পুরুষদের মধ্যে শরীরের লোম ট্রিমিং বা শেভ করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। কেউ পরিচ্ছন্নতা ও আরামের জন্য, কেউ আবার সৌন্দর্যচর্চা কিংবা খেলাধুলার সুবিধার্থে এই অভ্যাস অনুসরণ করেন। তবে প্রশ্ন থেকে যায় শরীরের লোম ট্রিম বা শেভ করা কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, নাকি এটি শুধুই ব্যক্তিগত পছন্দ?
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের লোম থাকা বা না থাকা সরাসরি ভালো বা খারাপ স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বরং নিয়মিত গোসল, ত্বক পরিষ্কার রাখা এবং সঠিক পরিচর্যাই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের লোম মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক বৈশিষ্ট্যের অংশ এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে এটি কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে শরীরের লোম ছোট করে রাখলে ঘাম ও দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে বগলের মতো স্থানে লোম বেশি থাকলে ঘাম আটকে গিয়ে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায়, যা দুর্গন্ধের কারণ হতে পারে।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সিং বলেন, লোম ট্রিম করে রাখলে ঘাম কম জমে এবং ত্বক পরিষ্কার রাখা সহজ হয়। ফলে গরমের সময় দুর্গন্ধ কিছুটা কমতে পারে। এ কারণেই অনেক ক্রীড়াবিদ ও ফিটনেস সচেতন ব্যক্তি শরীরের লোম ট্রিম করে রাখেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের লোম ট্রিম বা শেভ করলে সরাসরি কোনো স্বাস্থ্যগত উপকার পাওয়া যায় না এবং এটি কোনো রোগ প্রতিরোধও করে না। যদিও এটি ব্যক্তিগত আরাম ও পরিচ্ছন্নতার অনুভূতি বাড়াতে পারে, তবে লোম অপসারণের ফলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত হয় এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
ডা. সিংয়ের ভাষ্য, ট্রিমিং দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ ও স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে সহায়ক হতে পারে, তবে এর উল্লেখযোগ্য কোনো চিকিৎসাগত সুবিধা নেই।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভুলভাবে শেভ করলে ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে, ত্বক কেটে যাওয়া, রেজর বার্ন, ত্বকে জ্বালা ও র্যাশ, ইনগ্রোন হেয়ার ও হেয়ার ফলিকলের সংক্রমণ।
বিশেষ করে সংবেদনশীল স্থানে শেভ করার সময় এসব ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, শেভ করার সময় কিছু বিষয় মেনে চললে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। যেমন: পরিষ্কার ও ধারালো রেজর ব্যবহার করা, শেভিং জেল বা ফোম ব্যবহার করা, লোমের বৃদ্ধির দিক অনুসরণ করে শেভ করা, শেভের পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা, অন্যের রেজর ব্যবহার না করা এবং নিয়মিত ব্লেড পরিবর্তন করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের লোম ট্রিম বা শেভ করা স্বাস্থ্যগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। এটি মূলত ব্যক্তিগত পছন্দ, আরাম ও পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিষয়। লোম রাখা বা অপসারণ দুটোর কোনোটিই সরাসরি স্বাস্থ্য উন্নত বা রোগ প্রতিরোধ করে না। তবে সঠিক পরিচর্যা ও নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করলে ট্রিমিং বা শেভ থেকে আরাম ও পরিচ্ছন্নতার সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ত্বকের যথাযথ যত্ন নেওয়া।
সূত্র: এনডিটিভি


