বুধবার, জানুয়ারি ২১, ২০২৬
বুধবার, জানুয়ারি ২১, ২০২৬
20 C
Dhaka
Homeজীবনযাপনহার্টের ঝুঁকি থেকে বাচতে চিকিৎসকের ৫টি পরামর্শ মেনে চলুন বছরের শুরু থেকেই  

হার্টের ঝুঁকি থেকে বাচতে চিকিৎসকের ৫টি পরামর্শ মেনে চলুন বছরের শুরু থেকেই  

প্রকাশ: জানুয়ারি ২, ২০২৬ ১২:৫৯

নতুন বছর মানেই নতুন আশা, নতুন পরিকল্পনা। বছরের শুরুতে আমরা অনেকেই নিজের সঙ্গে নিজেরই কিছুপ্রতিশ্রুতি করি এ বছর শরীরের যত্ন নেব, একটু বেশি হাঁটব, খাবার-দাবারে নিয়ন্ত্রণ আনব, মানসিক চাপ কমাব। কিন্তু এই সব সংকল্পের ভিড়ে অনেক সময় যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত থেকে যায়, সেটিই আমাদের হার্ট।

আমাদের শরীরের কেন্দ্রবিন্দু হার্ট। নিঃশব্দে, নিরলসভাবে সে রক্ত পাম্প করে শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দেয়। অথচ বিশ্বজুড়ে হৃদরোগ এখনো মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। বসে থাকার অভ্যাস, অস্বাস্থ্যকর খাবার, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ সব মিলিয়ে কম বয়সীদের মধ্যেও বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি। তাই ২০২৬ সালে নতুন বছরের সংকল্পের তালিকায় হার্টের যত্নকে রাখা জরুরি।ম্যাক্স স্মার্ট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, সাকেত-এর কার্ডিওলজি বিভাগের প্রিন্সিপাল ডিরেক্টর ও ইউনিট হেড ডা. রিপেন গুপ্ত বলেন, বড় পরিবর্তনের চেয়ে ছোট কিন্তু ধারাবাহিক অভ্যাসের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত। এখন লক্ষ্য হচ্ছে ‘প্রি-হ্যাব’ অর্থাৎ রোগ হওয়ার আগেই প্রতিরোধ। চলুন, ২০২৬ সালে সুস্থ হার্টের জন্য চিকিৎসকের দেয়া ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সংকল্প জেনে নিই

  • রক্তচাপের ‘নতুন স্বাভাবিক’ মান বুঝে নিন

২০২৫ সালের আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন ও আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১২০/৮০ এমএমএইচজি রক্তচাপকেও এখন সতর্কতার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন বছর নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন। চেষ্টা করুন প্রতি তিন মাস অন্তর রক্তচাপ মাপার। যদি রিডিং ১২৫/৮০-এ পৌঁছে যায়, তাহলে ওষুধের অপেক্ষা না করে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনুন নিয়মিত হাঁটা, লবণ কমানো ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ শুরু করুন।

  • নিয়মিত নড়াচড়া করুন, শুধু হাঁটাতেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না

হার্টের সুস্থতা মানে শুধু প্রতিদিন কত ধাপ হাঁটলেন, তা নয় হার্টের পেশিকে শক্তিশালী করাও জরুরি। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করুন। এর পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত একদিন উচ্চমাত্রার ব্যায়াম করুন। সপ্তাহে দুই দিন হালকা ওজন তুললে বিপাকক্রিয়া ভালো থাকে, যা হৃদয়ের ওপর চাপ কমায়।

  • ঘুমকে ওষুধের মতো গুরুত্ব দিন

অপর্যাপ্ত ও অনিয়মিত ঘুম এখন শুধু ক্লান্তির কারণ নয়, এটি উচ্চ রক্তচাপ ও ধমনিতে প্লাক জমার ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান ও উঠুন। ৭–৮ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করুন। গবেষণা বলছে, নিয়মিত ঘুম ও জাগার সময় হৃদয়ের ছন্দ ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

গরম পানি নাকি কুসুম গরম? শীতে গোসল নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ

  • তেল কমান, লবণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয়দের হৃদ্‌রোগের জেনেটিক ঝুঁকি বেশি। তাই প্রদাহ কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিনে অন্তত একবেলা তেল ছাড়াই রান্না করা খাবার খান। লবণ সীমিত রাখুন দিনে সর্বোচ্চ ৫ গ্রাম। চিপস বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে আখরোট, তিসি বীজ, বেরিজাতীয় ফল রাখুন খাদ্যতালিকায়।

  • ছোট ছোট বিরতিতে মানসিক চাপ কমান

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল বাড়ায়, যা ধমনিকে শক্ত করে তোলে। ছুটির অপেক্ষায় না থেকে দিনে তিনবার ৫ মিনিটের ‘রিসেট’ নিন। গভীর শ্বাস নিন, একটু হাঁটুন বা চোখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করুন এতেই হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।

ডা. রিপেন গুপ্ত বলেন, ২০২৬ সালে হার্টের স্বাস্থ্য মানে হঠাৎ বড়ো পরিবর্তন নয়, বরং প্রতিদিনের ছোট অঙ্গীকার। হৃদয় নতুন বছরের চমক চায় না, চায় প্রতিদিনের যত্ন। নতুন বছরের উদ্দীপনায় যখন আমরা জীবনের নানা দিক বদলানোর পরিকল্পনা করছি, তখন হার্টের সুস্থতা নিয়েও ভাবা উচিত। কারণ হার্ট ভালো রাখতে কিছু ছোট অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর