শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২৬
শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২৬
28 C
Dhaka
Homeজীবনযাপননতুন ভাইরাস মাম্পস নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ

নতুন ভাইরাস মাম্পস নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ

প্রকাশ: মার্চ ১৪, ২০২৬ ৯:০১

যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বাড়ছে সংক্রামক রোগের উদ্বেগ। হামের পাশাপাশি এবার বাড়ছে মাম্পস বা গালগণ্ড রোগের সংক্রমণ। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, টিকাদানের হার কমে যাওয়ার কারণেই টিকায় প্রতিরোধযোগ্য কিছু রোগ আবারও ফিরে আসছে। ফলে নতুন করে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

মাম্পস একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত মাম্পস ভাইরাসের কারণে হয়। সাধারণত শিশুদের মধ্যে এ রোগবেশি দেখা গেলেও যে কোনো বয়সেই এটি হতে পারে। তবে সুখবর হলো টিকা নিলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেখানে মাম্পসের ২৬টি সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৯টি নিশ্চিত এবং সাতটি সম্ভাব্য সংক্রমণ। আক্রান্তদের বেশিরভাগই প্রাপ্তবয়স্ক এবং তাদের বড় একটি অংশ বাল্টিমোর অঞ্চলের বাসিন্দা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ দেশের অন্তত ১১টি অঞ্চলে মাম্পসের ৩৪টি সংক্রমণের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।

মাম্পসের লক্ষণ

ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার প্রায় দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রে লক্ষণ খুব হালকা হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায়। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

কান ও গালের সামনে লালাগ্রন্থি ফুলে যাওয়া ও ব্যথা

  • খাবার চিবাতে অসুবিধা
  • জ্বর
  • মাথাব্যথা
  • পেশিতে ব্যথা
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • ক্ষুধামন্দা
  • কিছু ক্ষেত্রে পুরুষদের অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা

যেভাবে ছড়ায় এই ভাইরাস

মাম্পস ভাইরাস সাধারণত একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির লালা বা শ্বাসতন্ত্রের ফোঁটার মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটে। যেমন—

  • হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে
  • একই কাপ, গ্লাস বা খাবারের পাত্র ব্যবহার করলে
  • কাছাকাছি বসবাস বা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে
  • খেলাধুলা, নাচ বা চুম্বনের মতো ঘনিষ্ঠ কার্যকলাপে
  • যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যারা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করেন বা যারা টিকা নেননি তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল বা ঘনবসতিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীরাও বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

মাম্পসের সম্ভাব্য জটিলতা: যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগটি সেরে যায়, তবুও কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন—

  • মস্তিষ্ক বা মস্তিষ্কের আবরণে প্রদাহ
  • অণ্ডকোষে প্রদাহ, যা কখনো কখনো প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে
  • স্তনে প্রদাহ
  • ডিম্বাশয়ে প্রদাহ
  • অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ
  • শ্রবণশক্তি হ্রাস
  • সন্ধিতে প্রদাহ
  • থাইরয়েড গ্রন্থিতে প্রদাহ
  • প্রতিরোধের উপায়

মাম্পস প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। শিশুদের সাধারণ টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাম, মাম্পস ও রুবেলা প্রতিরোধী যৌথ টিকা দেওয়া হয়। এই টিকা সাধারণত দুই ধাপে দেয়া হয়—

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব প্রাপ্তবয়স্কের শরীরে মাম্পসের প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রমাণ নেই, তাদেরও অন্তত এক ডোজ টিকা নেয়া উচিত। বিশ্বজুড়ে সংক্রামক রোগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় চিকিৎসকেরা বলছেন, নিয়মিত টিকা নেওয়া এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই এমন ভাইরাসজনিত রোগ থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সূত্র: এনডিটিভি

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর