তার মতে, অনিয়মিত হাঁটা নয় বরং সঠিক লক্ষ্যের অভাবেই মূলত কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায় না।
আঞ্জলি সচানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শরীরের এক কেজি ফ্যাট প্রায় ৭ হাজার ৭০০ ক্যালোরির সমান। এটি কোনো সাময়িক ওজন বা পানি নয়, বরং শরীরে জমে থাকা প্রকৃত চর্বি। তাই এই চর্বি ঝরানোর প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ হলেও এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, একজন ব্যক্তি গড়ে প্রতি এক হাজার ধাপ হাঁটলে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ ক্যালোরি খরচ করতে পারেন। হাঁটার সময় শরীরের পেশি সক্রিয় হওয়া, ভারসাম্য রক্ষা করা এবং হৃদস্পন্দনের গতি বাড়ার ফলে এই ক্যালোরি ব্যয় হয়।
হিসাব অনুযায়ী, শুধুমাত্র হাঁটার মাধ্যমে এক কেজি ফ্যাট ঝরাতে চাইলে একজন ব্যক্তিকে মোট ১ লাখ ২৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ধাপ হাঁটতে হবে। সংখ্যাটি আপাতদৃষ্টিতে বিশাল মনে হলেও দৈনন্দিন রুটিনে এটি অর্জন করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞের মতে, কেউ যদি প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার ধাপ হাঁটেন, তবে মাত্র ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যেই ১ কেজি ফ্যাট ঝরানো সম্ভব। এই হিসেবে ডায়েট বা অন্যান্য কঠিন ব্যায়াম ছাড়াই নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমে ওজন কমানো যায়।
ফ্যাট কমানোর ক্ষেত্রে হাঁটাকে কেন সবথেকে কার্যকর মনে করা হয় তারও কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন আঞ্জলি সচান।
তিনি জানান, ভারী ব্যায়ামের তুলনায় হাঁটা শরীরের ওপর খুব বেশি ধকল তৈরি করে না এবং অতিরিক্ত ক্ষুধার উদ্রেক করে না। এটি শরীরের হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করে।
ফ্যাট কমানোকে তিনি কোনো সাময়িক ম্যাজিক নয় বরং একটি জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। ছোট ছোট দৈনিক অভ্যাসের মাধ্যমেই সুস্থ ও কার্যকরভাবে শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।


