শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) কাদুনার উঙ্গওয়ান ইয়েলওয়ায় অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচ চলাকালে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বিবিসি
ম্যাচের প্রথমার্ধে স্বাভাবিকভাবেই খেলেছিলেন ৪০ বছর বয়সী এনারামো। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিট পর হঠাৎ করেই মাঠে লুটিয়ে পড়েন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকরা মাঠে প্রবেশ করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং দ্রুত তাকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদরোগজনিত সমস্যার কারণে-বিশেষ করে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তার মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানায়, এটি দেশের ফুটবলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সানুসি বলেন, এটা ভীষণই মর্মান্তিক। এই মুহূর্তে ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। তিনি আরও জানান, এনারামোর পরিবার এবং পুরো ফুটবল সম্প্রদায়ের জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন সময়।
জাতীয় দলের হয়ে ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে ১০টি ম্যাচ খেলেছিলেন এনারামো। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জামাইকার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে। এরপর একই বছরের মে মাসে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে করেন নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। ২০১০ ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচে তার করা গোল নাইজেরিয়াকে ২-২ সমতায় ফিরিয়ে আনে, যা শেষ পর্যন্ত দলটির বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়ার পথে বড় ভূমিকা রাখে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে জায়গা হয়নি তার।
ক্লাব ফুটবলে এনারামোর ক্যারিয়ার ছিল বেশ সমৃদ্ধ। তিউনিসিয়ার এসপেরান্স স্পোর্টিভ ডি টিউনিস এ খেলার সময় তিনি ভক্তদের কাছে ‘দ্য ট্যাঙ্ক’ নামে পরিচিতি পান, তার শক্তিশালী শারীরিক উপস্থিতি ও আক্রমণাত্মক খেলার জন্য। এই ক্লাবের হয়ে একাধিক শিরোপা জিততে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। পরবর্তীতে তুরস্কের বেসিকতাস, সিভাস্পোর এবং ইস্তানবুল বাশআকশেহির মতো ক্লাবেও খেলেছেন। এছাড়া তার ক্যারিয়ারে আলজেরিয়া ও সৌদি আরবের ক্লাব ফুটবলেও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল।
তিউনিসিয়ার জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও তা প্রত্যাখ্যান করে নিজের জন্মভূমি নাইজেরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন এনারামো। এই সিদ্ধান্ত তার দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
এনারামোর আকস্মিক মৃত্যু আবারও ফুটবলে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। অতীতেও মাঠে হৃদরোগজনিত সমস্যায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ক্যামেরুনের মার্ক ভিভিয়েন ফোয়ে, আইভরি কোস্টের চেক টিওট এবং ঘানার রাফায়েল ডোয়ামেনার মতো ফুটবলাররাও একই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রাণ হারিয়েছেন।
২০০৯ সালে ফিফা সমর্থিত একটি চিকিৎসক দল গবেষণায় দেখেন যে, আফ্রিকান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের মধ্যে খেলা চলাকালে হৃদরোগজনিত ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে আইভরি কোস্ট ও চেলসির সাবেক তারকা দিদিয়ের দ্রগবা তার দেশের সকল পেশাদার ফুটবলারের জন্য বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
মাইকেল এনারামোর মৃত্যু শুধু নাইজেরিয়ার ফুটবল নয়, গোটা আফ্রিকান ফুটবল অঙ্গনের জন্যই এক বড় ক্ষতি। মাঠে তার শক্তি, পরিশ্রম ও গোল করার ক্ষমতা যেমন ভক্তদের মুগ্ধ করেছে, তেমনি তার হঠাৎ বিদায় গভীর বেদনা হয়ে রয়ে গেল সহখেলোয়াড়, সমর্থক এবং ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে।


