সকালের নাশতায় কখনো অ্যাভোকাডো টোস্ট, কখনো ফলের বাটি, আবার কখনো এক কাপ চা আর বিস্কুট স্বাস্থ্যকর নাশতার তালিকায় কত কিছুই তো থাকে। কিন্তু আপনার রান্নাঘরেই থাকা একটি সাধারণ খাবার হয়তো সকালের পাতে সবচেয়ে বেশি উপকার যোগ করতে পারে। আর সেটি হচ্ছে ডিম।
টানা দুই সপ্তাহ প্রতিদিন সকালে দুটি করে ডিম খেলে শরীরে কী পরিবর্তন আসতে পারে? ডিম কি সত্যিই স্মৃতিশক্তি, চুল, চোখ ও হরমোনের ভারসাম্য ভালো রাখতে সাহায্য করে? ভোগের এক প্রতিবেদনে প্রাকৃতিক চিকিৎসক জুলিয়েট আন্দ্রেউ ডিমকে বলেছেন পুষ্টির ভান্ডার ডিম। তার মতে, সঠিকভাবে খাদ্যতালিকায় রাখা গেলে ডিম হতে পারে দিনের অন্যতম পুষ্টিকর খাবার।
প্রতিদিন দুটি ডিম খেলে যেসব উপকার মিলতে পারেঃ——-
- ১. বাড়তে পারে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি
ডিমে রয়েছে কোলিন, যা মস্তিষ্কের কার্যক্রম ও স্মৃতিশক্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত পর্যাপ্ত কোলিন গ্রহণ মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় সহায়ক হতে পারে।
- ২. দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে পারে
ডিম উচ্চমানের প্রোটিনের ভালো উৎস। সকালের নাশতায় ডিম খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতি পাওয়া যায়। ফলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগা কিংবা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। বিশেষ করে মিষ্টি নাশতার পরিবর্তে ডিম খেলে এই পার্থক্য বেশি অনুভূত হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ জুলিয়েট আন্দ্রেউ।
- ৩. হরমোন তৈরিতে সহায়ক
ডিমে থাকা কোলেস্টেরল শরীরে ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন ও টেস্টোস্টেরনের মতো হরমোন তৈরির প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ডিম খেলেই হরমোনের ভারসাম্য ঠিক হয়ে যাবে।
- ৪. চোখের সুরক্ষায় ভূমিকা
ডিমে রয়েছে লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন নামের দুটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং ক্ষতিকর আলোকরশ্মি থেকে চোখকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
- ৫. চুল ও নখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে
ডিমে থাকা বায়োটিন, প্রোটিন ও সালফারযুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড চুল, ত্বক ও নখের স্বাভাবিক গঠনে সহায়তা করে। চুলের অন্যতম গঠন উপাদান কেরাটিন তৈরিতেও এসব পুষ্টি প্রয়োজন।
- ডিম খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় কোনটি?
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, ডিম সেদ্ধ বা পোচ করে খাওয়া ভালো। তবে ডিমের কুসুম কাঁচা বা আধসেদ্ধ রাখার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে ডিম ভালোভাবে সিদ্ধ বা রান্না করে খাওয়া জরুরি। ডিমের সঙ্গে শাকসবজি, পূর্ণ শস্যের রুটি কিংবা স্বাস্থ্যকর চর্বির উৎস রাখলে নাশতা আরও পুষ্টিকর হয়।
- প্রতিদিন কয়টি ডিম খাবেন?
জুলিয়েট আন্দ্রেউয়ের মতে, ব্যক্তির শারীরিক পরিশ্রম, খাদ্যাভ্যাস ও প্রোটিনের অন্যান্য উৎস বিবেচনায় দিনে দুটি, কখনো তিনটি ডিমও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে উচ্চ কোলেস্টেরল বা হৃদরোগের ঝুঁকি থাকলে ব্যক্তিগত খাদ্যতালিকা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শে ঠিক করা উচিত। ডিম খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন বুঝতে ১৪ থেকে ২১ দিন পর্যবেক্ষণের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।


