চর্ম বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ত্বকের গভীর থেকে ময়লা পরিষ্কার করতে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে
দারুণ কার্যকর। তবে এই পদ্ধতির যেমন জাদুকরী উপকারিতা রয়েছে, তেমনি সঠিক নিয়ম না মানলে এর কিছু ক্ষতিকর দিকও দেখা দিতে পারে।
তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারী যারা, তাদের জন্য স্টিম থেরাপি একটি আদর্শ সমাধান। বাইরের ধুলাবালি ও ময়লা জমে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে যে ব্রণ বা কালচে ছোপ সৃষ্টি হয়, ভাপ নিলে সেই লোমকূপগুলো খুলে যায় এবং জমে থাকা মৃত কোষ সহজে দূর হয়। এছাড়া ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডসের সমস্যা নির্মূল করতেও এই পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর; কারণ ভাপের ফলে এগুলো নরম হয়ে যায় এবং সহজেই ত্বক থেকে বেরিয়ে আসে।
গরমের দিনে ত্বক যখন ক্লান্ত ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তখন স্টিম থেরাপি ত্বকে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে সতেজতা ফিরিয়ে আনে। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রেও এটি আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষ করে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের আগে ভাপ নিলে তা ত্বকের গভীরে গিয়ে কাজ করে এবং ত্বককে আরও কোমল করে তোলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ভাপ নিলে ত্বকে কোলাজেন ও এলাস্টিনের উৎপাদন বেড়ে যায়, যা চামড়া কুঁচকে যাওয়া রোধ করে এবং ত্বককে রাখে মসৃণ ও টানটান। এমনকি ব্রণের সমস্যা কমাতে গরম পানির মধ্যে নিমপাতা দিয়ে ভাপ নেওয়ার পরামর্শও দেন তারা।
তবে স্টিম থেরাপির কিছু সতর্কতা অবশ্যই মানতে হবে। চর্ম বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিষ্কার ত্বকে কখনোই ভাপ নেওয়া উচিত নয়। এতে বাইরের ময়লা খোলা লোমকূপের ভেতরে ঢুকে হিতে বিপরীত হতে পারে।
তাই স্টিম নেওয়ার আগে অবশ্যই ভালো ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এছাড়া অতিরিক্ত ভাপ নেওয়া ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে; এতে লোমকূপের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয়।
তাই প্রতিদিন না নিয়ে একদিন অন্তর ভাপ নেওয়া এবং এরপর ফেসপ্যাক ও ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। সঠিক নিয়ম মেনে স্টিম থেরাপি নিলে ত্বকের হারানো জেল্লা ফিরে পাওয়া সম্ভব।


