্লাহ ওমরজাই, নিকলাস পুরান, সাকিব আল হাসান, বাবর আজম, এহসানউল্লাহ, মাথিশা পাথিরানা, ব্রেন্ডন কিং, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা।

ড্রাফট : রনি তালুকদার, শামীম হোসেন, রিপন মণ্ডল, হাসান মুরাদ, মিশেল রিপন, ইয়াসির মোহাম্মদ, আবু হায়দার, ফজলে রাব্বি, আশিকুজ্জামান।

দুর্দান্ত ঢাকা

রিটেইন ও ডিরেক্ট সাইনিং : তাসকিন আহমেদ, আরাফাত সানি, শরীফুল ইসলাম, মোসাদ্দেক হোসেন, চতুরঙ্গা ডি সিলভা, সায়েম আইয়ুব, উসমান কাদির।

ড্রাফট : সাইফ হাসান, ইফরান শুক্কুর, আলাউদ্দিন বাবু, মেহরব হোসেন, লাহিরু সামারাকুন, সাদিরা সামারাবিক্রমা, মোহাম্মদ নাঈম, সাব্বির হোসেন, জসিমউদ্দিন।

ফরচুন বরিশাল

রিটেইন ও ডিরেক্ট সাইনিং : মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজ, খালেদ আহমেদ, ইব্রাহিম জাদরান, তামিম ইকবাল, শোয়েব মালিক, পল স্টার্লিং, ফখর জামান, মোহাম্মদ আমির, আব্বাস আফ্রিদি, দুনিত ভেল্লালাগে।

ড্রাফট : মুশফিকুর রহিম, রকিবুল হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, সৌম্য সরকার, ইয়ানিক ক্যারিয়াহ, কামরুল ইসলাম, প্রিতম কুমার, তাইজুল ইসলাম, প্রান্তিক নওরোজ, দিনেশ চান্ডিমাল।

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স

রিটেইন ও ডিরেক্ট সাইনিং : শুভাগত হোম, জিয়াউর রহমান, নিহাদউজ্জামান, শহীদুল ইসলাম, মোহাম্মদ হারিস, নাজিবউল্লাহ জাদরান, মোহাম্মদ হাসনাইন, স্টিভ এসকিনাজি।

ড্রাফট : তানজিদ হাসান তামিম, আল আমিন হোসেন, সৈকত আলী, ইমরানুজ্জামান, কার্টিস ক্যাম্ফার, বিলাল খান, শাহাদাত হোসেন, সালাউদ্দিন শাকিল।

খুলনা টাইগার্স

রিটেইন ও ডিরেক্ট সাইনিং : নাসুম আহমেদ, নাহিদুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান, এনামুল হক, এভিন লুইস, ফাহিম আশরাফ, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা, শাই হোপ, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র।

ড্রাফট : আফিফ হোসেন, রুবেল হোসেন, পারভেজ হোসেন, হাবিবুর রহমান, কাসুন রাজিতা, দাসুন শানাকা, মুকিদুল ইসলাম, আকবর আলী, সুমন খান।

সিলেট স্ট্রাইকার্স

রিটেইন ও ডিরেক্ট সাইনিং : মাশরাফি বিন মুর্তজা, জাকির হাসান, তানজিম হাসান, নাজমুল হোসেন, রায়ান বার্ল, বেন কাটিং, হ্যারি টেক্টর।

ড্রাফট : মোহাম্মদ মিঠুন, রেজাউর রহমান, আরিফুল হক, ইয়াসির আলী, রিচার্ড এনগারাভা, দুশান হেমন্ত, নাজমুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, নাঈম ইসলাম, জাওয়াদ রোয়েন, সালমান হোসেন।

মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির জন্য জরুরি: অর্থমন্ত্রী

0

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রতিবেশী যেকোনো দেশের তুলনায় ভালো আছে। তাঁর দাবি, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও নানা সংকটের মধ্যেও এ সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। মূল্যস্ফীতিকে অর্থনীতির জন্য জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।

তাঁর মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও যথেষ্ট ভালো আছে। তবে রিজার্ভে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নিট বা গ্রস—উভয় হিসাবেই বাংলাদেশ ভালো অবস্থায় আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) রিজার্ভের যে লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে, সেটা আমরা পূরণ করতে পারিনি। আইএমএফের লক্ষ্যমাত্রা কখনো পূরণ করা যাবে না। দেশে যত প্রবাসী আয় আসে, তা দ্বিগুণ করা সম্ভব। এত টালমাটাল পরিস্থিতির পরও দেশের রিজার্ভ ২৫-২৬ বিলিয়ন ডলার। এ বছর আমরা তা কোনোভাবেই ৩০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামতে দেব না। এটা সম্ভব।’

ব্যাংকের সুদহার বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘সুদহার আগের পর্যায়ে রেখে দিলে এখন তা ২২-২৪ শতাংশে উঠে যেত। তাতে আমাদের অর্থনীতি ও দেশের মানুষ হারিয়ে যেত, কিন্তু আমরা তা হতে দিইনি।’

কিন্তু সুদহার আবার বাড়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সুদহার বাড়ছে, তা ঠিক। বাজার যদি তা নিতে পারে, তাহলে কেন বাড়বে না? কিন্তু সুদহার যখন বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, সে সময় ছোট, মাঝারি, এমনকি বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে বেশি সুদ দেওয়া সম্ভব ছিল না। এরপর খেলাপি ঋণ বেড়ে গেলে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়িয়ে আমরা তা বাড়তে দিইনি। কিছু ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে বলে পত্রিকা থেকে জেনেছি, তা থাকবে না।’

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলেছে, ২০০৮ থেকে ২০২৩—এই ১৫ বছরে দেশের ব্যাংক খাত থেকে ছোট–বড় ২৪টি অনিয়মের মাধ্যমে ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এটিকে তারা অনিয়মের খুব ক্ষুদ্র চিত্র বলে উল্লেখ করেছে। এ বিষয়ে নতুন সরকারের কোনো পরিকল্পনা থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন সরকার এখনো গঠিত হয়নি। ফলে এখনই এ বিষয়ে কিছু বলা সমীচীন হবে না।’

সিপিডির পরামর্শের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন দায়িত্ব নিই তখনই তাদের বলেছি, আপনারা এর মধ্যে আসবেন না। তারা বারবার বলেছে, ডিভ্যালু (টাকা অবমূল্যায়ন) করেন। তা না করলে টিকতে পারবেন না। আমরা সেটা শুনিনি। আমরা তো টিকে আছি! আমরা কি না খেয়ে আছি? বাজারে জিনিসপত্র তো পাওয়া যাচ্ছে। বাজার থেকে কোনো জিনিস অবিক্রীত ফেরত আসে?’

এ সময় মূল্যস্ফীতির প্রসঙ্গ তুললে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির জন্য জরুরি। যাঁরা অর্থনীতি নিয়ে ওইভাবে চিন্তা করেন না, তাঁরা মূল্যস্ফীতি না চাইতে পারেন। ৮–১০ বছরের মতো মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রেখেছি। এর চেয়ে ভালো আর হতে পারে না।’

নতুন সরকারের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ কী হতে পারে, সেই প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা নতুন সরকার জানে। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারের চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনীতি। অর্থনীতিতে গুরুত্ব দেয়া হবে।’

 

সংসদের বিরোধী দল হচ্ছে কে

0
অনালাইন ডেস্ক । জনতা মেইল
অনালাইন ডেস্ক । জনতা মেইল

আওয়ামী লীগের নৌকা যে টানা চতুর্থবার জয়ের বন্দরে ভিড়তে যাচ্ছে, তা নিয়ে কোনো সংশয় কারো ছিল না। জল্পনা-কল্পনা ছিল দ্বিতীয় অবস্থান নিয়ে, সেখানে চমক দেখালেন আওয়ামী লীগেরই স্বতন্ত্ররা। বিএনপিসহ নিবন্ধিত ১৫টি দলের বর্জনের মধ্যে তুলনামূলকভাবে কম ভোটারের উপস্থিতিতে ‘শান্তিপূর্ণ’ নির্বাচনে আবারও দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে আওয়ামী লীগ; ভোট হওয়া ২৯৮ আসনের মধ্যে ২২৩টি পেয়ে টানা চতুর্থবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দলটি। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। আর এবার নিয়ে টানা চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তিনি।

তবে ভোটের পর প্রাপ্ত ফল দেখে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে জাতীয় সংসদে বিরোধী দল কে হবে বা কারা হবে? এ পর্যন্ত ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২২৩টিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীনদের পর সবচেয়ে বেশি জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, ৬১টি আসনে (যাদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের নেতা)। সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি জয় পেয়েছে ১১টি আসনে। আর অন্যান্য দলের মধ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি জিতেছে একটি করে আসনে। প্রশ্ন হচ্ছে- সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এত কম আসনে জয়ী হওয়ায় বিরোধী দল কে হবে?

নির্বাচনের আগে অনেক নাটকীয়তা, দেনদরবার দেখেছে দেশবাসী। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ২৬টি আসনে ছাড় পেয়েছিল জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা)। সব মিলে এবার ২৬৫টি আসনে প্রার্থী ছিল দলটির। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া ২৬ আসনের ১১টিতে জিততে পেরেছেন জাপার প্রার্থীরা। সমঝোতার বাইরে কোনো আসনে দলের প্রার্থী জিততে পারেননি।

বর্তমানে দলটির ২৩ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য রয়েছেন। আর সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য রয়েছেন চারজন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কমে হয়েছে ১১।

আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ২৬ আসনে ছাড় পেলেও ভরাডুবি হয়েছে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির। ছাড়ের আসনে নৌকার প্রার্থী না থাকলেও ১৫টিতে স্বতন্ত্রদের বিরুদ্ধে হেরেছে লাঙ্গল। জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের স্ত্রী শেরিফা কাদেরসহ অন্তত চারজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে সমঝোতার আসনে।

নির্বাচনের সকালে জি এম কাদের বলেছেন, ‘নির্বাচনে ডেকে এনে জাতীয় পার্টিকে কোরবানি দেওয়া হয়েছে।’

ফলে আগামী সংসদে আর দ্বিতীয় বৃহত্তম দল থাকছে না জাপা। লাঙ্গলের চেয়ে স্বতন্ত্রের এমপি বেশি হবে দ্বাদশ সংসদে। ফলে জাপা ফের বিরোধী দল হতে পারবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বহুবার বলেছেন, আওয়ামী লীগকে হারিয়ে তার দল সরকার গঠন করবে।

বিএনপিবিহীন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে ৩৪ আসন পেয়ে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দল হয়েছিল জাপা। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে বিএনপির প্রায় চার গুণ ২২ আসন পেয়ে ফের বিরোধী দল হয় দলটি। এবারও বিএনপিবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে জাপা। কিন্তু ডামি প্রার্থীদের ভিড়ে দলটি পেয়েছে মাত্র ১১ জন সংসদ সদস্য।

প্রসঙ্গত, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ২৮টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। তার মধ্যে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ২৯৮টি আসনের ফলাফল বিশ্লেষন করে দেখা গেছে, তিনটি দলের প্রার্থীরা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। দল তিনটি হলো- আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও কল্যাণ পার্টি। বাকি ২৫টি দলের কোনো প্রার্থী জয়ের দেখা পাননি। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া ২৮টি দলের মধ্যে ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ ৩৯টি আসনে, ইসলামী ঐক্যজোট ৪২টি আসনে, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ৩০টি আসনে, গণফোরাম ৯টি আসনে, গণফ্রন্ট ২১টি আসনে, জাকের পার্টি ২১টি আসনে, জাতীয় পার্টি ২৬৫টি আসনে, জাতীয় পার্টি-জেপি ১৩টি আসনে, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ ৬৬টি আসনে, তৃণমূল বিএনপি ১৩৫টি আসনে, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) ১২২টি আসনে, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ ১০টি আসনে, আওয়ামী লীগ ২৬৬টি আসনে, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ৩৭টি আসনে, বাংলাদেশ কংগ্রেস ৯৬টি আসনে, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ১৬টি আসনে, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১১টি আসনে, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ৫টি আসনে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম ৫৬টি আসনে, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ৩৮টি আসনে, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ ৫টি আসনে, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট ৪৫টি আসনে, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ৪টি আসনে, সুপ্রিম পার্টি ৭৯টি আসনে, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট ৬৩টি আসনে, ওয়ার্কার্স পার্টি ২৬টি আসনে, সাম্যবাদী দল ৪টি আসনে ও গণতন্ত্রী পার্টি ১০টি আসনে প্রার্থী দেয়। আর স্বতন্ত্র ৪৩৬ জনসহ নির্বাচনে ১৯৭১ জন প্রার্থী অংশ নেয়।

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ বৃহস্পতিবার

0

টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আর সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দলের প্রধান হিসেবে পঞ্চমবার প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন শেখ হসিনা।

সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা বুধবার সকালে জাতীয় সংসদভবনে শপথ নেবেন। তারপর বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ। ওইদিন সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন।

বুধবার (০৯ জানুয়ারি) বিকেলে মন্ত্রিপিরষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আগামীকাল (বুধবার) সংসদ সদস্যদের শপথ। কেবিনেটের শপথ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে কারা মন্ত্রী হচ্ছেন তা এখনই বলা যাচ্ছে না। এ আয়োজনে ১৩-১৪শ’ মানুষকে দাওয়াত দেয়া হবে।

বুধবার সকাল দশটায় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা শপথ নেবেন। শপথের পর দুপুর বারোটায় আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠক হবে। সংসদীয় দলের বৈঠকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা।

এই আনুষ্ঠানিকতার পর সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।

সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেয়ার এখতিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ তিনিই পড়াবেন। আর শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

শপথ অনুষ্ঠানে সাধারণত শপথ নিতে যাওয়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পরিবারের সদস্যরাও থাকেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংবিধানিক সংস্থাগুলোর প্রধান, বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত থাকেন।