গ্রীষ্মকালে তীব্র গরমে কতবার গোসল করা উচিত, তা নিয়ে অনেকেরই দ্বিধা থাকে। কেউ কেউ দিনে একাধিকবার গোসল করেন, আবার কেউ একবারই যথেষ্ট মনে করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক নিয়ম নির্ভর করে ব্যক্তির জীবনযাপন ও শরীরের ঘামের মাত্রার ওপর।
গরমে গোসল কেন জরুরি
গরমে শরীর থেকে বেশি ঘাম বের হয়, যা ত্বকে জমে গিয়ে ব্যাকটেরিয়া ও দুর্গন্ধের সৃষ্টি করতে পারে। নিয়মিত গোসল করলে শরীর পরিষ্কার থাকে এবং ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ ও র্যাশের ঝুঁকি কমে যায়। পাশাপাশি এটি শরীরকে সতেজ রাখতেও সাহায্য করে।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দীপালি ভরদ্বাজ বলেন, গরম আবহাওয়ায় গোসলের সংখ্যা নির্ভর করে ব্যক্তির জীবনযাপন, ঘাম হওয়ার পরিমাণ এবং দৈনন্দিন কাজের ওপর। সাধারণভাবে দিনে এক থেকে দুইবার গোসল করা সবচেয়ে উপযুক্ত ধরা হয়। যারা সারাদিন ঘরের ভেতরে থাকেন এবং কম ঘামেন, তাদের জন্য দিনে একবার গোসল যথেষ্ট। এতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয় না এবং ত্বক শুষ্কও হয়ে যায় না।
অন্যদিকে যারা বাইরে কাজ করেন, প্রচুর ঘামেন বা ব্যায়াম করেন, তাদের ক্ষেত্রে দিনে দুইবার গোসল করা উপকারী হতে পারে। এতে শরীরের ঘাম ও দুর্গন্ধ দ্রুত পরিষ্কার হয় এবং আরাম পাওয়া যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, অতিরিক্ত গোসল করলে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে, ফলে ত্বক শুষ্ক, খসখসে এবং সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।
দিনে দুইবার গোসল করা কি ঠিক
অনেকেই গরমে অসহ্য হয়ে দুইবার গোসল করেন। আবার অনেকে ভাবেন এতে সমস্যা হতে পারে। এ নিয়ে ডা. দীপালি বলেন, গরমে দিনে দুইবার গোসল করা যায়, তবে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পানির তাপমাত্রা। খুব গরম পানি ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই গরমকালে ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করাই ভালো। এতে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং ত্বকের ক্ষতি কম হয়। বিশেষ করে অতিরিক্ত ঘামের পর ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে শরীর দ্রুত স্বস্তি পায়।
এ ছাড়া সাবান বা বডি ওয়াশ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা উচিত। খুব শক্তিশালী বা কেমিক্যাল-ভিত্তিক সাবান ত্বকের প্রাকৃতিক ব্যালান্স নষ্ট করতে পারে। তাই মৃদু ও ত্বক-বান্ধব ক্লিনজার ব্যবহার করা ভালো। একই সঙ্গে প্রতিবার গোসলে খুব বেশি ঘষাঘষি না করে নরমভাবে পরিষ্কার করা উচিত।
অতিরিক্ত গোসলের ক্ষতি
অতিরিক্ত গোসল নিয়েও সতর্ক করেছেন ডা. দীপালি ভরদ্বাজ। তিনি জানান, গরমে বহুবার গোসল করলে অনেক সময় ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমে যায়, যা ত্বককে শুষ্ক ও অস্বস্তিকর করে তোলে। এতে চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা ছোট ছোট র্যাশও দেখা দিতে পারে। তাই শরীর পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষাও বজায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে যাদের ত্বক আগে থেকেই সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গোসল আরও বেশি সমস্যা তৈরি করতে পারে।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, গরমে দিনে এক থেকে দুইবার গোসল সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর। জীবনযাপন, ঘাম এবং শারীরিক কাজের ওপর ভিত্তি করে এই সংখ্যা নির্ধারণ করা উচিত। সঠিকভাবে গোসল করলে শুধু শরীর পরিষ্কার থাকে না, বরং গরমের অস্বস্তিও অনেকটা কমে যায়।
সূত্র: এনডিটিভি


