শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আপাতত ফ্লাই করার মতো নেই। তবে বিদেশে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া আছে। তিনি ফ্লাইয়ের জন্য প্রস্তুত হলে চিন্তা করা হবে বিদেশে নেওয়া হবে কি না।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ‘সংকটাপন্ন’ অবস্থাতেই রয়েছেন। দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা, বিদেশের আমেরিকার জন হপকিংস এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন ক্লিনিকের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা করছেন।
এ সময় হাসপাতালের সামনে ভিড় না করতে দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি অনুরোধ জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, হাসপাতালের সামনে ভিড়ে চিকিৎসকরা বিব্রত। খালেদা জিয়াসহ হাসপাতালটির অন্য রোগীদের সেবা নিশ্চিতে কেউ হাসপাতালে ভিড় করবেন না।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, কারাভোগ করেছেন। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পরদিন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন।
এরপর একাধিকবার শারীরিক নানা জটিলতায় তাকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। সবশেষে গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকেরা জানান, খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণের পাশাপাশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।


