শনিবার, মার্চ ২৮, ২০২৬
শনিবার, মার্চ ২৮, ২০২৬
26 C
Dhaka
Homeজীবনযাপনঈদে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মিষ্টি খাবার খাওয়ার নিয়ম জানালেন পুষ্টিবিদ

ঈদে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মিষ্টি খাবার খাওয়ার নিয়ম জানালেন পুষ্টিবিদ

প্রকাশ: মার্চ ২০, ২০২৬ ৯:১০

ঈদ মানেই আনন্দ-উৎসব, মিলনমেলা এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। এই আনন্দের মধ্যে বাড়তি মাত্রা যোগ করে রকমারি খাবার। এর মধ্যে অন্যতম এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে মিষ্টি।

ঈদের বাহারি পদ থেকে মিষ্টিজাতীয় খাবারের মধ্যে থাকে―রসগোল্লা, সন্দেশ, জর্দা, মিষ্টি দই, পায়েস, জিলাপি, বেজে ও মিষ্টি পিঠা।

তালিকায় কত কত নামই না থাকে! ছোটবেলায় দেখা যেত মা-খালারা এবং দাদি-নানিরা বেশ যত্ন করে এই মিষ্টি খাবারগুলো তৈরি করেন। আর পরিবারের সবাই আনন্দ সহকারে তা উপভোগ করতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উৎসবে মিষ্টি আমাদের একটি অলিখিত রীতিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু কঠিন বাস্তবতা হলো, এই মিষ্টিগুলোতে এখন অতিরিক্ত চিনি এবং তেল থাকে, যা বেশি খাওয়া হলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে চ্যানেল 24 অনলাইনকে জানালেন পুষ্টিবিদ ফৌজিয়া আহমেদ অনু। তিনি বলেন, ওজন বাড়া থেকে শুরু করে রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি, হজমের সমস্যা, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের ঝুঁকি হতে পারে।

➨ তবে কি ঈদের দিন মিষ্টি খাওয়া যাবে না:

ঈদে মিষ্টি খাওয়া মানেই যে স্বাস্থ্যের রাতারাতি চরম ক্ষতি হবে, তা নয়। যদি আমরা একটু সচেতন থাকি, সঠিক পদ্ধতি বেছে নেয়া হয়, তাহলে আনন্দও হবে এবং স্বাস্থ্যও বজায় থাকবে। তাহলে দেখে নেয়া যাক, কীভাবে মিষ্টিগুলো কিছুটা স্বাস্থ্যকর করা যায়-

মিষ্টি স্বাস্থ্যসম্মত করার কিছু উপায়:

➨ পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা:
মিষ্টি খাওয়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অতিরিক্ত খাওয়া। আমরা প্রায়ই আনন্দের সময় ‘এই একটাই’ বলে শুরু করে একসঙ্গে অনেকগুলো খেয়ে ফেলি। ফলে পরবর্তীতে সমস্যা দেখা দেয়। তবে ছোট ছোট অংশে খাওয়া হলে শরীর সহজে হজম করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, রসগোল্লা একবারে তিন-চারটা না খেয়ে একটি ছোট অংশ নিন।

➨ চিনি কমানোর চেষ্টা:
মিষ্টির রেসিপিতে চাইলেই চিনির পরিমাণ কমানো সম্ভব। অনেক মিষ্টির স্বাদ আসলে চিনি নয়; দুধ, নারকেল বা ফলমূলের স্বাদ থেকে আসে। আপনি যদি চিনি ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমান, এরপরও স্বাদ ঠিক থাকবে। এমনকি তা শরীরের জন্য অনেক কম ক্ষতিকর হবে।

➨ প্রাকৃতিক মিষ্টি ব্যবহার:
ইচ্ছা করলে চিনির পরিবর্তে খেজুর, খোসাপাকা কলা, ড্রাই ফ্রুটস বা শর্করাযুক্ত ফ্রুট পেস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো কেবল মিষ্টি স্বাদ দেয় না, বরং ফাইবার, ভিটামিন ও মিনারেলও যোগ করে।

➨ তেল কম ব্যবহার:
কিছু মিষ্টি যেমন জিলাপি এবং কিছু পিঠা ভাজার সময় প্রচুর তেল ব্যবহার করা হয়। যদি সম্ভব হয়, কম তেল ব্যবহার করুন কিংবা বেকিং বা স্টিমিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, বেকড জিলাপি বা স্টিমড পিঠা অনেক স্বাস্থ্যসম্মত।

➨ প্রোটিন ও ফাইবার যুক্ত করা:
মিষ্টির সঙ্গে কিছু প্রোটিন বা ফাইবার যুক্ত করলে হজম ধীরে হয় এবং রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কম হয়। উদাহরণস্বরূপ, মিষ্টির সঙ্গে বাদাম, চিয়া সিড, ওটস বা ড্রাই ফ্রুট ব্যবহার করা যেতে পারে।

➨ মিষ্টির সময় নির্বাচন:
মিষ্টি খাওয়া হলে দিনের মাঝ সময় বা খাবারের সঙ্গে খাওয়া ভালো। খাবারের সঙ্গে মিষ্টি খেলে রক্তে শর্করা ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং হজমও সহজ হয়। একাই খাওয়া হলে শরীর তা দ্রুত শোষণ করে, যা রক্তে চিনির হঠাৎ বৃদ্ধি ঘটায়।

➨ হাইড্রেশন বজায় রাখা:
মিষ্টি খাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি বা হালকা লেবু পানি পান করা প্রয়োজন। এটি হজমকে সহজ করে এবং শরীরের অতিরিক্ত চিনি শোষণ কমায়

সবশেষ পুষ্টিবিদ ফৌজিয়া আহমেদ অনু বলেন, ঈদ মানেই আনন্দ। তবে একটু সচেতনতা থাকলে আনন্দের সঙ্গে স্বাস্থ্যও রক্ষা করা সম্ভব। মিষ্টি খাওয়া মানেই সুখের মুহূর্ত, কিন্তু এই মুহূর্তগুলো যদি স্বাস্থ্যবান্ধব করা যায়, তাহলে ঈদের খুশি আরও মধুর হয়ে উঠে।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর